এনআইডিতে ভুলের দায় কার?
jugantor
এনআইডিতে ভুলের দায় কার?

  কাজী সুলতানুল আরেফিন  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এনআইডিতে ভুলের দায় কার?

জাতীয় পরিচয়পত্রে অনেকের জন্মতারিখ কিংবা নামে ভুল থাকে। কারও কারও স্বামীর নাম, পিতার নাম বা মায়ের নামেও ভুল হয়। তবে বেশিরভাগ ভুল দেখা যায় জন্মতারিখের বেলায়। নামের ভুল দেখা যায় বানানে।

এখন কথা হচ্ছে, এ ভুল কার? কারণ, প্রত্যেক নাগরিকের যেখানে জন্মসনদ রয়েছে, সে হিসাবে নিজের জন্মতারিখ কেউ ভুল দেওয়ার কথা নয়। এ ভুলগুলো হয়েছে, যে তথ্য সংগ্রহ করেছে তার বা যে তথ্য টাইপ করছে তার। আবার ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ও হতে পারে।

কেউ হয়তো বলতে পারেন, তথ্য প্রদানকারী নিজেও ভুল তথ্য দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন এসে যায়, তথ্য যাচাই করা হলো না কেন? এ ক্ষেত্রেও দায় গিয়ে পড়ে কর্তৃপক্ষের ওপর। যেভাবেই হোক-না কেন, অফিশিয়াল ভুলের সম্ভাবনাই বেশি। অথচ এ ভুলের দণ্ড দিতে হয় নাগরিকদের। কিন্তু কেন? নিরাপরাধ হয়েও শাস্তি পাওয়ার অন্যতম উদাহরণ হলো জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল। যার জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকে, তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। আবার জরিমানা দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার পরও যদি ত্বরিত সমাধান হতো, একটা কথা ছিল। এ নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়। হয়রানি হতে হয়। এখন অনলাইনে আবেদনের কিছু পন্থা এসেছে, যা খুবই ঝামেলাপূর্ণ ও প্যাঁচানো। অনলাইনে ফি দিয়ে আবেদন করে সমস্যার সমাধান না-হওয়ার পাল্লাই অধিক ভারী।

আবার এনালগ এনআইডিতে সবকিছু ঠিক থাকার পরও স্মার্টকার্ডে অনেকের তথ্যই ভুল এসেছে। এসব ভুলের দায়ভার কেন একজন নাগরিককে নিতে হবে? নাগরিকরা নির্ভুল এনআইডি পাওয়ার অধিকার রাখে। এ সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা। অথচ সেবা পেতে হয়রানির শিকার হওয়ার কারণে অনেক নাগরিক অসাধু পন্থায় এসব কাজ করতে বাধ্য হয়! অনেকে তো দিব্যি ‘দুই নম্বরি’ পরিচয়পত্র দিয়েও সবকিছু চালিয়ে নিচ্ছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুলের দায় কাঁধে নিয়ে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

Arefin.feni99@gmail.com

এনআইডিতে ভুলের দায় কার?

 কাজী সুলতানুল আরেফিন 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এনআইডিতে ভুলের দায় কার?
প্রতীকী ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্রে অনেকের জন্মতারিখ কিংবা নামে ভুল থাকে। কারও কারও স্বামীর নাম, পিতার নাম বা মায়ের নামেও ভুল হয়। তবে বেশিরভাগ ভুল দেখা যায় জন্মতারিখের বেলায়। নামের ভুল দেখা যায় বানানে।

এখন কথা হচ্ছে, এ ভুল কার? কারণ, প্রত্যেক নাগরিকের যেখানে জন্মসনদ রয়েছে, সে হিসাবে নিজের জন্মতারিখ কেউ ভুল দেওয়ার কথা নয়। এ ভুলগুলো হয়েছে, যে তথ্য সংগ্রহ করেছে তার বা যে তথ্য টাইপ করছে তার। আবার ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ও হতে পারে।

কেউ হয়তো বলতে পারেন, তথ্য প্রদানকারী নিজেও ভুল তথ্য দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন এসে যায়, তথ্য যাচাই করা হলো না কেন? এ ক্ষেত্রেও দায় গিয়ে পড়ে কর্তৃপক্ষের ওপর। যেভাবেই হোক-না কেন, অফিশিয়াল ভুলের সম্ভাবনাই বেশি। অথচ এ ভুলের দণ্ড দিতে হয় নাগরিকদের। কিন্তু কেন? নিরাপরাধ হয়েও শাস্তি পাওয়ার অন্যতম উদাহরণ হলো জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল। যার জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকে, তাকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। আবার জরিমানা দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার পরও যদি ত্বরিত সমাধান হতো, একটা কথা ছিল। এ নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়। হয়রানি হতে হয়। এখন অনলাইনে আবেদনের কিছু পন্থা এসেছে, যা খুবই ঝামেলাপূর্ণ ও প্যাঁচানো। অনলাইনে ফি দিয়ে আবেদন করে সমস্যার সমাধান না-হওয়ার পাল্লাই অধিক ভারী।

আবার এনালগ এনআইডিতে সবকিছু ঠিক থাকার পরও স্মার্টকার্ডে অনেকের তথ্যই ভুল এসেছে। এসব ভুলের দায়ভার কেন একজন নাগরিককে নিতে হবে? নাগরিকরা নির্ভুল এনআইডি পাওয়ার অধিকার রাখে। এ সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কথা। অথচ সেবা পেতে হয়রানির শিকার হওয়ার কারণে অনেক নাগরিক অসাধু পন্থায় এসব কাজ করতে বাধ্য হয়! অনেকে তো দিব্যি ‘দুই নম্বরি’ পরিচয়পত্র দিয়েও সবকিছু চালিয়ে নিচ্ছে। আশা করি, কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুলের দায় কাঁধে নিয়ে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

Arefin.feni99@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন