শাস্তির অপর্যাপ্ততায় বাড়ে ধর্ষকের সাহস
jugantor
শাস্তির অপর্যাপ্ততায় বাড়ে ধর্ষকের সাহস

  সানজানা হোসেন  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী কোভিড-১৯ নয়; বরং বর্তমানে দেশের প্রত্যেক নারীকে আতঙ্কিত করছে ধর্ষণ শব্দটি। খবরের কাগজের পাতায় চোখ রাখলেই দেখছি ধর্ষণের ঘটনা। নারীর নিরাপত্তা আজ কোথায়?

কার কাছে সে নিরাপদ-এ প্রশ্ন করা যেতে পারে সচেতন মহলের কাছে, আইন প্রণয়নকারীদের কাছে, সরকারের কাছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, ২০১৮-তে এ সংখ্যা ছিল ৭৩২ অর্থাৎ এক বছরে দ্বিগুণের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

২০২০ সালের কথা আমরা ছেড়েই দিই; শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব করলেই দেখতে পাব কত শত ধর্ষণের কাহিনী। যদিও ধর্ষণের অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে যায়, ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না; সামাজিক অসম্মানের কারণে বহু পরিবার ঘটনা জেনে-শুনেও মুখ খুলতে নারাজ। এ দেশে আজও বিভিন্ন গ্রামে ধর্ষকের শাস্তি হিসেবে স্থানীয় নেতারা টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন। যে দেশে একটা মেয়ের সম্মান টাকার বিনিময়ে স্থির হয়, সে দেশ তো ধর্ষকদের জন্যই।

এমনও অনেক ধর্ষণের মীমাংসা হয়েছে, যেখানে ধর্ষণের শিকার নারীকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে!

চীনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অনেক সময় অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেয়া হয়। ইরানে ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা বা গুলি করে হত্যা করা হয়। উত্তর কোরিয়ায় কালক্ষেপণ না করে ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে ধর্ষণের চার দিনের মধ্যে ধর্ষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে আমাদের দেশে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রতিবাদ করতে হয়, ধর্ষণ-ঘটনা প্রমাণের জন্য নাজেহাল অবস্থা হয় ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারের। পরে ধর্ষককে গ্রেফতার করা হলেও হয় না উপযুক্ত শাস্তি।

সমাজে ধর্ষকের সৃষ্টি হঠাৎ করে হয় না। পরিবার ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে তাদের মনে নারীর প্রতি কোনো সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকে না। ধর্ষণের পর আর প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ চাই। প্রতিরোধের একটাই পন্থা-ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

ধর্ষণের কথা বলতে গিয়ে যারা নারীর পোশাক ও তাদের কাজকর্মকে দায়ী করে, তাদের জেনে রাখা উচিত-একজন নারী যদি অসংযত পোশাক পরে বা আচরণ করে; তার জন্য সে অবশ্যই সমালোচনার যোগ্য। সুশিক্ষায় শিক্ষিত কোনো পুরুষ সেই নারীর সমালোচনা করতে পারে, মেয়েটিকে উচ্ছৃঙ্খল ভেবে তাকে এড়িয়ে যেতে পারে; কিন্তু তাকে ধর্ষণ করার মানসিকতা পোষণ করতে পারে না।

ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী না করে ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। আশার কথা, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বর্তমানে সংসদ অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় ধর্ষণের সংখ্যা অবশ্যই কমবে। এ মানুষরূপী জানোয়ারগুলো ভালো কথায় সংশোধনের যোগ্য নয়। এদের একটাই প্রাপ্য আর তা হল-মৃত্যুদণ্ড।

তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শাস্তির অপর্যাপ্ততায় বাড়ে ধর্ষকের সাহস

 সানজানা হোসেন 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী কোভিড-১৯ নয়; বরং বর্তমানে দেশের প্রত্যেক নারীকে আতঙ্কিত করছে ধর্ষণ শব্দটি। খবরের কাগজের পাতায় চোখ রাখলেই দেখছি ধর্ষণের ঘটনা। নারীর নিরাপত্তা আজ কোথায়?

কার কাছে সে নিরাপদ-এ প্রশ্ন করা যেতে পারে সচেতন মহলের কাছে, আইন প্রণয়নকারীদের কাছে, সরকারের কাছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, ২০১৮-তে এ সংখ্যা ছিল ৭৩২ অর্থাৎ এক বছরে দ্বিগুণের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

২০২০ সালের কথা আমরা ছেড়েই দিই; শুধু সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব করলেই দেখতে পাব কত শত ধর্ষণের কাহিনী। যদিও ধর্ষণের অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে যায়, ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয় না; সামাজিক অসম্মানের কারণে বহু পরিবার ঘটনা জেনে-শুনেও মুখ খুলতে নারাজ। এ দেশে আজও বিভিন্ন গ্রামে ধর্ষকের শাস্তি হিসেবে স্থানীয় নেতারা টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন। যে দেশে একটা মেয়ের সম্মান টাকার বিনিময়ে স্থির হয়, সে দেশ তো ধর্ষকদের জন্যই।

এমনও অনেক ধর্ষণের মীমাংসা হয়েছে, যেখানে ধর্ষণের শিকার নারীকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কী হতে পারে!

চীনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অনেক সময় অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেয়া হয়। ইরানে ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা বা গুলি করে হত্যা করা হয়। উত্তর কোরিয়ায় কালক্ষেপণ না করে ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে ধর্ষণের চার দিনের মধ্যে ধর্ষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে আমাদের দেশে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রতিবাদ করতে হয়, ধর্ষণ-ঘটনা প্রমাণের জন্য নাজেহাল অবস্থা হয় ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারের। পরে ধর্ষককে গ্রেফতার করা হলেও হয় না উপযুক্ত শাস্তি।

সমাজে ধর্ষকের সৃষ্টি হঠাৎ করে হয় না। পরিবার ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে তাদের মনে নারীর প্রতি কোনো সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকে না। ধর্ষণের পর আর প্রতিবাদ নয়; এবার প্রতিরোধ চাই। প্রতিরোধের একটাই পন্থা-ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

ধর্ষণের কথা বলতে গিয়ে যারা নারীর পোশাক ও তাদের কাজকর্মকে দায়ী করে, তাদের জেনে রাখা উচিত-একজন নারী যদি অসংযত পোশাক পরে বা আচরণ করে; তার জন্য সে অবশ্যই সমালোচনার যোগ্য। সুশিক্ষায় শিক্ষিত কোনো পুরুষ সেই নারীর সমালোচনা করতে পারে, মেয়েটিকে উচ্ছৃঙ্খল ভেবে তাকে এড়িয়ে যেতে পারে; কিন্তু তাকে ধর্ষণ করার মানসিকতা পোষণ করতে পারে না।

ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী না করে ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। আশার কথা, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বর্তমানে সংসদ অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় ধর্ষণের সংখ্যা অবশ্যই কমবে। এ মানুষরূপী জানোয়ারগুলো ভালো কথায় সংশোধনের যোগ্য নয়। এদের একটাই প্রাপ্য আর তা হল-মৃত্যুদণ্ড।

তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়