অবহেলায় মৃতপ্রায় চলনবিলের নদী
jugantor
অবহেলায় মৃতপ্রায় চলনবিলের নদী

  ফাত্তাহ তানভীর রানা  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১২ এপ্রিল ২০২১ যুগান্তর পত্রিকায় ‘নদী খননে অনিয়ম দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’ শীর্ষক সম্পাদকীয় এবং যুগান্তর পত্রিকায় গত ১১ এপ্রিল ২০২১ ‘খননে অনিয়ম অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিলের নদী’ সংবাদটি আমার নজর কাড়ে। সম্পাদকীয় ও সংবাদটি পড়ে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি! নদী খননে প্রকাশ্য দিবালোকে অনিয়ম চলছে আর আমরা নির্বাক দর্শক! আমাদের কি করার কিছুই নেই? চলনবিলের মধ্যদিয়ে বেশ কয়েকটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: করতোয়া, আত্রাই, গুড়, গুমানী, নারদ, হুরাসাগর, বাংগালী, বড়াল, মরা বড়াল, নন্দকুঁজা, তুলসী, ভাদাই, চিকনাই, বরোনই, মুসা খাঁ, তেলকুপি ইত্যাদি। এ নদীগুলোকে ঘিরেই এক সময় গড়ে উঠেছিল বাঘাবাড়ী, কলম, গুরুদাসপুর, নলডাঙ্গা, আহসানগঞ্জ, মির্জাপুর, ভাঙ্গুড়া, বড়াল ব্রিজ, ফরিদপুর, গোবিন্দপুর ঘাট, সিংড়া, চাঁচকৈড়, বিলদহর, হালসা, দয়রামপুর, নাজিরপুর, ছাইকোলা-এর মতো বড় বড় বাজার। চলত রমরমা ব্যবসা। সেই সময় নদীতে বছরজুড়েই পানি থাকত। বাজারগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালোই চলত। বছরের-পর-বছর পলি পড়ে আর ড্রেজিং না-করার কারণে নদী এখন খালে পরিণত হওয়ার পথে। সবার অবহেলায় চলনবিলের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। প্রকাশ্যেই তিলে তিলে এসব নদীর মৃত্যু ঘটছে। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের ২০১৯ সালের একটি রায়ে দেশের নদীগুলোকে জুরিসটিক পার্সন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় রক্ষার অভিভাবক। নদীগুলোকে জুরিসটিক পার্সন হিসাবে ঘোষণা করার পর নদ-নদী রক্ষায় আদালতেরও ভূমিকা বেড়েছে। চলনবিলের নদীগুলোর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দূষণ-দখল প্রতিরোধ করাসহ কলকারখানার বর্জ্য যেন নদীর পানিতে না-মিশতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।

গল্পকার ও কবি

অবহেলায় মৃতপ্রায় চলনবিলের নদী

 ফাত্তাহ তানভীর রানা 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১২ এপ্রিল ২০২১ যুগান্তর পত্রিকায় ‘নদী খননে অনিয়ম দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’ শীর্ষক সম্পাদকীয় এবং যুগান্তর পত্রিকায় গত ১১ এপ্রিল ২০২১ ‘খননে অনিয়ম অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিলের নদী’ সংবাদটি আমার নজর কাড়ে। সম্পাদকীয় ও সংবাদটি পড়ে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি! নদী খননে প্রকাশ্য দিবালোকে অনিয়ম চলছে আর আমরা নির্বাক দর্শক! আমাদের কি করার কিছুই নেই? চলনবিলের মধ্যদিয়ে বেশ কয়েকটি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: করতোয়া, আত্রাই, গুড়, গুমানী, নারদ, হুরাসাগর, বাংগালী, বড়াল, মরা বড়াল, নন্দকুঁজা, তুলসী, ভাদাই, চিকনাই, বরোনই, মুসা খাঁ, তেলকুপি ইত্যাদি। এ নদীগুলোকে ঘিরেই এক সময় গড়ে উঠেছিল বাঘাবাড়ী, কলম, গুরুদাসপুর, নলডাঙ্গা, আহসানগঞ্জ, মির্জাপুর, ভাঙ্গুড়া, বড়াল ব্রিজ, ফরিদপুর, গোবিন্দপুর ঘাট, সিংড়া, চাঁচকৈড়, বিলদহর, হালসা, দয়রামপুর, নাজিরপুর, ছাইকোলা-এর মতো বড় বড় বাজার। চলত রমরমা ব্যবসা। সেই সময় নদীতে বছরজুড়েই পানি থাকত। বাজারগুলোয় ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালোই চলত। বছরের-পর-বছর পলি পড়ে আর ড্রেজিং না-করার কারণে নদী এখন খালে পরিণত হওয়ার পথে। সবার অবহেলায় চলনবিলের নদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। প্রকাশ্যেই তিলে তিলে এসব নদীর মৃত্যু ঘটছে। বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের ২০১৯ সালের একটি রায়ে দেশের নদীগুলোকে জুরিসটিক পার্সন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় রক্ষার অভিভাবক। নদীগুলোকে জুরিসটিক পার্সন হিসাবে ঘোষণা করার পর নদ-নদী রক্ষায় আদালতেরও ভূমিকা বেড়েছে। চলনবিলের নদীগুলোর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দূষণ-দখল প্রতিরোধ করাসহ কলকারখানার বর্জ্য যেন নদীর পানিতে না-মিশতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত।

গল্পকার ও কবি

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন