বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অবারিত না হলে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে
jugantor
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২১
বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অবারিত না হলে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে

  রেবেকা সুলতানা  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একজন উন্নয়নকর্মী হিসাবে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অংশ হিসাবে আমার লম্বা সময় কেটেছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কাজে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আইনগত সহায়তাপ্রাপ্তির একটি সেতুবন্ধ তৈরির প্রচেষ্টায়।

তাই জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালনের সময় এলে এ আইনটি নিয়ে লিখতে একধরনের তাগিদ অনুভব করি। জনগণকে আইনগত অধিকার বিষয়ে সচেতন করা, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমটি আরও কার্যকর ও গতিশীল করা, বিস্তৃত পরিসরে আইনের দরজায় প্রবেশাধিকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই মূলত সরকারি-বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রথবারের মতো সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ কার্যকরের তারিখ ২৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ ঘোষণা করে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও), বিশেষ করে যারা আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ নিয়ে কাজ করে এবং আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন থেকেই এ ধরনের একটি দাবি উত্থাপন করা হচ্ছিল, যেন আইনগত সহায়তা দিবস পালনের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ প্রেক্ষাপটেই ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এবার আলোচনা করা যাক, কেন এ দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আইনগত সহায়তা প্রদান আইনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ সেসব বিষয়ে। যদিও আমি আইনের শিক্ষার্থী নই; তদুপরি সমাজকর্মের একজন শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মী হিসাবে এটুকু অনুধাবন করি-ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার একটি অন্যতম মানবাধিকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় ভাগের ২৭ অনুচ্ছদে বলা হয়েছে, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

এমনকি ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় অধিকার সম্পর্কিত ২৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে, যার অন্তত ৬টি অনুচ্ছেদে বিচারের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর তাই বঞ্চনার শিকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’।

এ আইনের আওতায় বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। প্রতিটি জেলায় রয়েছে এর জেলা কমিটি এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে আইনগত সহায়তা কমিটি। এ আইনের মাধ্যমে কমিটিগুলোর লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

এ পর্যায়ে আইনটি সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা যাক; ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’-এর ২(ক) উপধারা অনুযায়ী আইনগত সহায়তা অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথবা নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে ন্যায়বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে আইনি সহায়তা প্রদান করা। যেমন: কোনো আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান কিংবা মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদান; যে কোনো অসচ্ছল ব্যক্তি, যার বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয়; কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম বা কর্মহীন মুক্তিযোদ্ধা, যার বার্ষিক গড় আয় দেড় লাখ টাকার বেশি নয়; বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি; ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মা; অসচ্ছল, পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশু; দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু; উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় বিধবা; স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী; আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম ব্যক্তি; প্রতিবন্ধী; বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি, যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘অসচ্ছল’ ও আদালত কর্তৃক ঘোষিত ‘অসচ্ছল’ ব্যক্তি এ আইনের আওতায় আইনি সহায়তা পাবেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

সাধারণত স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে, স্বামী শারীরিক নির্যাতন করলে, যৌতুক দাবি বা যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, পাচার, অপহরণ, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আটক বা গ্রেফতার সংক্রান্ত যে কোনো ফৌজদারি মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া দেওয়ানি মামলার মধ্যে সন্তানের অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ, দেনমোহর আদায়, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, দলিল বাতিল, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তি বণ্টন বা বাঁটোয়ারা, ঘোষণামূলক মামলা ও চুক্তিসংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অবারিত না হলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হবে এবং তা হবে স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘন। সে হিসাবে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ একটি জনগুরুত্বপূর্ণ আইন। জনগুরুত্বপূর্ণ এ আইনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল ব্যক্তিরা বিচারপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের সুবিধা ভোগ করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

তথাপি আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে চলমান কিছু সীমাবদ্ধতা সেবা প্রদানে জটিলতা তৈরি করে। যেসব আবেদনকারী আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে আবেদন করেন, তাদের আবেদনগুলো জেলা কমিটির মাসিক বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।

দেখা গেছে, কোনো দরিদ্র বিচারপ্রার্থী যদি একটি বৈঠক সমাপ্তির পর আবেদন করেন, তবে সেটি অনুমোদনের জন্য পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত অর্থাৎ তাকে পুরো এক মাস অপেক্ষা করতে হয়। যেটি দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটায়। এ আইনটির সুবিধা যদি জনগণ সঠিকভাবে ভোগ করতে না পারে, তবে আইনের কার্যকারিতা হারাবে, একটি কাগুজে আইনে পরিণত হবে। এ আইনের সেবাপ্রদানে যারা কাজ করেন, তাদের যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সেবাপ্রদানকারীদের দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে, অন্যথায় দরিদ্র জনগণ সুফল পাবে না।

মাঠপর্যায়ে এ আইনের প্রচারণা ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সময় ব্যয় করার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি-আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মিত মাসিক সভায় আবেদন গ্রহণ ও আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও মামলা ফাইল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মামলায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়। জেলা কমিটি আইনগত সহায়তার জন্য প্রাপ্ত আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলা নিয়মিতভাবে ফলোআপের কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। সেবাগ্রহীতারা এসব ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হয়।

জেলা পর্যায়ে সরকারি আইনগত সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে করা মামলাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো পর্যবেক্ষণ সেল নেই। এ আইনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হলেও আর্থিক অসামর্থ্যরে কারণে একজন দরিদ্র ব্যক্তির পক্ষে মামলার তারিখে তারিখে হাজিরা প্রদান, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না বিধায় একটা সময়ে এসে মামলাগুলো স্থবির হয়ে যায় এবং দরিদ্র মানুষের বিচারপ্রাপ্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

এরূপ ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা প্রদান, আইনের আওতায় পরিচালিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সেবাপ্রার্থী ও সাক্ষীদের যাতায়াত ব্যয় প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জেলা কমিটি এবং আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিস কক্ষ থাকলেও জনবল সংকট রয়েছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি যথাযথ মনিটরিং সিস্টেম তৈরির কোনো বিকল্প এক্ষেত্রে নেই।

তাছাড়া মামলা চলাকালীন বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে আইনজীবীর মামলা সংক্রান্ত বিষয় যেমন: মামলার তারিখ, সাক্ষী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ কারণে মামলা পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা প্রদানে নিয়োজিত কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনজীবীর সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সেতুবন্ধ স্থাপন করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ সম্পর্কে এখনো ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করবে।

এ আইনটিকে আরও অধিক কার্যকর করতে ব্যক্তিজীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে পরিশেষে কিছু মতামত তুলে ধরছি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কমিটির মাধ্যমে আইনটির ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো যেতে পারে, যাতে তৃণমূলের মানুষ সরকারি এ সুযোগটি থেকে বঞ্চিত না হয়। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ আইনটি নিয়ে কাজ করে, তাদের কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং সরকারিভাবে তহবিল জোগান দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। আইনজীবী নিয়োগের পর মামলা নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

মামলাগুলো নিয়মিত ফলোআপ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি; কেননা ফলোআপের অভাবে মামলাগুলো একপর্যায়ে থেমে যায়। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের আওতায় পরিচালিত মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য জেলা পর্যায়ে একটি ওয়ানস্টপ হেল্পলাইন চালু করা দরকার।

বিশেষত্ব অনুযায়ী প্যানেল আইনজীবীদের তালিকা বোর্ডে উপস্থাপন করে রাখা প্রয়োজন, যাতে সেবাগ্রহীতা নিজের পছন্দে আইনজীবী নির্ধারণ করতে পারেন। কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংগ্রহ, বিচারপ্রার্থীর আদালতে আসা-যাওয়া, সাক্ষীর যাতায়াত ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ ধরনের বরাদ্দ দরিদ্র মানুষের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ফরম পূরণে সহযোগিতা ও মামলার সত্যতা যাচাইয়ের একটা প্রক্রিয়া তৈরি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইনে বর্ণিত আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি সক্রিয় করা যেতে পারে। সেখান থেকে যেন সহজে তৃণমূলে থাকা দরিদ্র বিচারপ্রার্থী তাদের দায়েরকৃত মামলার তারিখ, নিয়োগকৃত আইনজীবীর নাম, সমন ও মামলার বর্তমান অবস্থা তথা লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত তথ্যাদি পেতে পারে।

পাশাপাশি মামলাগুলো একটি ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আনা হলে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসে মামলার সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে পারবে। আইনগত সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারকে আরও অধিকতর জনমুখী করা সম্ভব এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি উদার কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে স্বপ্ন দেখি।

অনারারি নির্বাহী পরিচালক, অন্যচিত্র বাংলাদেশ

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২১

বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অবারিত না হলে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে

 রেবেকা সুলতানা 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একজন উন্নয়নকর্মী হিসাবে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অংশ হিসাবে আমার লম্বা সময় কেটেছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কাজে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আইনগত সহায়তাপ্রাপ্তির একটি সেতুবন্ধ তৈরির প্রচেষ্টায়।

তাই জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালনের সময় এলে এ আইনটি নিয়ে লিখতে একধরনের তাগিদ অনুভব করি। জনগণকে আইনগত অধিকার বিষয়ে সচেতন করা, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমটি আরও কার্যকর ও গতিশীল করা, বিস্তৃত পরিসরে আইনের দরজায় প্রবেশাধিকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই মূলত সরকারি-বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রথবারের মতো সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ কার্যকরের তারিখ ২৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ ঘোষণা করে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও), বিশেষ করে যারা আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ নিয়ে কাজ করে এবং আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন থেকেই এ ধরনের একটি দাবি উত্থাপন করা হচ্ছিল, যেন আইনগত সহায়তা দিবস পালনের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ প্রেক্ষাপটেই ২০১৩ সাল থেকে অদ্যাবধি ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এবার আলোচনা করা যাক, কেন এ দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আইনগত সহায়তা প্রদান আইনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ সেসব বিষয়ে। যদিও আমি আইনের শিক্ষার্থী নই; তদুপরি সমাজকর্মের একজন শিক্ষার্থী ও উন্নয়নকর্মী হিসাবে এটুকু অনুধাবন করি-ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার একটি অন্যতম মানবাধিকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় ভাগের ২৭ অনুচ্ছদে বলা হয়েছে, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

এমনকি ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় অধিকার সম্পর্কিত ২৫টি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে, যার অন্তত ৬টি অনুচ্ছেদে বিচারের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর তাই বঞ্চনার শিকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’।

এ আইনের আওতায় বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। প্রতিটি জেলায় রয়েছে এর জেলা কমিটি এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে আইনগত সহায়তা কমিটি। এ আইনের মাধ্যমে কমিটিগুলোর লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

এ পর্যায়ে আইনটি সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা যাক; ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’-এর ২(ক) উপধারা অনুযায়ী আইনগত সহায়তা অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথবা নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে ন্যায়বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে আইনি সহায়তা প্রদান করা। যেমন: কোনো আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান কিংবা মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোনো সহায়তা প্রদান; যে কোনো অসচ্ছল ব্যক্তি, যার বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নয়; কর্মক্ষম নন, আংশিক কর্মক্ষম বা কর্মহীন মুক্তিযোদ্ধা, যার বার্ষিক গড় আয় দেড় লাখ টাকার বেশি নয়; বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন এমন ব্যক্তি; ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মা; অসচ্ছল, পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা শিশু; দুর্বৃত্ত দ্বারা অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু; উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় বিধবা; স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী; আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষম ব্যক্তি; প্রতিবন্ধী; বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি, যিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত ‘অসচ্ছল’ ও আদালত কর্তৃক ঘোষিত ‘অসচ্ছল’ ব্যক্তি এ আইনের আওতায় আইনি সহায়তা পাবেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

সাধারণত স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে, স্বামী শারীরিক নির্যাতন করলে, যৌতুক দাবি বা যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, পাচার, অপহরণ, ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আটক বা গ্রেফতার সংক্রান্ত যে কোনো ফৌজদারি মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া দেওয়ানি মামলার মধ্যে সন্তানের অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ, দেনমোহর আদায়, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার, দলিল বাতিল, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, সম্পত্তি বণ্টন বা বাঁটোয়ারা, ঘোষণামূলক মামলা ও চুক্তিসংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অবারিত না হলে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হবে এবং তা হবে স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘন। সে হিসাবে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ একটি জনগুরুত্বপূর্ণ আইন। জনগুরুত্বপূর্ণ এ আইনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। প্রান্তিক সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল ব্যক্তিরা বিচারপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের সুবিধা ভোগ করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

তথাপি আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে চলমান কিছু সীমাবদ্ধতা সেবা প্রদানে জটিলতা তৈরি করে। যেসব আবেদনকারী আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে আবেদন করেন, তাদের আবেদনগুলো জেলা কমিটির মাসিক বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।

দেখা গেছে, কোনো দরিদ্র বিচারপ্রার্থী যদি একটি বৈঠক সমাপ্তির পর আবেদন করেন, তবে সেটি অনুমোদনের জন্য পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত অর্থাৎ তাকে পুরো এক মাস অপেক্ষা করতে হয়। যেটি দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটায়। এ আইনটির সুবিধা যদি জনগণ সঠিকভাবে ভোগ করতে না পারে, তবে আইনের কার্যকারিতা হারাবে, একটি কাগুজে আইনে পরিণত হবে। এ আইনের সেবাপ্রদানে যারা কাজ করেন, তাদের যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সেবাপ্রদানকারীদের দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে, অন্যথায় দরিদ্র জনগণ সুফল পাবে না।

মাঠপর্যায়ে এ আইনের প্রচারণা ও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সময় ব্যয় করার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি-আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মিত মাসিক সভায় আবেদন গ্রহণ ও আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও মামলা ফাইল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মামলায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়। জেলা কমিটি আইনগত সহায়তার জন্য প্রাপ্ত আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মামলা নিয়মিতভাবে ফলোআপের কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। সেবাগ্রহীতারা এসব ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হয়।

জেলা পর্যায়ে সরকারি আইনগত সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে করা মামলাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো পর্যবেক্ষণ সেল নেই। এ আইনের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হলেও আর্থিক অসামর্থ্যরে কারণে একজন দরিদ্র ব্যক্তির পক্ষে মামলার তারিখে তারিখে হাজিরা প্রদান, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না বিধায় একটা সময়ে এসে মামলাগুলো স্থবির হয়ে যায় এবং দরিদ্র মানুষের বিচারপ্রাপ্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

এরূপ ক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা প্রদান, আইনের আওতায় পরিচালিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সেবাপ্রার্থী ও সাক্ষীদের যাতায়াত ব্যয় প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জেলা কমিটি এবং আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিস কক্ষ থাকলেও জনবল সংকট রয়েছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি যথাযথ মনিটরিং সিস্টেম তৈরির কোনো বিকল্প এক্ষেত্রে নেই।

তাছাড়া মামলা চলাকালীন বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে আইনজীবীর মামলা সংক্রান্ত বিষয় যেমন: মামলার তারিখ, সাক্ষী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ কারণে মামলা পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা প্রদানে নিয়োজিত কর্মকর্তার মাধ্যমে আইনজীবীর সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের সেতুবন্ধ স্থাপন করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০ সম্পর্কে এখনো ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করবে।

এ আইনটিকে আরও অধিক কার্যকর করতে ব্যক্তিজীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে পরিশেষে কিছু মতামত তুলে ধরছি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কমিটির মাধ্যমে আইনটির ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো যেতে পারে, যাতে তৃণমূলের মানুষ সরকারি এ সুযোগটি থেকে বঞ্চিত না হয়। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ আইনটি নিয়ে কাজ করে, তাদের কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং সরকারিভাবে তহবিল জোগান দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। আইনজীবী নিয়োগের পর মামলা নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

মামলাগুলো নিয়মিত ফলোআপ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি; কেননা ফলোআপের অভাবে মামলাগুলো একপর্যায়ে থেমে যায়। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের আওতায় পরিচালিত মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য জেলা পর্যায়ে একটি ওয়ানস্টপ হেল্পলাইন চালু করা দরকার।

বিশেষত্ব অনুযায়ী প্যানেল আইনজীবীদের তালিকা বোর্ডে উপস্থাপন করে রাখা প্রয়োজন, যাতে সেবাগ্রহীতা নিজের পছন্দে আইনজীবী নির্ধারণ করতে পারেন। কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংগ্রহ, বিচারপ্রার্থীর আদালতে আসা-যাওয়া, সাক্ষীর যাতায়াত ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ ধরনের বরাদ্দ দরিদ্র মানুষের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ফরম পূরণে সহযোগিতা ও মামলার সত্যতা যাচাইয়ের একটা প্রক্রিয়া তৈরি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইনে বর্ণিত আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি সক্রিয় করা যেতে পারে। সেখান থেকে যেন সহজে তৃণমূলে থাকা দরিদ্র বিচারপ্রার্থী তাদের দায়েরকৃত মামলার তারিখ, নিয়োগকৃত আইনজীবীর নাম, সমন ও মামলার বর্তমান অবস্থা তথা লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত তথ্যাদি পেতে পারে।

পাশাপাশি মামলাগুলো একটি ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আনা হলে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসে মামলার সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে পারবে। আইনগত সহায়তা প্রদান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারকে আরও অধিকতর জনমুখী করা সম্ভব এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি উদার কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে বলে স্বপ্ন দেখি।

অনারারি নির্বাহী পরিচালক, অন্যচিত্র বাংলাদেশ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন