ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ হবে কীভাবে?
jugantor
ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ হবে কীভাবে?

  মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব আয়-স্বল্পতার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা প্রদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি তহবিল থেকে শতভাগ সংস্থাপন ব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা প্রদান ও নিজস্ব আয় দিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ স্থানীয় উন্নয়ন কাজে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বার্ষিক হিসাব বিবরণী ও অডিট রিপোর্টে চোখ রাখলে প্রতীয়মান হবে, বর্তমানে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ বা তার চেয়েও কম; যে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয়ের সিংহভাগ খরচ করতে হয় সংস্থাপন খাতে। উল্লেখ্য, সংস্থাপন খরচ মেটানোর সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর না থাকায় সরকার এ খাতে কিছু অনুদান প্রদান করে থাকে। এ অনুদান দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার ৪৫ শতাংশ, ইউপি সচিব ও হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের ৭৫ শতাংশ বেতন ও ৫০ শতাংশ ভাতা এবং গ্রাম পুলিশের ৫০ শতাংশ বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।

অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল, ভূমি উন্নয়ন কর, রেজিস্টার-নথিপত্র ক্রয়, যাতায়াত খরচ, প্রিন্টিং ও সভা খরচসহ অন্যান্য সংস্থাপন ব্যয় বাবদ সরকার কোনো অর্থ বরাদ্দ করে না। যে কারণে ইউপি জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার ৫৫ শতাংশ, ইউপি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৫০ শতাংশসহ অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল ও ভূমি উন্নয়ন কর দিনের পর দিন বকেয়া থাকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ইতঃপূর্বে যদিও কোনো কোনো উপজেলা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ইউপি অংশ থেকে ইউপি কর্মচারীদের ইউপি অংশের বেতন-ভাতা পরিশোধ করত। বর্তমানে এটি পরিশোধ করতে সেসব উপজেলা পরিষদকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সম্প্রতি স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ইউপি অংশের টাকা কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইউপির শতভাগ সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা না হলে ইউনিয়ন পরিষদের কাজের গতি কমে যাবে, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে নাগরিকসেবা প্রদান বিঘ্নিত হবে, দেশের সুশাসন ভেঙে পড়বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ধার্যকৃত কর, রেট, টোল, ফি ইত্যাদি আদায়ে তাগিদ কম থাকায় এবং জনগণের ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন খরচ মেটানোর অনাগ্রহ থাকার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় দিয়ে কোনোভাবেই ইউপির সংস্থাপন খরচ মেটানো সম্ভব নয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন খাতে প্রতিনিয়ত বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। কিন্তু সংস্থাপন খাতের দুর্বলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ আজ পর্যন্ত সেই আলোর মুখ দর্শন করতে পারেনি। অথচ সংস্থাপন খাতে সামান্য কিছু বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের ১০০ শতাংশ সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হলে উন্নয়ন খাতে জন-অংশগ্রহণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

অতএব সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের গতি অটুট রাখতে এবং গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সচিব, ৫নং জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ হবে কীভাবে?

 মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব আয়-স্বল্পতার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা প্রদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি তহবিল থেকে শতভাগ সংস্থাপন ব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা প্রদান ও নিজস্ব আয় দিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ স্থানীয় উন্নয়ন কাজে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বার্ষিক হিসাব বিবরণী ও অডিট রিপোর্টে চোখ রাখলে প্রতীয়মান হবে, বর্তমানে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ বা তার চেয়েও কম; যে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয়ের সিংহভাগ খরচ করতে হয় সংস্থাপন খাতে। উল্লেখ্য, সংস্থাপন খরচ মেটানোর সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর না থাকায় সরকার এ খাতে কিছু অনুদান প্রদান করে থাকে। এ অনুদান দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার ৪৫ শতাংশ, ইউপি সচিব ও হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের ৭৫ শতাংশ বেতন ও ৫০ শতাংশ ভাতা এবং গ্রাম পুলিশের ৫০ শতাংশ বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।

অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল, ভূমি উন্নয়ন কর, রেজিস্টার-নথিপত্র ক্রয়, যাতায়াত খরচ, প্রিন্টিং ও সভা খরচসহ অন্যান্য সংস্থাপন ব্যয় বাবদ সরকার কোনো অর্থ বরাদ্দ করে না। যে কারণে ইউপি জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতার ৫৫ শতাংশ, ইউপি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৫০ শতাংশসহ অফিস রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিদ্যুৎ বিল ও ভূমি উন্নয়ন কর দিনের পর দিন বকেয়া থাকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ইতঃপূর্বে যদিও কোনো কোনো উপজেলা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ইউপি অংশ থেকে ইউপি কর্মচারীদের ইউপি অংশের বেতন-ভাতা পরিশোধ করত। বর্তমানে এটি পরিশোধ করতে সেসব উপজেলা পরিষদকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সম্প্রতি স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের ইউপি অংশের টাকা কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইউপির শতভাগ সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা না হলে ইউনিয়ন পরিষদের কাজের গতি কমে যাবে, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে নাগরিকসেবা প্রদান বিঘ্নিত হবে, দেশের সুশাসন ভেঙে পড়বে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ধার্যকৃত কর, রেট, টোল, ফি ইত্যাদি আদায়ে তাগিদ কম থাকায় এবং জনগণের ইউনিয়ন পরিষদের সংস্থাপন খরচ মেটানোর অনাগ্রহ থাকার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় দিয়ে কোনোভাবেই ইউপির সংস্থাপন খরচ মেটানো সম্ভব নয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সরকার উন্নয়ন খাতে প্রতিনিয়ত বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। কিন্তু সংস্থাপন খাতের দুর্বলতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ আজ পর্যন্ত সেই আলোর মুখ দর্শন করতে পারেনি। অথচ সংস্থাপন খাতে সামান্য কিছু বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের ১০০ শতাংশ সংস্থাপন ব্যয় নির্বাহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হলে উন্নয়ন খাতে জন-অংশগ্রহণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

অতএব সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের গতি অটুট রাখতে এবং গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সচিব, ৫নং জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন