প্রধানমন্ত্রীর একটি উপদেশ মানলেই পাওয়া যাবে ভালো সিনেমা
jugantor
প্রধানমন্ত্রীর একটি উপদেশ মানলেই পাওয়া যাবে ভালো সিনেমা

  আবু জাফর  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢালিউড বিশ্বের ১১তম বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র হলেও এটি দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। বাংলাদেশিদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ঢাকার নবাব পরিবার।

১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্র দিয়ে এদেশে চলচ্চিত্র শিল্পের পথচলা শুরু হয়েছিল। এর পর ষাটের দশক থেকে ভালো চলচ্চিত্র আসতে শুরু করে এবং সত্তরের দশকটা দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে।

এর পর নব্বইয়ের দশকের শুরু অবধি অনেক ভালোমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য এক হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য অল্প সুদের এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি প্রধানমন্ত্রীর অন্তত একটি উপদেশ মেনে চলেন, তাহলে হয়তো আবারও আমরা পাব ভালো মানের চলচ্চিত্র। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা যায়, এমন সিনেমা বানানোর জন্য। বাংলা সিনেমার গল্প, অভিনয় এবং সিনেমা হলের পরিবেশ নিয়ে দর্শকদের অভিযোগ রয়েছে বরাবরই, কিন্তু সিনেমার প্রযোজক যারা রয়েছেন; তারা বিষয়গুলো নিয়ে কতটা ভাবেন, এটাই প্রশ্ন। বস্তুত দর্শকদের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী সিনেমা তৈরি হচ্ছে খুবই কম।

সমাজের বিভিন্ন ইস্যু সিনেমায় তুলে এনে সামাজিক বার্তামূলক চিত্রনাট্য হলে সেটা অনেকেই দেখতে চাইবেন। এখনকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে যখন মানুষ যায়, তখন বাংলা থেকে ইংরেজি সিনেমাই বেশি দেখতে যায়।

কারণ সিনেপ্লেক্সে খুব কম বাংলা সিনেমা দেখানো হয়। আর হলেও অত টাকা খরচ করে বাংলা সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করে না। কারণ গতানুগতিক ধারার একটা বাংলা সিনেমা শুরুর পর গল্পের শেষে কী হবে, তা আগেই আঁচ করা যায়। গল্পের মধ্যে টানটান কোনো উত্তেজনা বা শিল্পীদের অসাধারণ অভিনয় দেখা যাবে- এমন আশা অনর্থক।

অ্যাকশন বা বিনোদনমূলক যাই হোক না কেন, তাতে যদি শালীনতা রক্ষা করা হয় ও একটি ভালো বার্তা পাওয়া যায়, তবেই তো দর্শকের পয়সা উসুল হবে। ঢাকার সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্য নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। নিজ সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে যায় এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা না হলে দিনকে দিন তলানিতে যাবে এ শিল্প। এর ফলে বিদেশি অশ্লীল কনটেন্টে ভেসে যাবে আমাদের যুব সমাজ। আমাদের ভালো বিষয়ের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। মোগল-ব্রিটিশ-পাকিস্তান বিজয় করা বাংলাদেশিদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে বহু ভালো বিষয় আছে। অথচ সেগুলোর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। অথচ এখনো ভালো কোনো সিনেমা মুক্তি পেলে হলভর্তি দর্শক দেখা যায়।

সিনেমা হল বন্ধের হিড়িক একুশ শতকের শুরুতেই শুরু হয়। ঢাকার ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ সিনেমা হল ভেঙে নির্মাণ করা হয় মার্কেট কমপ্লেক্স। একইভাবে পুরনো ঢাকার ‘মুন’ ও ‘স্টার’ সিনেমা হল ভেঙেও করা হয়েছে বিশাল মার্কেট। ঢাকার ‘এশিয়া’, ‘মধুমতি’তে এখন আর জমজমাট কোনো সিনেমার আয়োজন হয় না।

আশির দশকে ঢাকা শহরে ছিল ৪৪টি সিনেমা হল। বর্তমানে কমতে কমতে সংখ্যাটি পঁচিশের নিচে নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহারও খুব বেশি বাড়েনি। বিগত বছরগুলোয় বিএফডিসির কোনো আধুনিকায়নই হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে ঢাকার কিছু সিনেমা হলে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বিদেশি সিনেমা। ‘এক টিকিটে দুই ছবি’র এসব প্রদর্শনীতে মূলত দেখানো হয় পর্নো সিনেমা, যা খুবই বিপজ্জনক।

’৯৫-এর পর থেকে আস্তে আস্তে এমন দীনহীন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য যতটা না দেশের সাধারণ মানুষ দায়ী; তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী স্বয়ং ইন্ডাস্ট্রি ও নির্মাতা শ্রেণি। ইন্ডাস্ট্রির অব্যবস্থাপনা ও পরিচালকদের অশ্লীল বিষয়বস্তু বাছাই জনমনে বাংলা সিনেমার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করেছে। এখন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও সচেতনতাই পারে সুস্থ, সুন্দর চলচ্চিত্র শিল্প উপহার দিতে।

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

abujafor295610@gmail.com

প্রধানমন্ত্রীর একটি উপদেশ মানলেই পাওয়া যাবে ভালো সিনেমা

 আবু জাফর 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢালিউড বিশ্বের ১১তম বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র হলেও এটি দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। বাংলাদেশিদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ঢাকার নবাব পরিবার।

১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্র দিয়ে এদেশে চলচ্চিত্র শিল্পের পথচলা শুরু হয়েছিল। এর পর ষাটের দশক থেকে ভালো চলচ্চিত্র আসতে শুরু করে এবং সত্তরের দশকটা দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে।

এর পর নব্বইয়ের দশকের শুরু অবধি অনেক ভালোমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য এক হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য অল্প সুদের এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি প্রধানমন্ত্রীর অন্তত একটি উপদেশ মেনে চলেন, তাহলে হয়তো আবারও আমরা পাব ভালো মানের চলচ্চিত্র। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা যায়, এমন সিনেমা বানানোর জন্য। বাংলা সিনেমার গল্প, অভিনয় এবং সিনেমা হলের পরিবেশ নিয়ে দর্শকদের অভিযোগ রয়েছে বরাবরই, কিন্তু সিনেমার প্রযোজক যারা রয়েছেন; তারা বিষয়গুলো নিয়ে কতটা ভাবেন, এটাই প্রশ্ন। বস্তুত দর্শকদের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী সিনেমা তৈরি হচ্ছে খুবই কম।

সমাজের বিভিন্ন ইস্যু সিনেমায় তুলে এনে সামাজিক বার্তামূলক চিত্রনাট্য হলে সেটা অনেকেই দেখতে চাইবেন। এখনকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে যখন মানুষ যায়, তখন বাংলা থেকে ইংরেজি সিনেমাই বেশি দেখতে যায়।

কারণ সিনেপ্লেক্সে খুব কম বাংলা সিনেমা দেখানো হয়। আর হলেও অত টাকা খরচ করে বাংলা সিনেমা দেখতে ইচ্ছে করে না। কারণ গতানুগতিক ধারার একটা বাংলা সিনেমা শুরুর পর গল্পের শেষে কী হবে, তা আগেই আঁচ করা যায়। গল্পের মধ্যে টানটান কোনো উত্তেজনা বা শিল্পীদের অসাধারণ অভিনয় দেখা যাবে- এমন আশা অনর্থক।

অ্যাকশন বা বিনোদনমূলক যাই হোক না কেন, তাতে যদি শালীনতা রক্ষা করা হয় ও একটি ভালো বার্তা পাওয়া যায়, তবেই তো দর্শকের পয়সা উসুল হবে। ঢাকার সিনেমায় অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্য নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। নিজ সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে যায় এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা না হলে দিনকে দিন তলানিতে যাবে এ শিল্প। এর ফলে বিদেশি অশ্লীল কনটেন্টে ভেসে যাবে আমাদের যুব সমাজ। আমাদের ভালো বিষয়ের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। মোগল-ব্রিটিশ-পাকিস্তান বিজয় করা বাংলাদেশিদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে বহু ভালো বিষয় আছে। অথচ সেগুলোর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। অথচ এখনো ভালো কোনো সিনেমা মুক্তি পেলে হলভর্তি দর্শক দেখা যায়।

সিনেমা হল বন্ধের হিড়িক একুশ শতকের শুরুতেই শুরু হয়। ঢাকার ‘গুলিস্তান’ ও ‘নাজ’ সিনেমা হল ভেঙে নির্মাণ করা হয় মার্কেট কমপ্লেক্স। একইভাবে পুরনো ঢাকার ‘মুন’ ও ‘স্টার’ সিনেমা হল ভেঙেও করা হয়েছে বিশাল মার্কেট। ঢাকার ‘এশিয়া’, ‘মধুমতি’তে এখন আর জমজমাট কোনো সিনেমার আয়োজন হয় না।

আশির দশকে ঢাকা শহরে ছিল ৪৪টি সিনেমা হল। বর্তমানে কমতে কমতে সংখ্যাটি পঁচিশের নিচে নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহারও খুব বেশি বাড়েনি। বিগত বছরগুলোয় বিএফডিসির কোনো আধুনিকায়নই হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে ঢাকার কিছু সিনেমা হলে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে বিদেশি সিনেমা। ‘এক টিকিটে দুই ছবি’র এসব প্রদর্শনীতে মূলত দেখানো হয় পর্নো সিনেমা, যা খুবই বিপজ্জনক।

’৯৫-এর পর থেকে আস্তে আস্তে এমন দীনহীন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য যতটা না দেশের সাধারণ মানুষ দায়ী; তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী স্বয়ং ইন্ডাস্ট্রি ও নির্মাতা শ্রেণি। ইন্ডাস্ট্রির অব্যবস্থাপনা ও পরিচালকদের অশ্লীল বিষয়বস্তু বাছাই জনমনে বাংলা সিনেমার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করেছে। এখন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও সচেতনতাই পারে সুস্থ, সুন্দর চলচ্চিত্র শিল্প উপহার দিতে।

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

abujafor295610@gmail.com