ব্যাচেলরনামা
jugantor
ব্যাচেলরনামা

  নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী ঢাকা শহরকে বলা হয় ভাগ্য পরিবর্তনের শহর। প্রতি বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির উদ্দেশে রাজধানীতে আসে। কিন্তু আসার পরেই বড় ভোগান্তিতে পড়তে হয় থাকার জায়গা নিয়ে। বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের কাছে বাসা ভাড়া দিতেই চান না। দিলেও তার সংখ্যা সীমিত। নানা রকম শর্ত মেনে ভাড়া বেশি দিয়ে বাসায় উঠতে হয় ব্যাচেলরদের। এ ছাড়া থাকার জন্য শহরের মেস বা হোস্টেলের অবস্থা ভয়াবহ নাজুক। বাংলাদেশ মেস অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, ঢাকায় প্রায় ১৫ লাখ মেস রয়েছে। তবে দুঃখজনক সত্য হচ্ছে যে, এসব মেসে থাকার জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই। খাবারের মানও নিুমানের। অথচ টাকার পরিমাণ নেওয়া হয় বেশি।

সারা দিন কর্মচঞ্চল দিন শেষে মানুষের শান্তির জায়গা হচ্ছে তার থাকার ঘর। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গাদাগাদি করে মেসে থেকে সেই মানসিক শান্তি পায় না একজন ব্যাচেলর। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পড়তে আসা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ হলে বা ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ পায়। আর বাকি ৮৫-৯০ শতাংশই মেস, হোস্টেল বা বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকে। এ ছাড়া রাজধানীর সরকারি এবং বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাচেলরের সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। পরিবার-পরিজন ছেড়ে মানুষ অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে রাজধানীতে আসে। কিন্তু সাধ্যের ভেতরে কোথাও শান্তিমতো থাকার জন্য জায়গা হয় না।

ব্যাচেলরদের এ দুঃসহ জীবনযাপন থেকে মুক্ত করতে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সরকারি উদ্যোগে রাজধানীকে বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করে ব্যাচেলরদের জন্য আবাসন প্রকল্প হাতে নেওয়া যেতে পারে। শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যাচেলররা পরিচয় নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মাসিক ভিত্তিতে এখানে থাকার সুযোগ পাবে। আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাচেলরদের জন্য যেমন থাকার ব্যবস্থা দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে যদি মেস নগরী গড়ে তোলা যায়; তবে ব্যাচেলরদের জীবনযাপন অনেকটাই সহজ হবে।

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

ব্যাচেলরনামা

 নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী ঢাকা শহরকে বলা হয় ভাগ্য পরিবর্তনের শহর। প্রতি বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির উদ্দেশে রাজধানীতে আসে। কিন্তু আসার পরেই বড় ভোগান্তিতে পড়তে হয় থাকার জায়গা নিয়ে। বাড়িওয়ালা ব্যাচেলরদের কাছে বাসা ভাড়া দিতেই চান না। দিলেও তার সংখ্যা সীমিত। নানা রকম শর্ত মেনে ভাড়া বেশি দিয়ে বাসায় উঠতে হয় ব্যাচেলরদের। এ ছাড়া থাকার জন্য শহরের মেস বা হোস্টেলের অবস্থা ভয়াবহ নাজুক। বাংলাদেশ মেস অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে, ঢাকায় প্রায় ১৫ লাখ মেস রয়েছে। তবে দুঃখজনক সত্য হচ্ছে যে, এসব মেসে থাকার জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই। খাবারের মানও নিুমানের। অথচ টাকার পরিমাণ নেওয়া হয় বেশি।

সারা দিন কর্মচঞ্চল দিন শেষে মানুষের শান্তির জায়গা হচ্ছে তার থাকার ঘর। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গাদাগাদি করে মেসে থেকে সেই মানসিক শান্তি পায় না একজন ব্যাচেলর। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পড়তে আসা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাত্র ১০-১৫ শতাংশ হলে বা ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ পায়। আর বাকি ৮৫-৯০ শতাংশই মেস, হোস্টেল বা বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকে। এ ছাড়া রাজধানীর সরকারি এবং বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাচেলরের সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। পরিবার-পরিজন ছেড়ে মানুষ অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে রাজধানীতে আসে। কিন্তু সাধ্যের ভেতরে কোথাও শান্তিমতো থাকার জন্য জায়গা হয় না।

ব্যাচেলরদের এ দুঃসহ জীবনযাপন থেকে মুক্ত করতে যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সরকারি উদ্যোগে রাজধানীকে বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করে ব্যাচেলরদের জন্য আবাসন প্রকল্প হাতে নেওয়া যেতে পারে। শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যাচেলররা পরিচয় নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মাসিক ভিত্তিতে এখানে থাকার সুযোগ পাবে। আধুনিক বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাচেলরদের জন্য যেমন থাকার ব্যবস্থা দেখা যায়, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে যদি মেস নগরী গড়ে তোলা যায়; তবে ব্যাচেলরদের জীবনযাপন অনেকটাই সহজ হবে।

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা