অন্তত একবার ভাবা উচিত ছিল...
jugantor
অন্তত একবার ভাবা উচিত ছিল...

  গাজী ফরহাদ  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফুল

আমি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফুলের ভিডিওফটোগ্রাফির কাজ করেছি।

তখন প্রায় অধিকাংশ ফুল ঢাকা থেকে পাইকারি নিয়ে আসতে হতো। ফুলগুলো একেক সময় একেক দামে বিক্রি হতো।

এ ইভেন্টে কাজ করার সময় আমি সূর্যমুখী ফুলের ব্যবহার খুব কমই করেছি। এর দুটি কারণ ছিল-

১. ঢাকা থেকে পাইকারি কিনতে হতো প্রতিটি ৪০ টাকা করে; দোকানে আসতে আসতে যার দাম পড়ত প্রায় ৫৩ টাকার মতো।

২. ৬০ টাকা দাম শুনে ক্রেতারা মনে করত আমরা ‘ডাকাতি’ করছি। তাই দাম শোনার পর তারা আর অর্ডার করত না। ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় আমরাও সূর্যমুখী ফুল অর্ডার করতাম না।

গোলাপের দাম একেক সময় একেকরকম থাকত। ১০০টি ৪০০-৫০০; আবার কখনও ৬০০ টাকা। গোলাপের চাহিদাও প্রচুর। দাম কম, ব্যবহার বেশি। সব কাজে পরিশ্রম আছে। সূর্যমুখী ফুলের এত দাম হওয়ার কারণ তো নিশ্চয়ই আছে আর তা হলো, এ ফুল চাষে কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রম।

আমরা জানি, দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী বীজের তেলে রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। সুস্থ থাকতে অনেকেই রান্নার কাজে এ তেল ব্যবহার করে থাকেন।

এ তেলে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। একে লিনোলিক অ্যাসিড হিসেবেও চেনেন অনেকে। দেহে কোলেস্টরলের ভারসাম্য রক্ষায় এ উপাদানের তুলনা নেই।

সূর্যমুখী তেল অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। আবার হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমিয়ে আনে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড।

ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও এটি বেশ কার্যকর। যারা আগে থেকেই এ তেলে অভ্যস্ত হয়েছেন, তারা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে পারেন।

যারা ওজনের ভারে অস্থির, তাদের জন্য আছে সানফ্লাওয়ার তেল। এর অন্যতম ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের চর্বি পোড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এ কারণে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে তেলটি খুবই জনপ্রিয়। খাদ্য তালিকা এদিক-সেদিক না করে শুধু সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা যায়।

ওলিক অ্যাসিডের প্রাচুর্যতাও আছে এই তেলে। আর এটি চুলের জন্য খুবই উপকারী। দ্রুত চুল বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি চুলের গোড়া শক্ত করে। চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রসাধনী বানাতে সূর্যমুখী তেলের ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া লিনোলিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।

লোমকুপের গোড়ার ময়লা বের করে আনতে এটি বেশ কাজের। এ উপাদানটি ত্বকের নতুন কোষ গজাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ত্বকের কয়েক ধরনের সমস্যাও দূর করে।

এর বাইরে প্রোস্টাগ্লান্ডিন্স নামের ফ্যাটি অ্যাসিডের যৌগ গঠনেও ভূমিকা রাখে ওমেগা-৬। এতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ফুলের বাগান সব জায়গায় হয় না; সব মানুষকে দিয়েও এটা হয় না। এই যে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষগুলো কয়েকটা ছবি তোলার জন্য একজন কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে গড়ে তোলা এত সুন্দর ফুল বাগানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, তাদের অন্তত একবার ভাবা উচিত ছিল- ফুলগুলো এমনি এমনি জন্মেনি।

এসব ফুল বিকশিত করতে একজন মানুষ রাত-দিন কত না পরিশ্রম করেছেন!

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

অন্তত একবার ভাবা উচিত ছিল...

 গাজী ফরহাদ 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ফুল
ছবি: ফেসবুক

আমি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফুলের ভিডিওফটোগ্রাফির কাজ করেছি।

তখন প্রায় অধিকাংশ ফুল ঢাকা থেকে পাইকারি নিয়ে আসতে হতো। ফুলগুলো একেক সময় একেক দামে বিক্রি হতো।

এ ইভেন্টে কাজ করার সময় আমি সূর্যমুখী ফুলের ব্যবহার খুব কমই করেছি। এর দুটি কারণ ছিল-

১. ঢাকা থেকে পাইকারি কিনতে হতো প্রতিটি ৪০ টাকা করে; দোকানে আসতে আসতে যার দাম পড়ত প্রায় ৫৩ টাকার মতো।

২. ৬০ টাকা দাম শুনে ক্রেতারা মনে করত আমরা ‘ডাকাতি’ করছি। তাই দাম শোনার পর তারা আর অর্ডার করত না। ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় আমরাও সূর্যমুখী ফুল অর্ডার করতাম না।

গোলাপের দাম একেক সময় একেকরকম থাকত। ১০০টি ৪০০-৫০০; আবার কখনও ৬০০ টাকা। গোলাপের চাহিদাও প্রচুর। দাম কম, ব্যবহার বেশি। সব কাজে পরিশ্রম আছে। সূর্যমুখী ফুলের এত দাম হওয়ার কারণ তো নিশ্চয়ই আছে আর তা হলো, এ ফুল চাষে কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রম।

আমরা জানি, দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী বীজের তেলে রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। সুস্থ থাকতে অনেকেই রান্নার কাজে এ তেল ব্যবহার করে থাকেন।

এ তেলে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। একে লিনোলিক অ্যাসিড হিসেবেও চেনেন অনেকে। দেহে কোলেস্টরলের ভারসাম্য রক্ষায় এ উপাদানের তুলনা নেই।

সূর্যমুখী তেল অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। আবার হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমিয়ে আনে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড।

ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও এটি বেশ কার্যকর। যারা আগে থেকেই এ তেলে অভ্যস্ত হয়েছেন, তারা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে পারেন।

যারা ওজনের ভারে অস্থির, তাদের জন্য আছে সানফ্লাওয়ার তেল। এর অন্যতম ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের চর্বি পোড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এ কারণে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে তেলটি খুবই জনপ্রিয়। খাদ্য তালিকা এদিক-সেদিক না করে শুধু সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা যায়।

ওলিক অ্যাসিডের প্রাচুর্যতাও আছে এই তেলে। আর এটি চুলের জন্য খুবই উপকারী। দ্রুত চুল বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি চুলের গোড়া শক্ত করে। চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রসাধনী বানাতে সূর্যমুখী তেলের ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া লিনোলিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।

লোমকুপের গোড়ার ময়লা বের করে আনতে এটি বেশ কাজের। এ উপাদানটি ত্বকের নতুন কোষ গজাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি ত্বকের কয়েক ধরনের সমস্যাও দূর করে।

এর বাইরে প্রোস্টাগ্লান্ডিন্স নামের ফ্যাটি অ্যাসিডের যৌগ গঠনেও ভূমিকা রাখে ওমেগা-৬। এতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ফুলের বাগান সব জায়গায় হয় না; সব মানুষকে দিয়েও এটা হয় না। এই যে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষগুলো কয়েকটা ছবি তোলার জন্য একজন কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে গড়ে তোলা এত সুন্দর ফুল বাগানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, তাদের অন্তত একবার ভাবা উচিত ছিল- ফুলগুলো এমনি এমনি জন্মেনি।

এসব ফুল বিকশিত করতে একজন মানুষ রাত-দিন কত না পরিশ্রম করেছেন!

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা