অনলাইন ক্লাসের সুফল পেতে দক্ষ করে তুলতে হবে শিক্ষকদের
jugantor
অনলাইন ক্লাসের সুফল পেতে দক্ষ করে তুলতে হবে শিক্ষকদের

  জহুরুল ইসলাম ঠান্ডু  

২১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর অভিঘাতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে শক্ষার্থীরা।

শুধু অমনোযোগী নয়, ঝরেও পড়ছে সীমিত আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে মধ্যবিত্তসহ কলকারখানার শ্রমিক, দিনমজুর, কুলি-কামার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ অন্যান্য নিুআয়ের কর্মজীবী মানুষ দীর্ঘ ৫-৬ মাস কর্মহীন থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

করোনা ও উপর্যুপরি বন্যায় মধ্যবিত্তসহ নিু আয়ের মানুষ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় সন্তানদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন কিনে দেয়া তো দূরের কথা, দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোগাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাসের জন্য সন্তানের হাতে ন্যূনতম একটি স্মার্টফোন তুলে দেয়ার সামর্থ্য নেই মধ্যবিত্ত থেকে নিুআয়ের অনেক অভিভাবকের। ফলে এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আশঙ্কার বিষয় হল, বর্তমানে অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে ছোটখাটো কোনো কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহও বেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।

সরকার অবশ্য এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অর্থনীতিসহ অন্যান্য খাত সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা সচল করতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সারা দেশে ৪ অক্টোবর থেকে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে অনলাইন ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে শিক্ষকদের মন্তব্য হল: অনলাইন ক্লাসে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। একদিকে ইন্টারনেটের গতি কম। অপরদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম খারাপ। বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেটের কোনো বালাই থাকে না। এ অবস্থায় চালু হওয়া অনলাইন ক্লাসের সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে মাত্র ১০-১৫ ভাগ বিত্তবান পরিবারের শিক্ষার্থী। বাকি শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ কথা সত্য, মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতার অভাব রয়েছে অনেক শিক্ষকের। ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতার অভাব থাকায় বাইরের দক্ষ ব্যক্তিদের সাহায্য নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর

অনলাইন ক্লাসের সুফল পেতে দক্ষ করে তুলতে হবে শিক্ষকদের

 জহুরুল ইসলাম ঠান্ডু 
২১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর অভিঘাতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে ফেলেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে শক্ষার্থীরা।

শুধু অমনোযোগী নয়, ঝরেও পড়ছে সীমিত আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে মধ্যবিত্তসহ কলকারখানার শ্রমিক, দিনমজুর, কুলি-কামার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ অন্যান্য নিুআয়ের কর্মজীবী মানুষ দীর্ঘ ৫-৬ মাস কর্মহীন থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

করোনা ও উপর্যুপরি বন্যায় মধ্যবিত্তসহ নিু আয়ের মানুষ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় সন্তানদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন কিনে দেয়া তো দূরের কথা, দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোগাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাসের জন্য সন্তানের হাতে ন্যূনতম একটি স্মার্টফোন তুলে দেয়ার সামর্থ্য নেই মধ্যবিত্ত থেকে নিুআয়ের অনেক অভিভাবকের। ফলে এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আশঙ্কার বিষয় হল, বর্তমানে অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা ছেড়ে ছোটখাটো কোনো কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহও বেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।

সরকার অবশ্য এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অর্থনীতিসহ অন্যান্য খাত সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা সচল করতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে সারা দেশে ৪ অক্টোবর থেকে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে অনলাইন ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে শিক্ষকদের মন্তব্য হল: অনলাইন ক্লাসে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। একদিকে ইন্টারনেটের গতি কম। অপরদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম খারাপ। বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেটের কোনো বালাই থাকে না। এ অবস্থায় চালু হওয়া অনলাইন ক্লাসের সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে মাত্র ১০-১৫ ভাগ বিত্তবান পরিবারের শিক্ষার্থী। বাকি শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ কথা সত্য, মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতার অভাব রয়েছে অনেক শিক্ষকের। ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতার অভাব থাকায় বাইরের দক্ষ ব্যক্তিদের সাহায্য নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি, দৈনিক যুগান্তর