আমেরিকার এবারের নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ
jugantor
আমেরিকার এবারের নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ

  খোরশেদ খন্দকার  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমেরিকার দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হতে চলেছে। স্বাভাবিক নির্বাচনের মতো মহামারীর কারণে ভোটাররা ইচ্ছামতো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন না।

ভোট যেমনই হোক, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বুথে ভোট প্রদান করার তৃপ্তিই আলাদা। করোনা মহামারীর কারণে আমেরিকান নাগরিকদের মেইলিং ভোট দেয়ার আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার একটি চক্র মেইলিং ভোটগুলো নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হবে। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়ও নির্বাচন ঠিক সময়ে ঠিকভাবেই হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমদিকে করোনা মহামারীকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে ইতোমধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে। সব শেষে ট্রাম্প নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বলেছেন: করোনাকে ভয় করো না; তিনি করোনা থেকে অনেক কিছু শিখেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন-এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

তিনিই একমাত্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি, যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সুস্থতা দাবি করে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। আশঙ্কার বিষয় হল, ইউরোপসহ আমেরিকায় পুনরায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে; আর এ কারণেই এবারে মেইলিং ভোটই সবার জন্য নিরাপদ মনে করি।

প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে প্রার্থক্য হল, ট্রাম্প একজন পেশাদার ব্যবসায়ী; জো বাইডেন একজন সুদক্ষ রাজনীতিবিদ। একজন ব্যবসায়ী ব্যবসায়ে সফল হতে পারেন; কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনও সফল হতে পারেন না-যার প্রমাণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।

রাজনীতিবিদ হিসেবে বাইডেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হবেন-এটি আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি, আমেরিকান রাজনীতিবিদরা সহজে মিথ্যা কথা বলেন না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ ও মিথ্যা বলার কারণে আমেরিকানরা ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মানুষ ভুলে যায়নি, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের ৩ বছর শেষে ফ্যাক্ট চেকার ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল-ট্রাম্প ৩ বছরে প্রকাশ্যে যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে ১৬ হাজার ২৪১টি মিথ্যাচার, অবাস্তব ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর ছিল।

ট্রাম্প প্রথম তিন বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলেছেন। ২০১৯ সালে নাকি তার মিথ্যা বলার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৫৫টি। এর আগের ২ বছরে মোট মিথ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮৮টি-প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে।

এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আমেরিকান জনগণ বিশ্বাস করে না, আস্থা রাখে না পুনর্নির্বাচিত করতে। তাছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে ট্যাক্স দেন ৭৫০ ডলার মাত্র। অথচ নিউইয়র্কে রাস্তার একজন ফুডভেন্ডার ব্যবসায়ী তার চেয়ে বেশি ট্যাক্স দেন।

ট্রাম্পের সময়েই আমেরিকায় রাজনীতি শুরু হয়েছে ধর্ম ও বর্ণ নিয়ে। আমেরিকান গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ, বর্ণবৈষম্য, মানবাধিকার সারা বিশ্বের জন্য মডেল। এ দেশে এসে সেই ধর্মনিরপেক্ষতার সুফল আমরা নিজেরাও ভোগ করেছি। করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমরা ম্যানহাটন মিডটাউন মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন সংলগ্ন খ্রিস্টানদের একটি গির্জায় জুমার নামাজ আদায় করতাম। যদিও এখন মহামারীর কারণে তা বন্ধ রয়েছে। এমন একটি ধর্মীয় স্বাধীনতার দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথম পদক্ষেপেই যে কাজটি করেছেন, তা হল মুসলিমদের সেখানে নিষিদ্ধ করা। তার এসব কর্মকাণ্ডে ইসরাইলও উৎসাহিত হয়েছে এবং এ ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০০০ সালে নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পর কিছুটা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ালেও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মাঝে ঘৃণা, আতঙ্ক, বিভেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু ট্রাম্পের অপরিপক্ব রাজনীতির কারণে আজ বিশ্ব রাজনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে।

বর্ণবৈষম্য ও হোয়াইট সুপ্রিমেসির থাবায় আমেরিকার মূল চেতনা ও গণতন্ত্র আজ ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ৩০ কোটি আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সামনে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ‘ইষধপশ খরাব গধঃঃবৎ’ আন্দোলনে সব শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নেমে সমর্থন জানিয়েছে। জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার মধ্যদিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প এখনও কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি এবং সমাধানের কোনো পথ দেখাননি। বর্ণবাদের পুরো দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নিতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে কে জিতবেন-ট্রাম্প না জো বাইডেন-এ প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকাক্সিক্ষত। প্রথমত, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রো-ইমিগ্রেন্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এন্টি-ইমিগ্রেন্ট। ট্রাম্পের ইমিগ্রেন্টবিরোধী অবস্থানের কারণে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মেক্সিকো থেকে আসা সব ইমিগ্রেন্ট আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। ওবামার ‘ডাকা’ কর্মসূচিও কোনোরকম আলোর মুখ দেখছে না ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ইমিগ্রেন্টদের এ দেশে বসবাস করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাদের চিকিৎসা ও শিশুদের পড়ালেখার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

তাই একটি হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত আমেরিকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমেরিকার বিশাল জনগোষ্ঠী ট্রাম্পমুক্ত আমেরিকা চায়। বাইডেন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলেন; অপরদিকে ট্রাম্প ধনীদের স্বার্থ দেখেন আর আমেরিকাকে দ্বিধাবিভক্ত করে সারা বিশ্ব থেকে একঘরে করে রাখেন।

আমার বিশ্বাস, বাইডেন আমেরিকানদের মধ্যে একতা ও বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে আমেরিকার গণতন্ত্রের হারানো ভাবমূর্তি আবারও ফিরিয়ে আনবেন। আমি নিজেও একজন গর্বিত রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট; তাই বলব-আমেরিকার এ দুঃসময়ে জো বাইডেনের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দরকার।

২০১৬ সালের মতো রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকলে হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পই জিতবে। কিন্তু এমন কিছু না হলে বাইডেনেরই জয় হবে শেষ পর্যন্ত। বাংলাদেশিসহ অন্য অভিবাসীরাও এবার বাইডেনকে জয়ী হিসেবে দেখতে চান।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সদস্য, ডেমোক্রেটিক পার্টি ন্যাশনাল কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকার এবারের নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ

 খোরশেদ খন্দকার 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমেরিকার দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হতে চলেছে। স্বাভাবিক নির্বাচনের মতো মহামারীর কারণে ভোটাররা ইচ্ছামতো ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন না।

ভোট যেমনই হোক, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বুথে ভোট প্রদান করার তৃপ্তিই আলাদা। করোনা মহামারীর কারণে আমেরিকান নাগরিকদের মেইলিং ভোট দেয়ার আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার একটি চক্র মেইলিং ভোটগুলো নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হবে। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়ও নির্বাচন ঠিক সময়ে ঠিকভাবেই হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমদিকে করোনা মহামারীকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে ইতোমধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে। সব শেষে ট্রাম্প নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বলেছেন: করোনাকে ভয় করো না; তিনি করোনা থেকে অনেক কিছু শিখেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন-এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।

তিনিই একমাত্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি, যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সুস্থতা দাবি করে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। আশঙ্কার বিষয় হল, ইউরোপসহ আমেরিকায় পুনরায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে; আর এ কারণেই এবারে মেইলিং ভোটই সবার জন্য নিরাপদ মনে করি।

প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যে প্রার্থক্য হল, ট্রাম্প একজন পেশাদার ব্যবসায়ী; জো বাইডেন একজন সুদক্ষ রাজনীতিবিদ। একজন ব্যবসায়ী ব্যবসায়ে সফল হতে পারেন; কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনও সফল হতে পারেন না-যার প্রমাণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।

রাজনীতিবিদ হিসেবে বাইডেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হবেন-এটি আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি, আমেরিকান রাজনীতিবিদরা সহজে মিথ্যা কথা বলেন না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ ও মিথ্যা বলার কারণে আমেরিকানরা ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মানুষ ভুলে যায়নি, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের ৩ বছর শেষে ফ্যাক্ট চেকার ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল-ট্রাম্প ৩ বছরে প্রকাশ্যে যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে ১৬ হাজার ২৪১টি মিথ্যাচার, অবাস্তব ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর ছিল।

ট্রাম্প প্রথম তিন বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলেছেন। ২০১৯ সালে নাকি তার মিথ্যা বলার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৫৫টি। এর আগের ২ বছরে মোট মিথ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮৮টি-প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে।

এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আমেরিকান জনগণ বিশ্বাস করে না, আস্থা রাখে না পুনর্নির্বাচিত করতে। তাছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে ট্যাক্স দেন ৭৫০ ডলার মাত্র। অথচ নিউইয়র্কে রাস্তার একজন ফুডভেন্ডার ব্যবসায়ী তার চেয়ে বেশি ট্যাক্স দেন।

ট্রাম্পের সময়েই আমেরিকায় রাজনীতি শুরু হয়েছে ধর্ম ও বর্ণ নিয়ে। আমেরিকান গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ, বর্ণবৈষম্য, মানবাধিকার সারা বিশ্বের জন্য মডেল। এ দেশে এসে সেই ধর্মনিরপেক্ষতার সুফল আমরা নিজেরাও ভোগ করেছি। করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমরা ম্যানহাটন মিডটাউন মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন সংলগ্ন খ্রিস্টানদের একটি গির্জায় জুমার নামাজ আদায় করতাম। যদিও এখন মহামারীর কারণে তা বন্ধ রয়েছে। এমন একটি ধর্মীয় স্বাধীনতার দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথম পদক্ষেপেই যে কাজটি করেছেন, তা হল মুসলিমদের সেখানে নিষিদ্ধ করা। তার এসব কর্মকাণ্ডে ইসরাইলও উৎসাহিত হয়েছে এবং এ ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০০০ সালে নাইন-ইলেভেনের ঘটনার পর কিছুটা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ালেও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মাঝে ঘৃণা, আতঙ্ক, বিভেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু ট্রাম্পের অপরিপক্ব রাজনীতির কারণে আজ বিশ্ব রাজনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে।

বর্ণবৈষম্য ও হোয়াইট সুপ্রিমেসির থাবায় আমেরিকার মূল চেতনা ও গণতন্ত্র আজ ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ৩০ কোটি আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সামনে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ‘ইষধপশ খরাব গধঃঃবৎ’ আন্দোলনে সব শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নেমে সমর্থন জানিয়েছে। জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার মধ্যদিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প এখনও কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি এবং সমাধানের কোনো পথ দেখাননি। বর্ণবাদের পুরো দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নিতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে কে জিতবেন-ট্রাম্প না জো বাইডেন-এ প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকাক্সিক্ষত। প্রথমত, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রো-ইমিগ্রেন্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এন্টি-ইমিগ্রেন্ট। ট্রাম্পের ইমিগ্রেন্টবিরোধী অবস্থানের কারণে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মেক্সিকো থেকে আসা সব ইমিগ্রেন্ট আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। ওবামার ‘ডাকা’ কর্মসূচিও কোনোরকম আলোর মুখ দেখছে না ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ইমিগ্রেন্টদের এ দেশে বসবাস করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাদের চিকিৎসা ও শিশুদের পড়ালেখার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

তাই একটি হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত আমেরিকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমেরিকার বিশাল জনগোষ্ঠী ট্রাম্পমুক্ত আমেরিকা চায়। বাইডেন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলেন; অপরদিকে ট্রাম্প ধনীদের স্বার্থ দেখেন আর আমেরিকাকে দ্বিধাবিভক্ত করে সারা বিশ্ব থেকে একঘরে করে রাখেন।

আমার বিশ্বাস, বাইডেন আমেরিকানদের মধ্যে একতা ও বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে আমেরিকার গণতন্ত্রের হারানো ভাবমূর্তি আবারও ফিরিয়ে আনবেন। আমি নিজেও একজন গর্বিত রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট; তাই বলব-আমেরিকার এ দুঃসময়ে জো বাইডেনের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দরকার।

২০১৬ সালের মতো রাশিয়ার হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকলে হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পই জিতবে। কিন্তু এমন কিছু না হলে বাইডেনেরই জয় হবে শেষ পর্যন্ত। বাংলাদেশিসহ অন্য অভিবাসীরাও এবার বাইডেনকে জয়ী হিসেবে দেখতে চান।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সদস্য, ডেমোক্রেটিক পার্টি ন্যাশনাল কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র