‘সাংবাদিক সিন্ডিকেট’-এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বোয়ালমারীবাসী
jugantor
‘সাংবাদিক সিন্ডিকেট’-এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বোয়ালমারীবাসী

  বেলায়েত হুসাইন  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা জানি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং একে অনেকে সমাজের দর্পণ আখ্যায়িত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের এ যুগে সাংবাদিকতায় ঝুঁকছে প্রচুর মানুষ। পত্রপত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকের সংখ্যাও বাড়ছে। আগে যেখানে কোনো এলাকায় একজন সাংবাদিক থাকলে তাকে নিয়ে রীতিমতো গর্ব করা হতো; আর এখন যেন মোড়ে মোড়ে সাংবাদিক। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে; মানহীন পত্রিকার অযোগ্য সাংবাদিকে ছেয়ে গেছে গোটা সমাজ।

পত্রিকার মানের দিকে যেমন খেয়াল নেই, সাংবাদিক বাছাইয়েও কোনো তাগাদা নেই। আমার উপজেলা শহর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কয়েকডজন সাংবাদিক রয়েছেন। মূলধারার সাংবাদিকদের চেয়ে কিছু ভুঁইফোঁড় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের প্রসিদ্ধি এবং তাণ্ডব এখানে বেশি। তারা সাংবাদিকতা করতে সংবাদমাধ্যমে আসেনি; বরং অবৈধ পন্থায় পয়সা উপার্জন ও সাধারণ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করতে এ পেশায় ঢুকেছে। এলাকার মাদক, চাঁদাবাজি, অনৈতিকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা খুব কমই মাঠে নামে। বেশিরভাগ সময় তারা অপেক্ষায় থাকে, কখন কোন গরিব কৃষক নিজের জমিসংলগ্ন রাস্তার পাশের গাছ কাটে; কে তার কম বয়সি মেয়েকে বিয়ে দেয়; ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে কারা বালি উত্তোলন করে ইত্যাদি। যখন এরকম ঘটনা ঘটে, তখনই তারা বিশাল বপু নিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের টাকা দিলে অনেকটা নিশ্চিন্তে এ কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়। অবস্থাটা এমন, যেন তারাই প্রশাসন। আবার এরূপ কোনো ঘটনায় যদি লেনদেন কম হয়, তাহলে অজ্ঞাত নম্বর থেকে পুলিশকে ফোন দিয়ে ফের এলাকাবাসীকে হয়রানি করে।

আমি প্রথমসারির গণমাধ্যমের একাধিক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারাও এসব অপসাংবাদিকতায় অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারাও এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, ব্যক্তি পর্যায়ে বিরোধিতা করে তাদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই আমি বোয়ালমারীর প্রশাসন ও কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে অতি দ্রুত এ ‘সাংবাদিক সিন্ডিকেট’কে প্রতিহত করা হয়।

দাদপুর, চিতার বাজার, বোয়ালমারী, ফরিদপুর

‘সাংবাদিক সিন্ডিকেট’-এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ বোয়ালমারীবাসী

 বেলায়েত হুসাইন 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা জানি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং একে অনেকে সমাজের দর্পণ আখ্যায়িত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের এ যুগে সাংবাদিকতায় ঝুঁকছে প্রচুর মানুষ। পত্রপত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকের সংখ্যাও বাড়ছে। আগে যেখানে কোনো এলাকায় একজন সাংবাদিক থাকলে তাকে নিয়ে রীতিমতো গর্ব করা হতো; আর এখন যেন মোড়ে মোড়ে সাংবাদিক। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে; মানহীন পত্রিকার অযোগ্য সাংবাদিকে ছেয়ে গেছে গোটা সমাজ।

পত্রিকার মানের দিকে যেমন খেয়াল নেই, সাংবাদিক বাছাইয়েও কোনো তাগাদা নেই। আমার উপজেলা শহর ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কয়েকডজন সাংবাদিক রয়েছেন। মূলধারার সাংবাদিকদের চেয়ে কিছু ভুঁইফোঁড় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের প্রসিদ্ধি এবং তাণ্ডব এখানে বেশি। তারা সাংবাদিকতা করতে সংবাদমাধ্যমে আসেনি; বরং অবৈধ পন্থায় পয়সা উপার্জন ও সাধারণ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করতে এ পেশায় ঢুকেছে। এলাকার মাদক, চাঁদাবাজি, অনৈতিকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা খুব কমই মাঠে নামে। বেশিরভাগ সময় তারা অপেক্ষায় থাকে, কখন কোন গরিব কৃষক নিজের জমিসংলগ্ন রাস্তার পাশের গাছ কাটে; কে তার কম বয়সি মেয়েকে বিয়ে দেয়; ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে কারা বালি উত্তোলন করে ইত্যাদি। যখন এরকম ঘটনা ঘটে, তখনই তারা বিশাল বপু নিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের টাকা দিলে অনেকটা নিশ্চিন্তে এ কাজগুলো সম্পন্ন করা যায়। অবস্থাটা এমন, যেন তারাই প্রশাসন। আবার এরূপ কোনো ঘটনায় যদি লেনদেন কম হয়, তাহলে অজ্ঞাত নম্বর থেকে পুলিশকে ফোন দিয়ে ফের এলাকাবাসীকে হয়রানি করে।

আমি প্রথমসারির গণমাধ্যমের একাধিক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তারাও এসব অপসাংবাদিকতায় অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারাও এদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, ব্যক্তি পর্যায়ে বিরোধিতা করে তাদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই আমি বোয়ালমারীর প্রশাসন ও কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে অতি দ্রুত এ ‘সাংবাদিক সিন্ডিকেট’কে প্রতিহত করা হয়।

দাদপুর, চিতার বাজার, বোয়ালমারী, ফরিদপুর

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন