ঘাসকাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যেতে হবে কেন?
jugantor
ঘাসকাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যেতে হবে কেন?

  কাজী সুলতানুল আরেফিন  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ যাওয়ার হাস্যকর প্রস্তাবনা বন্ধ হোক। কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আবার উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ যেতে হলে সেটাও ঠিক আছে।

কিন্তু প্রশিক্ষণের যেসব বিষয় আমরা দেখছি, তাতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে এমন একটি বিষয় নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয় ছিল ‘খিচুড়ি রান্না’! এখন আবার এমন একটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রস্তাবনা এসেছে, যা চরম হাস্যকর। ঘাসকাটা শিখতে আমাদের বিদেশ যেতে হবে কেন; বরং বিদেশিদের উচিত এ দেশে ঘাসকাটা শিখতে আসা।

বাংলাদেশ সবুজ-শ্যামল ঘাসের দেশ। এ দেশে ঘাসের অভাব নেই। কাটার লোকেরও অভাব নেই। ঘাসের দেশের মানুষ ঘাসকাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবে-বিষয়টি হাস্যকর নয় কি? দেখা গেছে, ইতঃপূর্বে পুকুর খনন, মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর, কাজুবাদাম চাষ ইত্যাদি শিখতে বিদেশ সফরের প্রস্তাবনা এসেছে এবং সেগুলো নিয়ে হাস্যরসের পাশাপাশি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরেকটি কথা, এসব প্রশিক্ষণে সাধারণত কর্মকর্তারা যান। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের প্রশিক্ষণে কর্মীদের পাঠানো উচিত; যারা কিনা সরাসরি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কর্মীদের দক্ষতা বাড়লে দেশের লাভ; দেশের মানুষের লাভ। কর্মকর্তারা যেখানে শুধু বিভিন্ন কাজের তদারকি করে বেড়ান, তাদের প্রশিক্ষণে পাঠিয়ে কী লাভ? এ ছাড়া বেশিরভাগ কর্মকর্তার যথাযথ দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন আছে। আসলে দক্ষতা অর্জন নয়; এসব প্রশিক্ষণের অজুহাতে প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের শ্রাদ্ধ করে বিদেশ ভ্রমণ করাটাই মূল উদ্দেশ্য। আশা করছি, প্রশিক্ষণের নামে এসব হাস্যকর প্রস্তাবনা চিরতরে বন্ধ হবে।

Arefin.feni99@gmail.com

ঘাসকাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যেতে হবে কেন?

 কাজী সুলতানুল আরেফিন 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ যাওয়ার হাস্যকর প্রস্তাবনা বন্ধ হোক। কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আবার উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ যেতে হলে সেটাও ঠিক আছে।

কিন্তু প্রশিক্ষণের যেসব বিষয় আমরা দেখছি, তাতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে এমন একটি বিষয় নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয় ছিল ‘খিচুড়ি রান্না’! এখন আবার এমন একটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রস্তাবনা এসেছে, যা চরম হাস্যকর। ঘাসকাটা শিখতে আমাদের বিদেশ যেতে হবে কেন; বরং বিদেশিদের উচিত এ দেশে ঘাসকাটা শিখতে আসা।

বাংলাদেশ সবুজ-শ্যামল ঘাসের দেশ। এ দেশে ঘাসের অভাব নেই। কাটার লোকেরও অভাব নেই। ঘাসের দেশের মানুষ ঘাসকাটার প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবে-বিষয়টি হাস্যকর নয় কি? দেখা গেছে, ইতঃপূর্বে পুকুর খনন, মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর, কাজুবাদাম চাষ ইত্যাদি শিখতে বিদেশ সফরের প্রস্তাবনা এসেছে এবং সেগুলো নিয়ে হাস্যরসের পাশাপাশি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরেকটি কথা, এসব প্রশিক্ষণে সাধারণত কর্মকর্তারা যান। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের প্রশিক্ষণে কর্মীদের পাঠানো উচিত; যারা কিনা সরাসরি কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কর্মীদের দক্ষতা বাড়লে দেশের লাভ; দেশের মানুষের লাভ। কর্মকর্তারা যেখানে শুধু বিভিন্ন কাজের তদারকি করে বেড়ান, তাদের প্রশিক্ষণে পাঠিয়ে কী লাভ? এ ছাড়া বেশিরভাগ কর্মকর্তার যথাযথ দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন আছে। আসলে দক্ষতা অর্জন নয়; এসব প্রশিক্ষণের অজুহাতে প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের শ্রাদ্ধ করে বিদেশ ভ্রমণ করাটাই মূল উদ্দেশ্য। আশা করছি, প্রশিক্ষণের নামে এসব হাস্যকর প্রস্তাবনা চিরতরে বন্ধ হবে।

Arefin.feni99@gmail.com