ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন
jugantor
ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন

  কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম  

২১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। পত্রিকার পাতা খুললেই এ সম্পর্কিত খবর চোখে পড়ে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

অজানা আশঙ্কায় সময় পার করছেন সচেতন সবাই। সিলেট ও নোয়াখালীর ধর্ষণ ঘটনা, থানায় যুবকের মৃত্যু, সাতক্ষীরায় পরিবারের সবাইকে হত্যাসহ নানা অপরাধ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি লোপ পেয়ে হিংস্রতা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অপরাধীরা সর্বত্র বেপরোয়া। হেন অপরাধ নেই, যা তারা করছে না। কখন কে এসব ঘটনার মুখোমুখি হয়, বলা মুশকিল। অভিভাবকসহ সমাজ ও দেশের সাধারণ মানুষকে তটস্থ থাকতে হচ্ছে সর্বক্ষণ। এ নিয়ে নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। ধরা পড়লেও সাজা কখন হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা শঙ্কা। তাছাড়া, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের আশকারা পেয়ে অপরাধীরা দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

মানুষের মধ্যে এ ধরনের হিংস্র মনোভাব কীভাবে জাগ্রত হয় যে, নিজের আপনজনকেও তারা হত্যা করতে পারে! ধর্ষণ করতে পারে! এসব ঘটনায় গোটা জাতি শঙ্কিত। সভ্য যুগে এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেসব কারণে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীরা যাতে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ না পায়, তার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিবার থেকেই মূল্যবোধ তৈরির শিক্ষা শুরু করতে হবে। অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নৈতিক চরিত্রগঠন, মূল্যবোধের প্রচার, ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ এবং সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ধর্ষক ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যমান আইন সংস্কার করে ইতোমধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এ আইনের বাস্তবায়ন দ্রুত করে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে ধর্ষক, খুনি, সন্ত্রাসীরা অপরাধ করার সাহস পাবে না। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল এবং প্রভাবশালীদের অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। এভাবে অপরাধীদের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারলে সমাজে শান্তি ফিরে আসবে। আমরা একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। এ জন্য অন্যসব অপরাধের পাশাপাশি খুন-ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে হবে।

শিক্ষক

ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন

 কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম 
২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। পত্রিকার পাতা খুললেই এ সম্পর্কিত খবর চোখে পড়ে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

অজানা আশঙ্কায় সময় পার করছেন সচেতন সবাই। সিলেট ও নোয়াখালীর ধর্ষণ ঘটনা, থানায় যুবকের মৃত্যু, সাতক্ষীরায় পরিবারের সবাইকে হত্যাসহ নানা অপরাধ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি লোপ পেয়ে হিংস্রতা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অপরাধীরা সর্বত্র বেপরোয়া। হেন অপরাধ নেই, যা তারা করছে না। কখন কে এসব ঘটনার মুখোমুখি হয়, বলা মুশকিল। অভিভাবকসহ সমাজ ও দেশের সাধারণ মানুষকে তটস্থ থাকতে হচ্ছে সর্বক্ষণ। এ নিয়ে নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। ধরা পড়লেও সাজা কখন হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা শঙ্কা। তাছাড়া, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের আশকারা পেয়ে অপরাধীরা দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

মানুষের মধ্যে এ ধরনের হিংস্র মনোভাব কীভাবে জাগ্রত হয় যে, নিজের আপনজনকেও তারা হত্যা করতে পারে! ধর্ষণ করতে পারে! এসব ঘটনায় গোটা জাতি শঙ্কিত। সভ্য যুগে এমন নৃশংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেসব কারণে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীরা যাতে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ না পায়, তার পাশাপাশি মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিবার থেকেই মূল্যবোধ তৈরির শিক্ষা শুরু করতে হবে। অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নৈতিক চরিত্রগঠন, মূল্যবোধের প্রচার, ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ এবং সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ধর্ষক ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যমান আইন সংস্কার করে ইতোমধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এ আইনের বাস্তবায়ন দ্রুত করে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে ধর্ষক, খুনি, সন্ত্রাসীরা অপরাধ করার সাহস পাবে না। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল এবং প্রভাবশালীদের অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে। এভাবে অপরাধীদের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারলে সমাজে শান্তি ফিরে আসবে। আমরা একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। এ জন্য অন্যসব অপরাধের পাশাপাশি খুন-ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে হবে।

শিক্ষক