জুতা আবিষ্কারের গল্প বনাম অনলাইন ক্লাস
jugantor
জুতা আবিষ্কারের গল্প বনাম অনলাইন ক্লাস

  মো. শাহীন বাদশাহ  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ক্লাস

গত ৪ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির নবাগত ছাত্রছাত্রীদের অনলাইন ক্লাস উদ্বোধন করলেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এপ্রিল-জুন থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে।

শিশুশ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনলাইন পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি মিটিং, ট্রেনিং, ইন্টারভিউ-সবই চলছে। ডিজিটাল যুগের এ সুবিধা সবাই গ্রহণ করবে, এটাই যুক্তিযুক্ত। সরকারের শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ অনলাইন-দূরশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।

তবে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে একটু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে-এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের প্রথমে। সে হিসাবে তিন মাস পর অনলাইন ক্লাস শুরু করা হল। অর্থাৎ, তিন মাস সময় পাওয়া গেছে, এ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও উন্নয়ন করার। ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে, সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে গিয়ে কতটুকু সফল হয়েছে বা শিক্ষার্থীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন ছিল। মূলত একেক প্রতিষ্ঠান একেক আঙ্গিকে-কেউ ফেসবুকে, কেউ ইউটিউবে, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান রুটিন প্রকাশ করে বা না-করে বিশৃঙ্খলভাবে ক্লাস পরিচালনা করছে। অবাক করার বিষয় হল, শিক্ষা অধিদফতর থেকে পাক্ষিক রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে-প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক কয়টি ক্লাস নেয়া হচ্ছে এবং শতকরা কতজন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তার ইচ্ছা মেনে মনগড়া রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া আর উপায় কী? যে পদ্ধতিতে ক্লাস নেয়া হচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ গণনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ বিষয়ে নেই কোনো গাইডলাইন, নেই কোনো সূচি, নেই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ উৎকর্ষের দেশে কত সুন্দরভাবেই না এগিয়ে যাওয়া যেত।

বেসরকারি বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমতো অনলাইন শিক্ষাবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কত উচ্চমানের সফটওয়্যার তারা ব্যবহার করছে-এ বিষয়ে তারা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা মাসিক দু-তিন হাজার টাকা ফি দিয়ে ১-৩ ঘণ্টার অনলাইন ক্লাস করছে। একজন শিক্ষক রুটিন মাফিক ক্লাস নিচ্ছেন, সারা দেশের রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে। পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতিতে। এমসিকিউ মূল্যায়ন হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতিতে। শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে জেনে যাচ্ছে তার প্রাপ্ত নম্বর।

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিসহ প্রায় সব শ্রেণিতে সারা দেশে একই সিলেবাসে শিক্ষা প্রদান করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্নভাবে ফেসবুক-ইউটিউবে ক্লাস চালু করে যে ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা ইতোমধ্যে আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। অথচ এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও আইসিটি বিভাগ একটু সুদৃষ্টি দিলে দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা যায়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকে নামিদামি কলেজের শিক্ষকের ক্লাস করার।

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি ক্লাস ৩-৫ জন শিক্ষককে দিয়ে রেকর্ড করে তা ইউটিউবে, ফেসবুক গ্রুপে এবং টেলিভিশনে প্রচার করা হলে শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষকের ক্লাস করতে পারবে। বিষয়ভিত্তিক এবং অধ্যায়ভিত্তিক ক্লাস সাজানো থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ক্লাস যে কোনো সময় করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা গেলে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে, তার পরিসংখ্যান বের করাও সহজ হবে।

ব্যয়ের কথা বিবেচনা করলে বলা যেতে পারে, ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হবে। ‘টেন মিনিটস অনলাইন ফ্রি স্কুল’ ইউটিউব চ্যানেলের আয় হতেই চলছে। এ রকম শত শত অনলাইন চ্যানেল ইউটিউবের আয় হতেই চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে পাড়ার মুদি দোকানের ছেলেটিও জানে, কীভাবে একটি ক্লাস বা তথ্য সারা দেশে প্রচার করা যায়।

অথচ আমরা রয়ে গেলাম সেই ‘যেমন ইচ্ছা তেমন সাজনের’ অনলাইন ক্লাসে-যে ক্লাসের মাধ্যমে না-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে; না-সিলেবাস শেষ হচ্ছে। এ বিষয়ে এক বড় ভাই শিক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করলেন: ‘এটি জুতা আবিষ্কারের গল্পের মতো’। উত্তরে বলেছিলাম, ‘এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ বুঝি আর নাই।’ আমরা অনলাইন ক্লাসের নামে সারা দেশে অনলাইনের পসরা সাজাচ্ছি।

শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়েও অনলাইন ক্লাস অব্যাহত থাকবে।’ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বক্তব্য। তবে এ বিষয়ে আরও যত্নবান হওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর নেই।

মেধাবী জাতি পেতে হলে আমাদের আরও অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ফি নিয়ে অনলাইন ক্লাসে আকৃষ্ট করতে পারে, তবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কেন পুরনো পদ্ধতিতে পড়ে রবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে, এ বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বেসরকারি কলেজশিক্ষক

[email protected]

জুতা আবিষ্কারের গল্প বনাম অনলাইন ক্লাস

 মো. শাহীন বাদশাহ 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ক্লাস
প্রতীকী ছবি

গত ৪ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির নবাগত ছাত্রছাত্রীদের অনলাইন ক্লাস উদ্বোধন করলেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এপ্রিল-জুন থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে।

শিশুশ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনলাইন পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি মিটিং, ট্রেনিং, ইন্টারভিউ-সবই চলছে। ডিজিটাল যুগের এ সুবিধা সবাই গ্রহণ করবে, এটাই যুক্তিযুক্ত। সরকারের শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ অনলাইন-দূরশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।

তবে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে একটু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে-এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের প্রথমে। সে হিসাবে তিন মাস পর অনলাইন ক্লাস শুরু করা হল। অর্থাৎ, তিন মাস সময় পাওয়া গেছে, এ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও উন্নয়ন করার। ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে, সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে অনেক বেশি ফলপ্রসূ হতো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে গিয়ে কতটুকু সফল হয়েছে বা শিক্ষার্থীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন ছিল। মূলত একেক প্রতিষ্ঠান একেক আঙ্গিকে-কেউ ফেসবুকে, কেউ ইউটিউবে, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান রুটিন প্রকাশ করে বা না-করে বিশৃঙ্খলভাবে ক্লাস পরিচালনা করছে। অবাক করার বিষয় হল, শিক্ষা অধিদফতর থেকে পাক্ষিক রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে-প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক কয়টি ক্লাস নেয়া হচ্ছে এবং শতকরা কতজন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তার ইচ্ছা মেনে মনগড়া রিপোর্ট পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া আর উপায় কী? যে পদ্ধতিতে ক্লাস নেয়া হচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ গণনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ বিষয়ে নেই কোনো গাইডলাইন, নেই কোনো সূচি, নেই কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ উৎকর্ষের দেশে কত সুন্দরভাবেই না এগিয়ে যাওয়া যেত।

বেসরকারি বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমতো অনলাইন শিক্ষাবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কত উচ্চমানের সফটওয়্যার তারা ব্যবহার করছে-এ বিষয়ে তারা শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা মাসিক দু-তিন হাজার টাকা ফি দিয়ে ১-৩ ঘণ্টার অনলাইন ক্লাস করছে। একজন শিক্ষক রুটিন মাফিক ক্লাস নিচ্ছেন, সারা দেশের রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে। পরীক্ষাও নেয়া হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতিতে। এমসিকিউ মূল্যায়ন হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতিতে। শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে জেনে যাচ্ছে তার প্রাপ্ত নম্বর।

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিসহ প্রায় সব শ্রেণিতে সারা দেশে একই সিলেবাসে শিক্ষা প্রদান করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্নভাবে ফেসবুক-ইউটিউবে ক্লাস চালু করে যে ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা ইতোমধ্যে আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। অথচ এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও আইসিটি বিভাগ একটু সুদৃষ্টি দিলে দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা যায়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকে নামিদামি কলেজের শিক্ষকের ক্লাস করার।

কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি ক্লাস ৩-৫ জন শিক্ষককে দিয়ে রেকর্ড করে তা ইউটিউবে, ফেসবুক গ্রুপে এবং টেলিভিশনে প্রচার করা হলে শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষকের ক্লাস করতে পারবে। বিষয়ভিত্তিক এবং অধ্যায়ভিত্তিক ক্লাস সাজানো থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ক্লাস যে কোনো সময় করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা গেলে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে, তার পরিসংখ্যান বের করাও সহজ হবে।

ব্যয়ের কথা বিবেচনা করলে বলা যেতে পারে, ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হবে। ‘টেন মিনিটস অনলাইন ফ্রি স্কুল’ ইউটিউব চ্যানেলের আয় হতেই চলছে। এ রকম শত শত অনলাইন চ্যানেল ইউটিউবের আয় হতেই চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে পাড়ার মুদি দোকানের ছেলেটিও জানে, কীভাবে একটি ক্লাস বা তথ্য সারা দেশে প্রচার করা যায়।

অথচ আমরা রয়ে গেলাম সেই ‘যেমন ইচ্ছা তেমন সাজনের’ অনলাইন ক্লাসে-যে ক্লাসের মাধ্যমে না-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে; না-সিলেবাস শেষ হচ্ছে। এ বিষয়ে এক বড় ভাই শিক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করলেন: ‘এটি জুতা আবিষ্কারের গল্পের মতো’। উত্তরে বলেছিলাম, ‘এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ বুঝি আর নাই।’ আমরা অনলাইন ক্লাসের নামে সারা দেশে অনলাইনের পসরা সাজাচ্ছি।

শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়েও অনলাইন ক্লাস অব্যাহত থাকবে।’ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বক্তব্য। তবে এ বিষয়ে আরও যত্নবান হওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর নেই।

মেধাবী জাতি পেতে হলে আমাদের আরও অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের কাছে ফি নিয়ে অনলাইন ক্লাসে আকৃষ্ট করতে পারে, তবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কেন পুরনো পদ্ধতিতে পড়ে রবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে, এ বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বেসরকারি কলেজশিক্ষক

[email protected]