পাহাড় কাটা বন্ধ করুন
jugantor
পাহাড় কাটা বন্ধ করুন

  রিপন চন্দ্র পাল  

১০ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মানুষ এখন নানামুখী চিন্তা-ভাবনা করতে পারে; জানতে ও দেখতে পারে। আর সেভাবেই এখন সবাই নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করে ও সেসব অন্বেষণ করতে চায়। সেই অন্বেষণের পাল্লায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ আর এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে পরিবেশের প্রতিটি স্তরের প্রাণী, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের। চট্টগ্রাম অঞ্চল পুরোটাই কমবেশি পাহাড়ে ঘেরা। সেই ১৭৬০ সাল থেকেই এ শহর তৈরির জন্য পাহাড় কাটা শুরু হয়। তখন থেকে অদ্যাবধি পাহাড় কাটা চলছে। ফলে বর্ষাকাল এলেই এখানে পাহাড় ধসে অনেক হতাহতের খবর পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অনেকে এখন পাহাড় দখল করে ইটভাটাসহ নানা রকম স্থাপনা তৈরিতে ব্যস্ত। এমন কী বেআইনিভাবে পাহাড় কেটে সমান করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ পেয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে সুবিধাবাদী মহল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, গত তিন দশকে চট্টগ্রাম নগরীতে শতাধিক পাহাড় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসব পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে আবাসন। নগরীতে বর্তমানে টিকে রয়েছে মাত্র ৮৬টি পাহাড়। তবে এগুলোর অস্তিত্বও বিপন্ন। এ ৮৬টি পাহাড়ের মধ্যে অক্ষত রয়েছে মাত্র ১৩টি। অবশিষ্ট ৭৩টি পাহাড় কেটে আবাসনসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের পাঁয়তারা চলছে। প্রায় ৫০টি পাহাড়ের ওপরে-নিচে ও আশপাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ৯০৭টি বস্তি।

প্রতিনিয়ত পাহাড় ধংসের ফলে বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। অনেক রকমের গাছপালা, পশু-পাখি আজ বিলুপ্তির মুখে। পাহাড় ধংসের সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রজাতির গাছ বিলীন হওয়ায় মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে ও বিষাক্ত কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বায়ুমণ্ডলেও।

পাহাড় ধ্বংসের অপকর্ম থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। প্রত্যেক মানুষকেই তার বিবেকবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে। ধ্বংস হওয়া পাহাড় ফিরিয়ে আনা যাবে না সত্য; তবে যে পরিমাণ গাছ নিধন করা হয়েছে, এর বিপরীতে দ্বিগুণ বৃক্ষরোপণের মনমানসিকতা সবার মাঝে গড়ে ওঠা দরকার। দেশ প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সবকিছু বিনির্মাণের পর স্বাভাবিকভাবেই আমরা একটা ভালো পরিবেশ খুঁজতে থাকব। এজন্যই ভালো একটা পরিবেশ আমাদের প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পাহাড় কাটা বন্ধ করুন

 রিপন চন্দ্র পাল 
১০ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মানুষ এখন নানামুখী চিন্তা-ভাবনা করতে পারে; জানতে ও দেখতে পারে। আর সেভাবেই এখন সবাই নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করে ও সেসব অন্বেষণ করতে চায়। সেই অন্বেষণের পাল্লায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ আর এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে পরিবেশের প্রতিটি স্তরের প্রাণী, বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের। চট্টগ্রাম অঞ্চল পুরোটাই কমবেশি পাহাড়ে ঘেরা। সেই ১৭৬০ সাল থেকেই এ শহর তৈরির জন্য পাহাড় কাটা শুরু হয়। তখন থেকে অদ্যাবধি পাহাড় কাটা চলছে। ফলে বর্ষাকাল এলেই এখানে পাহাড় ধসে অনেক হতাহতের খবর পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় অনেকে এখন পাহাড় দখল করে ইটভাটাসহ নানা রকম স্থাপনা তৈরিতে ব্যস্ত। এমন কী বেআইনিভাবে পাহাড় কেটে সমান করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ পেয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে সুবিধাবাদী মহল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, গত তিন দশকে চট্টগ্রাম নগরীতে শতাধিক পাহাড় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসব পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে আবাসন। নগরীতে বর্তমানে টিকে রয়েছে মাত্র ৮৬টি পাহাড়। তবে এগুলোর অস্তিত্বও বিপন্ন। এ ৮৬টি পাহাড়ের মধ্যে অক্ষত রয়েছে মাত্র ১৩টি। অবশিষ্ট ৭৩টি পাহাড় কেটে আবাসনসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের পাঁয়তারা চলছে। প্রায় ৫০টি পাহাড়ের ওপরে-নিচে ও আশপাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ৯০৭টি বস্তি।

প্রতিনিয়ত পাহাড় ধংসের ফলে বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। অনেক রকমের গাছপালা, পশু-পাখি আজ বিলুপ্তির মুখে। পাহাড় ধংসের সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রজাতির গাছ বিলীন হওয়ায় মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে ও বিষাক্ত কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বায়ুমণ্ডলেও।

পাহাড় ধ্বংসের অপকর্ম থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। প্রত্যেক মানুষকেই তার বিবেকবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে। ধ্বংস হওয়া পাহাড় ফিরিয়ে আনা যাবে না সত্য; তবে যে পরিমাণ গাছ নিধন করা হয়েছে, এর বিপরীতে দ্বিগুণ বৃক্ষরোপণের মনমানসিকতা সবার মাঝে গড়ে ওঠা দরকার। দেশ প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সবকিছু বিনির্মাণের পর স্বাভাবিকভাবেই আমরা একটা ভালো পরিবেশ খুঁজতে থাকব। এজন্যই ভালো একটা পরিবেশ আমাদের প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন