বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র জেলাভিত্তিক হোক
jugantor
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র জেলাভিত্তিক হোক

  মো. তোফায়েল আহমেদ  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিজেকে মেলে ধরার পাশাপাশি জাতি গঠনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র হওয়ার, বিশেষ করে বুয়েট, মেডিকেল ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তারপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময়ে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্য সব ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য সময়মতো এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এক ব্রিফিংয়ে জানান- এ বছর করোনা মহামারীর জন্য এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না; তবে মূল্যায়ন করা হবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার মোট গড় ফলাফলের ভিত্তিতে।

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ। এবার সবাই কৃতকার্য হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; রয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালের সর্বমোট আসন ৪৬ হাজার। আর প্রত্যেক মেধাবী শিক্ষার্থী চায় এখানে একটি আসন নিশ্চিত করতে। এ জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী। বর্তমানে করোনা মহামারীকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ১৭ অক্টোবর উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের’ ভার্চুয়াল এক সভায় ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়- অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীই গ্রামের দরিদ্র অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে; যাদের নেই উন্নত ডিভাইস এবং সেখানে পৌঁছেনি ভালো ইন্টারনেট সেবা। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বিভাগভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সঠিক মেধার প্রতি সুবিচার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে।

এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি গুচ্ছ করে এ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ করে একটি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হোক।

আর এবারের পরীক্ষা কেন্দ্র জেলাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। প্রতিটি কেন্দ্র ও জেলাভিত্তিক আলাদা আলাদা প্রশ্ন সেট তৈরি করে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে পরীক্ষা নেয়া হোক, যেখানে থাকবে নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা। এতে দেশের সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন করা হবে বলে মনে করি।

বিবিএ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা কলেজ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র জেলাভিত্তিক হোক

 মো. তোফায়েল আহমেদ 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিজেকে মেলে ধরার পাশাপাশি জাতি গঠনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র হওয়ার, বিশেষ করে বুয়েট, মেডিকেল ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তারপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময়ে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্য সব ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য সময়মতো এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এক ব্রিফিংয়ে জানান- এ বছর করোনা মহামারীর জন্য এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না; তবে মূল্যায়ন করা হবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার মোট গড় ফলাফলের ভিত্তিতে।

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ। এবার সবাই কৃতকার্য হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; রয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালের সর্বমোট আসন ৪৬ হাজার। আর প্রত্যেক মেধাবী শিক্ষার্থী চায় এখানে একটি আসন নিশ্চিত করতে। এ জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী। বর্তমানে করোনা মহামারীকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ১৭ অক্টোবর উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের’ ভার্চুয়াল এক সভায় ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে দেখা যায়- অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীই গ্রামের দরিদ্র অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে; যাদের নেই উন্নত ডিভাইস এবং সেখানে পৌঁছেনি ভালো ইন্টারনেট সেবা। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বিভাগভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সঠিক মেধার প্রতি সুবিচার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ করে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে।

এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি গুচ্ছ করে এ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। বর্তমানে দেশে ৪৬টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ করে একটি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হোক।

আর এবারের পরীক্ষা কেন্দ্র জেলাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। প্রতিটি কেন্দ্র ও জেলাভিত্তিক আলাদা আলাদা প্রশ্ন সেট তৈরি করে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে পরীক্ষা নেয়া হোক, যেখানে থাকবে নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা। এতে দেশের সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন করা হবে বলে মনে করি।

বিবিএ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা কলেজ