ভ্যাকসিন হাতে পাওয়াই শেষ কথা নয়
jugantor
ভ্যাকসিন হাতে পাওয়াই শেষ কথা নয়

  সাদিয়া আফরিন কুমু  

১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারির বৈশ্বিক সংকটের শুরু থেকেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত করোনা ভ্যাকসিনকে ঘিরে বিশ্ববাসীর আগ্রহের কমতি নেই। গোটা বিশ্ব যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুহ্যমান, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভ্যাকসিনকেন্দ্রিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনার ঢেউয়ে মৃত্যুর মিছিল থামাতে বিকল্প নেই ভ্যাকসিনের। সীমিত সময়ের মধ্যে করোনা টিকা উদ্ভাবনের মতো অসাধ্য সাধনে অনেকটাই এগিয়েছে উত্তরের দেশগুলো। বায়োএনটেক-ফাইজারের টিকা অনুমোদিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইসরাইলের মতো উন্নত দেশগুলোয়।

দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া করোনা তাণ্ডবে কিছুটা আশা জাগিয়েছে এ ভ্যাকসিনের খবর। স্বতন্ত্র গবেষণায় টিকা তৈরির সক্ষমতা না থাকায় উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ভ্যাকসিন চুক্তি প্রণয়নে বেশ দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।

সে দৌড়ে বাংলাদেশের অগ্রগামিতায় স্বস্তি মিলেছে জনমনে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পরই তা দ্রুততার সঙ্গে হাতে পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বেশ তৎপরতা দেখিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের অনুমোদন মেলার পর থেকে বাংলাদেশের টিকা পাওয়ার আশা জোরদার হলেও কিঞ্চিৎ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি হওয়া এ ভ্যাকসিনের ওপর বাণিজ্যিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার জেরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ভারতের এ নয়া শর্তের জটিলতায় ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫০ লাখ করে ছয় ধাপে মোট ৩ কোটি ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। চুক্তিমাফিক বাংলাদেশকে গুনতে হয়েছে অগ্রিম ৬০০ কোটিরও বেশি টাকা।

করোনা ঝুঁকিতে থাকা জনবহুল বাংলাদেশের পক্ষে মহামারির ধাক্কা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন হাতে পাওয়াই শেষ কথা নয়। অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতির কবলে পড়ে বাংলাদেশ হাতে পেয়েও বঞ্চিত হতে পারে ভ্যাকসিনের সুফল থেকে, বিফলে যেতে পারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। তাই ভ্যাকসিনকে ঘিরে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনায় সব সময় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতি। তার জেরেই জনসাধারণের মধ্যে দানা বেঁধেছে করোনার টিকা বণ্টনে বৈষম্য বা দুর্নীতিজনিত অব্যবস্থাপনার শঙ্কা।

অভিজ্ঞতার আলোকে এ শঙ্কা নাকচ করতে নারাজ অভিজ্ঞমহল। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মতো তথাকথিত সভ্য দেশই যেখানে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে পারেনি; সেখানে পাকাপোক্তভাবে দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশে ‘ভ্যাকসিন-দুর্নীতি’ কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার চেয়ে এর সুষ্ঠু বণ্টন ও টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্নকরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য।

নয়া এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজন সরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ; দরকার নিয়মতান্ত্রিক নীতিমালাও। ভ্যাকসিনের সুষ্ঠু বিতরণের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স কমিটি গঠন প্রশংসার দাবিদার। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।

ভ্যাকসিন বণ্টনের ক্ষেত্রে টিকা প্রাপ্তির অগ্রাধিকার ও অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হলে তা টিকার সুষ্ঠুু বণ্টন অনেকাংশে ত্বরান্বিত করবে। কঠোর নজরদারি নিশ্চিতের মাধ্যমে বণ্টনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা যেতে পারে।

এতে সর্বসাধারণের অধিকার নিশ্চিত হবে, দূর হবে বৈষম্য। ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে টিকা প্রাপ্তির প্রবণতা দূরীকরণে প্রশাসনকে তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। সব স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে পারলেই তবেই মসৃণ হবে বৈষম্যহীন ভ্যাকসিন বণ্টনের পথ।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে প্রস্তুতকৃত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশিদের হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে দেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মাধ্যমে। কোনো কারণে যাতে ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জোরদার করা সময়ের দাবি। অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক নকল করোনা টিকা বাজারজাতকরণের আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে, যা দেশব্যাপী ভয়াবহ রকম স্বাস্থ্য সংকটের জন্ম দিতে পারে। এহেন অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনা শক্তহাতে দমন করা বাঞ্ছনীয়।

টিকাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আগাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে টিকার নিয়মতান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি প্রতিটি টিকাদানকারী ইউনিটের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অন্ততপক্ষে একজন দক্ষ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

করোনা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা রক্ষায় তাপমাত্রা বিশেষ নিয়ামক; তাই ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার আগেই এর নিরাপদ পরিবহন ও সরবরাহের জন্য প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার কোল্ডবক্স মজুদ করা আবশ্যক। বিশেষ প্রয়োজনের ভিত্তিতে আধুনিক ভ্যাকসিন ল্যাব প্রস্তুত করা গেলে টিকার গুণগত মান রক্ষা করা সহজ হবে।

এ কর্মসূচির নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুতা রক্ষায় টিকাদান কার্যক্রমের প্রতিটি স্তর নিয়মতান্ত্রিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট গাইডলাইনের আওতাভুক্ত করার বিকল্প নেই। মোদ্দাকথা, অব্যবস্থাপনা বা অদক্ষতার জেরে করোনা ভ্যাকসিনের একটি অ্যাম্পুলও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্যোগী হওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

সবার প্রত্যাশা, পূর্ব প্রস্তুতিমূলক এসব কর্মসূচি গ্রহণে সংশ্লিষ্টমহল আরও মনোযোগী হবেন; সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের প্রতিটি পর্ব সফল হবে, যা বিশ্ববাসীর কাছে ‘করোনা জয়ের’ অনন্য এক দৃষ্টান্তরূপে প্রতিভাত হবে।

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

ভ্যাকসিন হাতে পাওয়াই শেষ কথা নয়

 সাদিয়া আফরিন কুমু 
১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারির বৈশ্বিক সংকটের শুরু থেকেই বহুল আকাঙ্ক্ষিত করোনা ভ্যাকসিনকে ঘিরে বিশ্ববাসীর আগ্রহের কমতি নেই। গোটা বিশ্ব যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুহ্যমান, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভ্যাকসিনকেন্দ্রিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনার ঢেউয়ে মৃত্যুর মিছিল থামাতে বিকল্প নেই ভ্যাকসিনের। সীমিত সময়ের মধ্যে করোনা টিকা উদ্ভাবনের মতো অসাধ্য সাধনে অনেকটাই এগিয়েছে উত্তরের দেশগুলো। বায়োএনটেক-ফাইজারের টিকা অনুমোদিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইসরাইলের মতো উন্নত দেশগুলোয়।

দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া করোনা তাণ্ডবে কিছুটা আশা জাগিয়েছে এ ভ্যাকসিনের খবর। স্বতন্ত্র গবেষণায় টিকা তৈরির সক্ষমতা না থাকায় উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ভ্যাকসিন চুক্তি প্রণয়নে বেশ দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।

সে দৌড়ে বাংলাদেশের অগ্রগামিতায় স্বস্তি মিলেছে জনমনে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পরই তা দ্রুততার সঙ্গে হাতে পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বেশ তৎপরতা দেখিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের অনুমোদন মেলার পর থেকে বাংলাদেশের টিকা পাওয়ার আশা জোরদার হলেও কিঞ্চিৎ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি হওয়া এ ভ্যাকসিনের ওপর বাণিজ্যিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার জেরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ভারতের এ নয়া শর্তের জটিলতায় ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৫০ লাখ করে ছয় ধাপে মোট ৩ কোটি ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। চুক্তিমাফিক বাংলাদেশকে গুনতে হয়েছে অগ্রিম ৬০০ কোটিরও বেশি টাকা।

করোনা ঝুঁকিতে থাকা জনবহুল বাংলাদেশের পক্ষে মহামারির ধাক্কা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন হাতে পাওয়াই শেষ কথা নয়। অব্যবস্থাপনা বা দুর্নীতির কবলে পড়ে বাংলাদেশ হাতে পেয়েও বঞ্চিত হতে পারে ভ্যাকসিনের সুফল থেকে, বিফলে যেতে পারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। তাই ভ্যাকসিনকে ঘিরে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও কম নয়।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনায় সব সময় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতি। তার জেরেই জনসাধারণের মধ্যে দানা বেঁধেছে করোনার টিকা বণ্টনে বৈষম্য বা দুর্নীতিজনিত অব্যবস্থাপনার শঙ্কা।

অভিজ্ঞতার আলোকে এ শঙ্কা নাকচ করতে নারাজ অভিজ্ঞমহল। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মতো তথাকথিত সভ্য দেশই যেখানে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে পারেনি; সেখানে পাকাপোক্তভাবে দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশে ‘ভ্যাকসিন-দুর্নীতি’ কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার চেয়ে এর সুষ্ঠু বণ্টন ও টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্নকরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য।

নয়া এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজন সরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ; দরকার নিয়মতান্ত্রিক নীতিমালাও। ভ্যাকসিনের সুষ্ঠু বিতরণের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স কমিটি গঠন প্রশংসার দাবিদার। সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।

ভ্যাকসিন বণ্টনের ক্ষেত্রে টিকা প্রাপ্তির অগ্রাধিকার ও অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হলে তা টিকার সুষ্ঠুু বণ্টন অনেকাংশে ত্বরান্বিত করবে। কঠোর নজরদারি নিশ্চিতের মাধ্যমে বণ্টনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা যেতে পারে।

এতে সর্বসাধারণের অধিকার নিশ্চিত হবে, দূর হবে বৈষম্য। ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে টিকা প্রাপ্তির প্রবণতা দূরীকরণে প্রশাসনকে তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। সব স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে পারলেই তবেই মসৃণ হবে বৈষম্যহীন ভ্যাকসিন বণ্টনের পথ।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে প্রস্তুতকৃত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশিদের হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে দেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মাধ্যমে। কোনো কারণে যাতে ভ্যাকসিনের সহজলভ্যতা বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জোরদার করা সময়ের দাবি। অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক নকল করোনা টিকা বাজারজাতকরণের আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে, যা দেশব্যাপী ভয়াবহ রকম স্বাস্থ্য সংকটের জন্ম দিতে পারে। এহেন অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো ঘটনা শক্তহাতে দমন করা বাঞ্ছনীয়।

টিকাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আগাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে টিকার নিয়মতান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি প্রতিটি টিকাদানকারী ইউনিটের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অন্ততপক্ষে একজন দক্ষ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

করোনা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা রক্ষায় তাপমাত্রা বিশেষ নিয়ামক; তাই ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার আগেই এর নিরাপদ পরিবহন ও সরবরাহের জন্য প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রার কোল্ডবক্স মজুদ করা আবশ্যক। বিশেষ প্রয়োজনের ভিত্তিতে আধুনিক ভ্যাকসিন ল্যাব প্রস্তুত করা গেলে টিকার গুণগত মান রক্ষা করা সহজ হবে।

এ কর্মসূচির নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুতা রক্ষায় টিকাদান কার্যক্রমের প্রতিটি স্তর নিয়মতান্ত্রিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট গাইডলাইনের আওতাভুক্ত করার বিকল্প নেই। মোদ্দাকথা, অব্যবস্থাপনা বা অদক্ষতার জেরে করোনা ভ্যাকসিনের একটি অ্যাম্পুলও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্যোগী হওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

সবার প্রত্যাশা, পূর্ব প্রস্তুতিমূলক এসব কর্মসূচি গ্রহণে সংশ্লিষ্টমহল আরও মনোযোগী হবেন; সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের প্রতিটি পর্ব সফল হবে, যা বিশ্ববাসীর কাছে ‘করোনা জয়ের’ অনন্য এক দৃষ্টান্তরূপে প্রতিভাত হবে।

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ