অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা বন্ধ হবে কবে?
jugantor
অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা বন্ধ হবে কবে?

  মো. শাহিন আলম  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময় ও স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে প্রযুক্তির উন্নতি ও উৎকর্ষ। এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে জীবনধারা। এক সময় ঘরে বসে পণ্য কেনাকাটার কথা ভাবাই যেত না।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনলাইনে কেনাকাটা এখন এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, আমরা এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাজার বা মার্কেটে না গিয়ে ঘরে বসে এক ক্লিকেই পছন্দসই পণ্য হাতে আসায় মানুষ অধিক হারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়।

বর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে অন্তত ৯৫০ এবং সেখানে দৈনিক ৪৫ হাজারের মতো পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের তথ্যমতে, বর্তমানে অনলাইন সেবা চালু রেখেছে সাড়ে ৭০০-এর বেশি অনলাইন শপ। আর ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্য বিক্রি করছে আরও ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান।

এদের অধিকাংশই যে বেকার ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনোরকম খরচ ছাড়াই কিংবা স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনাবেচার পরিবেশই মূলত এ প্ল্যাটফর্মে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলেছে। আর এ অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নানা কর্মসংস্থান; বদলে যাচ্ছে বহু তরুণ উদ্যোক্তার ভাগ্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে নির্ভরযোগ্য সাইট নিয়ে!

একদিকে যেভাবে বাড়ছে অনলাইন শপিং, সাইটগুলোতে ঠিক তেমনিভাবেই বাড়ছে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার হার। ই-কমার্সের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বা চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ের নামে প্রতারণার জাল বুনেছে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী অসাধু চক্র। অতি সম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বগুড়ার ইউসুফ আলী।

তিনি লিখেছেন- ফেসবুকের ‘শপিং ক্রাউড’ নামে একটি পেজে জামা বিক্রির প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রিম টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ৪টি জামা অর্ডার করি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামা না পাওয়ায় যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখি মোবাইল নম্বর ব্লক এবং ফেসবুক থেকেও ব্লক করা হয়েছে।

কমেন্টে আরেক ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান মাসুক লিখেছেন-ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপন দেখে ই-কর্মাস সাইট থেকে শার্ট অর্ডার করেন তিনি। দু’দিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও বারবার যোগাযোগের পর ছয় দিনের মাথায় পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা গেল খুবই নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হয়েছে তাকে।

দেশে অনলাইন কেনাকাটা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাড়লেও অনেকের অভিজ্ঞতা ইউসুফ কিংবা মাসুকের মতো। অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে সাধারণ গ্রাহককে আকৃষ্ট করে এক ধরনের পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া আসল পণ্যের মোড়কে নকল পণ্য সরবরাহ, কখনোবা পরিমাণে কম দেওয়া, আবার কখনো আগাম অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া-এসব অসাধু চক্রের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের ই-কমার্সের ওপর। ফলে স্বস্তি ও আস্থার জায়গা হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে অনলাইন মার্কেটিং। অসাধু চক্রের হাতে ই-কমার্স খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় আস্থা হারাচ্ছে বহু সৎ উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

হাজারও উদ্যোক্তার কর্মস্থল ও জনসাধারণের আস্থা ও স্বস্তির জায়গা অনলাইন মার্কেটিংয়ে প্রতারণা রোধ করে একে নিরাপদ রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার আইনের প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। সাইবার জগতেও বাড়াতে হবে নজরদারি। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতে প্রণয়ন করতে হবে নতুন নীতিমালা ও আইন এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে এ খাতের নিরাপত্তা।

সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটি দরকার, তা হচ্ছে সচেতনতা। কোনো আকর্ষণীয় অফার বা বিজ্ঞাপন দেখে হুট করে পণ্য কিনতে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, ট্রেন্ড লাইসেন্স, মালিকের নাম-ঠিকানা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। কুরিয়ারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে রসিদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য গ্রহণ করতে হবে। ফেসবুক কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য পেজ বা গ্রুপ থেকে কেনা এবং রিভিউ দেখে নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ ও জনগণের সচেতনতায় অনলাইন মার্কেটিং তথা ই-কমার্স আস্থা ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা বন্ধ হবে কবে?

 মো. শাহিন আলম 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময় ও স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে প্রযুক্তির উন্নতি ও উৎকর্ষ। এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, বদলে যাচ্ছে জীবনধারা। এক সময় ঘরে বসে পণ্য কেনাকাটার কথা ভাবাই যেত না।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনলাইনে কেনাকাটা এখন এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, আমরা এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। বাজার বা মার্কেটে না গিয়ে ঘরে বসে এক ক্লিকেই পছন্দসই পণ্য হাতে আসায় মানুষ অধিক হারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়।

বর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে অন্তত ৯৫০ এবং সেখানে দৈনিক ৪৫ হাজারের মতো পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের তথ্যমতে, বর্তমানে অনলাইন সেবা চালু রেখেছে সাড়ে ৭০০-এর বেশি অনলাইন শপ। আর ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্য বিক্রি করছে আরও ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান।

এদের অধিকাংশই যে বেকার ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনোরকম খরচ ছাড়াই কিংবা স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনাবেচার পরিবেশই মূলত এ প্ল্যাটফর্মে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলেছে। আর এ অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নানা কর্মসংস্থান; বদলে যাচ্ছে বহু তরুণ উদ্যোক্তার ভাগ্য। তবে প্রশ্ন উঠেছে নির্ভরযোগ্য সাইট নিয়ে!

একদিকে যেভাবে বাড়ছে অনলাইন শপিং, সাইটগুলোতে ঠিক তেমনিভাবেই বাড়ছে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার হার। ই-কমার্সের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বা চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ের নামে প্রতারণার জাল বুনেছে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী অসাধু চক্র। অতি সম্প্রতি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বগুড়ার ইউসুফ আলী।

তিনি লিখেছেন- ফেসবুকের ‘শপিং ক্রাউড’ নামে একটি পেজে জামা বিক্রির প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রিম টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ৪টি জামা অর্ডার করি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামা না পাওয়ায় যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখি মোবাইল নম্বর ব্লক এবং ফেসবুক থেকেও ব্লক করা হয়েছে।

কমেন্টে আরেক ভুক্তভোগী আশিকুর রহমান মাসুক লিখেছেন-ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপন দেখে ই-কর্মাস সাইট থেকে শার্ট অর্ডার করেন তিনি। দু’দিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়ার কথা থাকলেও বারবার যোগাযোগের পর ছয় দিনের মাথায় পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখা গেল খুবই নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হয়েছে তাকে।

দেশে অনলাইন কেনাকাটা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাড়লেও অনেকের অভিজ্ঞতা ইউসুফ কিংবা মাসুকের মতো। অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনে সাধারণ গ্রাহককে আকৃষ্ট করে এক ধরনের পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া আসল পণ্যের মোড়কে নকল পণ্য সরবরাহ, কখনোবা পরিমাণে কম দেওয়া, আবার কখনো আগাম অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া-এসব অসাধু চক্রের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। আর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশের ই-কমার্সের ওপর। ফলে স্বস্তি ও আস্থার জায়গা হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে অনলাইন মার্কেটিং। অসাধু চক্রের হাতে ই-কমার্স খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় আস্থা হারাচ্ছে বহু সৎ উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

হাজারও উদ্যোক্তার কর্মস্থল ও জনসাধারণের আস্থা ও স্বস্তির জায়গা অনলাইন মার্কেটিংয়ে প্রতারণা রোধ করে একে নিরাপদ রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার আইনের প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। সাইবার জগতেও বাড়াতে হবে নজরদারি। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতে প্রণয়ন করতে হবে নতুন নীতিমালা ও আইন এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে এ খাতের নিরাপত্তা।

সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটি দরকার, তা হচ্ছে সচেতনতা। কোনো আকর্ষণীয় অফার বা বিজ্ঞাপন দেখে হুট করে পণ্য কিনতে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, ট্রেন্ড লাইসেন্স, মালিকের নাম-ঠিকানা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। কুরিয়ারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে রসিদ ও ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য গ্রহণ করতে হবে। ফেসবুক কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য পেজ বা গ্রুপ থেকে কেনা এবং রিভিউ দেখে নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ ও জনগণের সচেতনতায় অনলাইন মার্কেটিং তথা ই-কমার্স আস্থা ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়