বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীরা বঞ্চিত
jugantor
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীরা বঞ্চিত

  সামশুন্নাহার সাইমুন  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এত বড় নিয়োগ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে দেশের বেকারদের জন্য বিরাট এক আশীর্বাদ।

তবে নিয়োগ কার্যক্রমে এনটিআরসিএ-এর গৃহীত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক মেধাবীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা এনটিআরসিএ-এর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও বটে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ ২২০৭ জনের পদ সংরক্ষিত করা হয়েছে প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক নিয়োগের জন্য। কারণ হিসাবে এ ২২০৭ জনের মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশনের রায়ের উল্লেখ আছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৩তম ব্যাচের ২২০৭ জন একক নিয়োগ পেলে বাকিরা কেন পাবে না? একই পরিপত্র ও নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উত্তীর্ণ ১৪তম ব্যাচের যারা নিয়োগ প্রত্যাশী, তারাই বা কেন নিয়োগ পাবে না? ১৫তমরাই বা কেন শূন্যপদ বঞ্চিত হবে? তাদেরকে তো শূন্যপদের বিপরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ সবাই ১৩তম ব্যাচ; অথচ একটা অংশ সরাসরি নিয়োগ পাবে আর বৃহত্তর একটা অংশ ভালো নম্বর থাকা সত্ত্বেও গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধা তালিকার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করে আবেদন করতে হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একই ব্যাচের ক্ষেত্রে দুই রকম নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে-এটি কখনোই সমীচীন না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দ্বৈত নীতি মেনে নেওয়ার মতো নয়।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ১৫তম ব্যাচের কলেজ পর্যায়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করার মতো যথেষ্ট শূন্যপদ পাচ্ছে না; অথচ তাদেরকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে শূন্যপদের বিপরীতেই। শূন্যপদ যদি না-ই থাকত, তাহলে এসব প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার কী দরকার ছিল? কেনই বা তাদেরকে এতদিন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অপেক্ষা করানো হলো? বেকারদের সময়, শ্রম ও মেধার কি কোনো মূল্য নেই এনটিআরসিএ-এর কাছে?

কোনো কোনো বিষয়ে ৮০-৮৫ নম্বর থাকা সত্ত্বেও চাকরি তো দূরের কথা, এমপিও পদে আবেদন করার মতো শূন্যপদ পাওয়া যাচ্ছে না, যা সত্যিই দুঃখজনক, অমানবিক ও অন্যায়ও বটে। অথচ এনটিআরসিএ-এর গৃহীত সিদ্ধান্ত মতে, ৪০-৪২ নম্বর পেয়েও একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি নিয়োগ পেতে যাচ্ছে, যা হাস্যকর ও মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।

দীর্ঘদিন মামলা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বর্তমান সুদক্ষ চেয়ারম্যান মহোদয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পথকে সুগম করেছেন, যার জন্য লাখো নিবন্ধনধারী চিরকৃতজ্ঞ। বর্তমানে এনটিআরসিএ-এর এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত আবার নতুন করে মামলা বা জটিলতার পথ উসকে দিচ্ছে, যা কখনোই এ অসহায় নিবন্ধিত শিক্ষকরা কল্পনা করেনি। তাই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে এনটিআরসিএ-এর সরে আশা উচিত মনে করছি।

এমন পরিস্থিতিতে শূন্যপদবঞ্চিতরা চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, মেধাবীদের বঞ্চিত না করে সংরক্ষিত শূন্যপদ উন্মুক্ত করে আবেদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। তাছাড়া চেয়ারম্যান মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ-আপনাদের মেধা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে এনটিআরসিএ ও মেধাবী নিবন্ধনধারীদের কথা চিন্তা করে এমন সুন্দর একটি সমাধান করবেন; যাতে সবাই উপকৃত হয় এবং এনটিআরসিএ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হয়।

১৫তম নিবন্ধন উত্তীর্ণ (কলেজ)

পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীরা বঞ্চিত

 সামশুন্নাহার সাইমুন 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এত বড় নিয়োগ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে দেশের বেকারদের জন্য বিরাট এক আশীর্বাদ।

তবে নিয়োগ কার্যক্রমে এনটিআরসিএ-এর গৃহীত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক মেধাবীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা এনটিআরসিএ-এর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও বটে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ ২২০৭ জনের পদ সংরক্ষিত করা হয়েছে প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক নিয়োগের জন্য। কারণ হিসাবে এ ২২০৭ জনের মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশনের রায়ের উল্লেখ আছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ১৩তম ব্যাচের ২২০৭ জন একক নিয়োগ পেলে বাকিরা কেন পাবে না? একই পরিপত্র ও নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উত্তীর্ণ ১৪তম ব্যাচের যারা নিয়োগ প্রত্যাশী, তারাই বা কেন নিয়োগ পাবে না? ১৫তমরাই বা কেন শূন্যপদ বঞ্চিত হবে? তাদেরকে তো শূন্যপদের বিপরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

১৩তম ব্যাচে উত্তীর্ণ সবাই ১৩তম ব্যাচ; অথচ একটা অংশ সরাসরি নিয়োগ পাবে আর বৃহত্তর একটা অংশ ভালো নম্বর থাকা সত্ত্বেও গণবিজ্ঞপ্তিতে মেধা তালিকার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করে আবেদন করতে হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে একই ব্যাচের ক্ষেত্রে দুই রকম নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে-এটি কখনোই সমীচীন না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দ্বৈত নীতি মেনে নেওয়ার মতো নয়।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ১৫তম ব্যাচের কলেজ পর্যায়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করার মতো যথেষ্ট শূন্যপদ পাচ্ছে না; অথচ তাদেরকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে শূন্যপদের বিপরীতেই। শূন্যপদ যদি না-ই থাকত, তাহলে এসব প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার কী দরকার ছিল? কেনই বা তাদেরকে এতদিন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অপেক্ষা করানো হলো? বেকারদের সময়, শ্রম ও মেধার কি কোনো মূল্য নেই এনটিআরসিএ-এর কাছে?

কোনো কোনো বিষয়ে ৮০-৮৫ নম্বর থাকা সত্ত্বেও চাকরি তো দূরের কথা, এমপিও পদে আবেদন করার মতো শূন্যপদ পাওয়া যাচ্ছে না, যা সত্যিই দুঃখজনক, অমানবিক ও অন্যায়ও বটে। অথচ এনটিআরসিএ-এর গৃহীত সিদ্ধান্ত মতে, ৪০-৪২ নম্বর পেয়েও একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি নিয়োগ পেতে যাচ্ছে, যা হাস্যকর ও মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।

দীর্ঘদিন মামলা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বর্তমান সুদক্ষ চেয়ারম্যান মহোদয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পথকে সুগম করেছেন, যার জন্য লাখো নিবন্ধনধারী চিরকৃতজ্ঞ। বর্তমানে এনটিআরসিএ-এর এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত আবার নতুন করে মামলা বা জটিলতার পথ উসকে দিচ্ছে, যা কখনোই এ অসহায় নিবন্ধিত শিক্ষকরা কল্পনা করেনি। তাই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে এনটিআরসিএ-এর সরে আশা উচিত মনে করছি।

এমন পরিস্থিতিতে শূন্যপদবঞ্চিতরা চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, মেধাবীদের বঞ্চিত না করে সংরক্ষিত শূন্যপদ উন্মুক্ত করে আবেদনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। তাছাড়া চেয়ারম্যান মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ-আপনাদের মেধা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে এনটিআরসিএ ও মেধাবী নিবন্ধনধারীদের কথা চিন্তা করে এমন সুন্দর একটি সমাধান করবেন; যাতে সবাই উপকৃত হয় এবং এনটিআরসিএ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হয়।

১৫তম নিবন্ধন উত্তীর্ণ (কলেজ)

পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন