যা না করে বৈদ্যে তাই করে পথ্যে...
jugantor
যা না করে বৈদ্যে তাই করে পথ্যে...

  রঞ্জন কুমার সরকার  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘যা না করে বৈদ্যে, তাই করে পথ্যে’ বচনটি পুরোপুরি সঠিক। আমরা প্রায়ই বুঝে না বুঝে এলোমেলোভাবে খাবার গ্রহণ করে নানারকম রোগে ভুগছি। দিনে একটা ওষুধ সেবন করেন না, এমন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। অথচ নিজেদের সামান্য অভ্যাসগত পরিবর্তন কিংবা সচেতনতায় এসব রোগবালাই অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সুস্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি হলো খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা হতে কিছু মুখরোচক খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাবার যুক্ত করতে পারলে অনেকাংশে নীরোগ থাকা সম্ভব। তেলে ভাজা জিনিসপত্র, লবণ, চিনি, অতিরিক্ত ঝাল-মসলা ইত্যাদি খাবার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি করে যুক্ত করতে হবে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশ সমৃদ্ধ খাবার। পরিমিত আহার ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। আসুন, জেনে নিই কেমন হওয়া উচিত আমাদের খাদ্যাভ্যাস।

সকালে পেট ভরে খান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সকালের খাবার আপনার মেদ বাড়াবে না; বরং সারা দিনের শক্তি জোগাবে। সকালে পেটভরে খেলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা থেকে অনেকাংশে রেহাই পাবেন। ডায়াবেটিক রোগী, যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান; তারা কিছু কাঁচা বাদাম (দেশি বাদাম, কাজু বাদাম বা কাঠ বাদাম) খেতে পারেন। এতে ক্ষুধা কমে যাবে ও শক্তি সঞ্চয় হবে। সকালে নাস্তার পর এক কাপ দুধ ও একটি কলা খেতে পারলে ভালো। কলায় পটাশিয়াম ও আয়রন রয়েছে-যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করে।

দুপুরে পরিমিত খাবার খান। লক্ষ্য রাখবেন, খাবারে যেন যথেষ্ট পরিপাকযোগ্য আঁশ (Digestive Fibre) থাকে। পরিপাকযোগ্য আঁশ বলতে শাক ও আঁশযুক্ত খাবার বোঝায়। এসব খাবার থেকে কোনো শক্তি মেলে না। তবে এরা অন্ত্র পরিষ্কার করার কাজ করে এবং কলোস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। ফলে রক্তে কলোস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। খাবারের সঙ্গে রসুন (কাঁচা বা রান্না) খাওয়া দরকার। রসুন কলোস্টেরল জমতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। খাবার যেটাই গ্রহণ করি না কেন, ভেবে দেখতে হবে-আসলে কী খাচ্ছি, সর্বশেষ কোন রূপে তা শরীরে জমছে? খাবারে কাঁচা পেঁপে ও করলাকে স্থান দিন। কাঁচা পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন থাকে, যা হজমে সহায়তা করে।

নিয়মিত প্রোটিন খান। ডিম, মাছ, মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস। অনেকেই ভুল ধারণা রাখেন-প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে মুটিয়ে যাবেন। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষ মোটা হয় না; মোটা হয় শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে। ভাত যত বেশি খাবেন, তত মুটিয়ে যাবেন। ডিম খেলে মুটিয়ে যাবেন না। মাংস নির্বাচনের ক্ষেত্রে চর্বিবিহীন মাংস বা চর্বি কম এমন মাংস যেমন-মুরগির মাংস খান। প্রচুর সামুদ্রিক মাছ খান। মাছে অনেক উপকারী অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড, খনিজ ও রোগ প্রতিরোধক উপাদান থাকে। তবে রেডমিট পরিহার করতে হবে।

নিয়মিত মৌসুমি ফল-ফলাদি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপেলের চেয়ে আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়ারার পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বর্তমানে সারা বছর পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে। পেয়ারার দামও হাতের নাগালে। তাছাড়া এগুলো ব্যাগিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত হওয়ায় সম্পূর্ণ নিরাপদ। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কুল, মাল্টা (দেশি), পেঁপে ইত্যাদি দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিদেশি ফলের পরিবর্তে মৌসুমের সময় বেশি বেশি দেশি ফল খান। তাছাড়া টমেটো ও গাজর সবজি দুটি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দেহের জন্য উপকারী। এগুলো দেহে ক্যানসার সেল তৈরিতে বাধাদান করে। গাজরের বিটাক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া আমলকী, জলপাই, তেঁতুল এসব দেশীয় ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ।

বিভিন্ন মাদক, ধূমপান, জর্দা, গুল থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। নিকোটিন বিষের আঁধার। তামাক আমাদের উচ্চরক্তচাপ, অ্যালার্জি, ক্যানসারসহ বহু রোগে ভোগাবে। বেশি তৈলাক্ত ও লবণাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকুন। খাবারের সময় কাঁচা লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে উচ্চরক্তচাপের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া পেঁয়াজু, পুড়ি, বুইন্দা, চিকেনফ্রাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্রাইড/ফাস্টফুড আইটেম গ্রহণ হতে বিরত থাকুন। এসব খাবার যে তেল দিয়ে ভাজা হয়, অধিক তাপে এ তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এসব খাবার গ্রহণে তাৎক্ষণিক বমি, ডায়রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। রান্নায় সম্ভব হলে অলিভ অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করুন। তাছাড়া দেশীয় সরিষার তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অতি অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে ইরোসিক এসিডমুক্ত সরিষার জাত উদ্ভাবিত হয়েছে; ফলে এ ধরনের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, বারবার তাপে ফুটন্ত তেল পরে রান্নায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিভিন্ন কোমলপানীয়/সফটড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। সফটড্রিংকসে মাত্রাতিরিক্ত চিনি ব্যবহৃত হয়, যা দাঁত ও প্যানক্রিয়াসের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে ডাবের পানি বা লাল চা পান করুন। আখের রস ও দেশি আখের গুড় বা চিনি গ্রহণ করা নিরাপদ, তবে পরিমিত খেতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। ভাতের চাল নির্বাচনে সম্ভব হলে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল, জিংক বা আয়রন সমৃদ্ধ চাল, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কম জিআই (Glycemic Index) সমৃদ্ধ চাল খেতে পারেন। আর দেশীয় গম সরাসরি ভাঙিয়ে আটা প্রস্তুত করে নিতে পারলে অনেকাংশে ভেজালমুক্ত থাকা সম্ভব।

রাতে কম খেতে হবে। গভীর রাতে খাওয়া পরিহার করুন। খাওয়ার পরপরই শোয়া যাবে না। খাবার পর একটু হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। রাত জাগা বা অধিক রাতে ঘুমানো এবং দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা পরিহার করুন। উপযুক্ত বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্থ জাতি ও উন্নত দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অটুট থাকুক, এটাই প্রত্যাশা।

প্রকৌশলী, ডিজিএম, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১

যা না করে বৈদ্যে তাই করে পথ্যে...

 রঞ্জন কুমার সরকার 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘যা না করে বৈদ্যে, তাই করে পথ্যে’ বচনটি পুরোপুরি সঠিক। আমরা প্রায়ই বুঝে না বুঝে এলোমেলোভাবে খাবার গ্রহণ করে নানারকম রোগে ভুগছি। দিনে একটা ওষুধ সেবন করেন না, এমন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। অথচ নিজেদের সামান্য অভ্যাসগত পরিবর্তন কিংবা সচেতনতায় এসব রোগবালাই অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

সুস্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি হলো খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা হতে কিছু মুখরোচক খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাবার যুক্ত করতে পারলে অনেকাংশে নীরোগ থাকা সম্ভব। তেলে ভাজা জিনিসপত্র, লবণ, চিনি, অতিরিক্ত ঝাল-মসলা ইত্যাদি খাবার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি বেশি বেশি করে যুক্ত করতে হবে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশ সমৃদ্ধ খাবার। পরিমিত আহার ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। আসুন, জেনে নিই কেমন হওয়া উচিত আমাদের খাদ্যাভ্যাস।

সকালে পেট ভরে খান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সকালের খাবার আপনার মেদ বাড়াবে না; বরং সারা দিনের শক্তি জোগাবে। সকালে পেটভরে খেলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা থেকে অনেকাংশে রেহাই পাবেন। ডায়াবেটিক রোগী, যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান; তারা কিছু কাঁচা বাদাম (দেশি বাদাম, কাজু বাদাম বা কাঠ বাদাম) খেতে পারেন। এতে ক্ষুধা কমে যাবে ও শক্তি সঞ্চয় হবে। সকালে নাস্তার পর এক কাপ দুধ ও একটি কলা খেতে পারলে ভালো। কলায় পটাশিয়াম ও আয়রন রয়েছে-যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করে।

দুপুরে পরিমিত খাবার খান। লক্ষ্য রাখবেন, খাবারে যেন যথেষ্ট পরিপাকযোগ্য আঁশ (Digestive Fibre) থাকে। পরিপাকযোগ্য আঁশ বলতে শাক ও আঁশযুক্ত খাবার বোঝায়। এসব খাবার থেকে কোনো শক্তি মেলে না। তবে এরা অন্ত্র পরিষ্কার করার কাজ করে এবং কলোস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। ফলে রক্তে কলোস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। খাবারের সঙ্গে রসুন (কাঁচা বা রান্না) খাওয়া দরকার। রসুন কলোস্টেরল জমতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। খাবার যেটাই গ্রহণ করি না কেন, ভেবে দেখতে হবে-আসলে কী খাচ্ছি, সর্বশেষ কোন রূপে তা শরীরে জমছে? খাবারে কাঁচা পেঁপে ও করলাকে স্থান দিন। কাঁচা পেঁপের মধ্যে প্যাপাইন থাকে, যা হজমে সহায়তা করে।

নিয়মিত প্রোটিন খান। ডিম, মাছ, মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস। অনেকেই ভুল ধারণা রাখেন-প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে মুটিয়ে যাবেন। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষ মোটা হয় না; মোটা হয় শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে। ভাত যত বেশি খাবেন, তত মুটিয়ে যাবেন। ডিম খেলে মুটিয়ে যাবেন না। মাংস নির্বাচনের ক্ষেত্রে চর্বিবিহীন মাংস বা চর্বি কম এমন মাংস যেমন-মুরগির মাংস খান। প্রচুর সামুদ্রিক মাছ খান। মাছে অনেক উপকারী অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড, খনিজ ও রোগ প্রতিরোধক উপাদান থাকে। তবে রেডমিট পরিহার করতে হবে।

নিয়মিত মৌসুমি ফল-ফলাদি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপেলের চেয়ে আমাদের দেশে উৎপাদিত পেয়ারার পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। বর্তমানে সারা বছর পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে। পেয়ারার দামও হাতের নাগালে। তাছাড়া এগুলো ব্যাগিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত হওয়ায় সম্পূর্ণ নিরাপদ। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কুল, মাল্টা (দেশি), পেঁপে ইত্যাদি দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিদেশি ফলের পরিবর্তে মৌসুমের সময় বেশি বেশি দেশি ফল খান। তাছাড়া টমেটো ও গাজর সবজি দুটি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দেহের জন্য উপকারী। এগুলো দেহে ক্যানসার সেল তৈরিতে বাধাদান করে। গাজরের বিটাক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া আমলকী, জলপাই, তেঁতুল এসব দেশীয় ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ।

বিভিন্ন মাদক, ধূমপান, জর্দা, গুল থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। নিকোটিন বিষের আঁধার। তামাক আমাদের উচ্চরক্তচাপ, অ্যালার্জি, ক্যানসারসহ বহু রোগে ভোগাবে। বেশি তৈলাক্ত ও লবণাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকুন। খাবারের সময় কাঁচা লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে উচ্চরক্তচাপের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া পেঁয়াজু, পুড়ি, বুইন্দা, চিকেনফ্রাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফ্রাইড/ফাস্টফুড আইটেম গ্রহণ হতে বিরত থাকুন। এসব খাবার যে তেল দিয়ে ভাজা হয়, অধিক তাপে এ তেলের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এসব খাবার গ্রহণে তাৎক্ষণিক বমি, ডায়রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। রান্নায় সম্ভব হলে অলিভ অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করুন। তাছাড়া দেশীয় সরিষার তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অতি অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে ইরোসিক এসিডমুক্ত সরিষার জাত উদ্ভাবিত হয়েছে; ফলে এ ধরনের তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, বারবার তাপে ফুটন্ত তেল পরে রান্নায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিভিন্ন কোমলপানীয়/সফটড্রিংকস ও এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। সফটড্রিংকসে মাত্রাতিরিক্ত চিনি ব্যবহৃত হয়, যা দাঁত ও প্যানক্রিয়াসের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে ডাবের পানি বা লাল চা পান করুন। আখের রস ও দেশি আখের গুড় বা চিনি গ্রহণ করা নিরাপদ, তবে পরিমিত খেতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। ভাতের চাল নির্বাচনে সম্ভব হলে ঢেঁকি ছাঁটা লাল চাল, জিংক বা আয়রন সমৃদ্ধ চাল, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কম জিআই (Glycemic Index) সমৃদ্ধ চাল খেতে পারেন। আর দেশীয় গম সরাসরি ভাঙিয়ে আটা প্রস্তুত করে নিতে পারলে অনেকাংশে ভেজালমুক্ত থাকা সম্ভব।

রাতে কম খেতে হবে। গভীর রাতে খাওয়া পরিহার করুন। খাওয়ার পরপরই শোয়া যাবে না। খাবার পর একটু হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। রাত জাগা বা অধিক রাতে ঘুমানো এবং দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা পরিহার করুন। উপযুক্ত বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্থ জাতি ও উন্নত দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অটুট থাকুক, এটাই প্রত্যাশা।

প্রকৌশলী, ডিজিএম, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন