শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন
jugantor
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন

  আল আমিন ইসলাম নাসিম  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা বলে থাকি, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তবে এক মুহূর্তের জন্য আমরা কি আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেখছি? না, আমরা তা ভাবছি না। আমাদের আচার-আচরণ, চিন্তা-ভাবনা ও এ যাবতকালের কর্মকাণ্ডে তা ভালোভাবেই পরিস্ফূট হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কোন এক যুক্তিবলে আমরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলিনি; তবে বাজার, পার্ক সবকিছু খুলেছি। প্রশ্ন হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী সমস্যা? আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে করোনা। অন্য জায়গাগুলোয় তো শিক্ষার্থীরা ঠিকই যাচ্ছে। উপভোগ করছে ও ভ্রমণ করছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনার্স ফাইনাল ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা তাদের শেষ সেমিস্টার শেষ করতে পারেনি। তারা জটে পড়েছে। তারা কোনো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছে না। এখন কিছু শর্ত দিয়ে তাদের পরীক্ষা দিতে বলা হচ্ছে। যেমন- হল বন্ধ থাকবে, সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ হবে ইত্যাদি। কতটা নির্মম হলে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

শিক্ষার্থীরা খণ্ডকালীন কাজের সুযোধ হারিয়েছে, টিউশনি হারিয়েছে। তারা ক্যাম্পাস থেকে দূরে বাস করে। তারা কোথায় থাকবে? কীভাবে দ্রুত মেস খুঁজবে? ফি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ কোথায় পাবে? কোনো যুক্তি আছে কি?

সব মিলিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মোটেই ভালো নেই। একদিকে তাদের বয়স বেড়ে প্রেক্ষিতে চাকরির প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা; অন্যদিকে খণ্ডকালীন কাজ বা টিউশনি হারিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চতার মুখে পড়ার বিষয়টি গভীর দরদ দিয়ে উপলব্ধি করা দরকার।

যা হোক, আমি শুধু অনুরোধ করছি- দয়া করে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের অমানবিক খেলা বন্ধ করুন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরো ফি আদায় বন্ধ করুন, হলগুলো খুলুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারপর পরীক্ষা নিন এবং আমাদের বাঁচান।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

alaminislamnasim@gmail.com

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন

 আল আমিন ইসলাম নাসিম 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা বলে থাকি, শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। তবে এক মুহূর্তের জন্য আমরা কি আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দেখছি? না, আমরা তা ভাবছি না। আমাদের আচার-আচরণ, চিন্তা-ভাবনা ও এ যাবতকালের কর্মকাণ্ডে তা ভালোভাবেই পরিস্ফূট হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কোন এক যুক্তিবলে আমরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলিনি; তবে বাজার, পার্ক সবকিছু খুলেছি। প্রশ্ন হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কী সমস্যা? আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে করোনা। অন্য জায়গাগুলোয় তো শিক্ষার্থীরা ঠিকই যাচ্ছে। উপভোগ করছে ও ভ্রমণ করছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনার্স ফাইনাল ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা তাদের শেষ সেমিস্টার শেষ করতে পারেনি। তারা জটে পড়েছে। তারা কোনো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছে না। এখন কিছু শর্ত দিয়ে তাদের পরীক্ষা দিতে বলা হচ্ছে। যেমন- হল বন্ধ থাকবে, সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ হবে ইত্যাদি। কতটা নির্মম হলে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

শিক্ষার্থীরা খণ্ডকালীন কাজের সুযোধ হারিয়েছে, টিউশনি হারিয়েছে। তারা ক্যাম্পাস থেকে দূরে বাস করে। তারা কোথায় থাকবে? কীভাবে দ্রুত মেস খুঁজবে? ফি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ কোথায় পাবে? কোনো যুক্তি আছে কি?

সব মিলিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মোটেই ভালো নেই। একদিকে তাদের বয়স বেড়ে প্রেক্ষিতে চাকরির প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা; অন্যদিকে খণ্ডকালীন কাজ বা টিউশনি হারিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চতার মুখে পড়ার বিষয়টি গভীর দরদ দিয়ে উপলব্ধি করা দরকার।

যা হোক, আমি শুধু অনুরোধ করছি- দয়া করে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের অমানবিক খেলা বন্ধ করুন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরো ফি আদায় বন্ধ করুন, হলগুলো খুলুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারপর পরীক্ষা নিন এবং আমাদের বাঁচান।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

alaminislamnasim@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন