ট্রল নাকি মানসিক অবক্ষয়
jugantor
ট্রল নাকি মানসিক অবক্ষয়

  মনমোহিনী রায়  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রল শব্দটা বেশ জনপ্রিয়ই এখন আমাদের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে কমবেশি সবাই আমরা ট্রলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছি; যাচ্ছি। বস্তুত সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যেন ভাসছে ট্রলের জোয়ারে। বিশেষ কোনো বিষয় লাগে না এখন, সবকিছুতেই যেন আমরা ট্রল করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বাঙালি হাস্যরসাত্মক মনোভাবাপন্ন জাতি বলেই জানি আমরা। কিন্তু নিছক ‘মজা’ নেওয়ার জন্য অতি সাধারণ বিষয়কেও তারা অকাতরে ট্রলের কাতারে ফেলে দিচ্ছে। ডাক্তার, পুলিশ, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক-এমনকি ধর্মীয় বিষয়গুলোকেও রেহাই দিচ্ছে না ট্রল থেকে।

যতদূর জানা যায়, ট্রল অর্থ হলো কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করে মজা নেওয়া। এটুকুতে আটকে থাকতে পারলে ভালোই হতো; কিন্তু আমরা কি শুধু ‘মশকরায়’ আটকে থাকি? সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ একটা পোস্ট দিল, সেটি কারও ভালো লাগবে, কারও লাগবে না-এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পোস্ট কারও ভালো না লাগলে সে যেন ঠিক করেই রাখে-আমার ওই ব্যক্তিটাকে গালি দিয়েই কথা বলতে হবে। তবে এই ট্রল থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় সমস্যা। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ থেকে শুরু করে নিুবিত্তরাও এ সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

সস্তার বিনোদন নেওয়ার জন্য অবশ্যই আমরা কারও মনে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারি না। পুরো বিশ্বে যখন মহামারি চলছে; তখন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকেই সময় কাটানোর বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে মানুষ বেছে নিয়েছে। একঘেয়েমিপূর্ণ জীবন থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসছে চাইছে। এ অবস্থায় আমাদের মনে রাখা জরুরি, কারো ভালো লাগার উপকরণ হিসাবে অন্য একজন মানুষকে নিয়ে অহেতুক ঠাট্টা/হাসিতামশায় লিপ্ত হওয়াটাও এক ধরনের মানসিক সমস্যা।

প্রশ্ন হলো, ট্রল করতে গিয়ে বাজে কিংবা কটু কথা বলা কতটা যুক্তিসংগত? আসলে ট্রল হচ্ছে, একেবারেই ‘হেট স্পিচ’, যাকে হয়রানি বলা চলে। এ প্রক্রিয়ায় যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা অবশ্যই সুস্থ মন ও মস্তিষ্কের অধিকারী নন। ট্রল হয়তো একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়; তবে ইন্টারনেট মাধ্যমে পজিটিভ চিন্তাভাবনাগুলো বেশি বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় খোঁজা যেতে পারে।

শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

ট্রল নাকি মানসিক অবক্ষয়

 মনমোহিনী রায় 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রল শব্দটা বেশ জনপ্রিয়ই এখন আমাদের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে কমবেশি সবাই আমরা ট্রলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছি; যাচ্ছি। বস্তুত সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যেন ভাসছে ট্রলের জোয়ারে। বিশেষ কোনো বিষয় লাগে না এখন, সবকিছুতেই যেন আমরা ট্রল করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। বাঙালি হাস্যরসাত্মক মনোভাবাপন্ন জাতি বলেই জানি আমরা। কিন্তু নিছক ‘মজা’ নেওয়ার জন্য অতি সাধারণ বিষয়কেও তারা অকাতরে ট্রলের কাতারে ফেলে দিচ্ছে। ডাক্তার, পুলিশ, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক-এমনকি ধর্মীয় বিষয়গুলোকেও রেহাই দিচ্ছে না ট্রল থেকে।

যতদূর জানা যায়, ট্রল অর্থ হলো কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করে মজা নেওয়া। এটুকুতে আটকে থাকতে পারলে ভালোই হতো; কিন্তু আমরা কি শুধু ‘মশকরায়’ আটকে থাকি? সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ একটা পোস্ট দিল, সেটি কারও ভালো লাগবে, কারও লাগবে না-এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পোস্ট কারও ভালো না লাগলে সে যেন ঠিক করেই রাখে-আমার ওই ব্যক্তিটাকে গালি দিয়েই কথা বলতে হবে। তবে এই ট্রল থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় সমস্যা। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ থেকে শুরু করে নিুবিত্তরাও এ সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

সস্তার বিনোদন নেওয়ার জন্য অবশ্যই আমরা কারও মনে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারি না। পুরো বিশ্বে যখন মহামারি চলছে; তখন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকেই সময় কাটানোর বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে মানুষ বেছে নিয়েছে। একঘেয়েমিপূর্ণ জীবন থেকে অনেকেই বেরিয়ে আসছে চাইছে। এ অবস্থায় আমাদের মনে রাখা জরুরি, কারো ভালো লাগার উপকরণ হিসাবে অন্য একজন মানুষকে নিয়ে অহেতুক ঠাট্টা/হাসিতামশায় লিপ্ত হওয়াটাও এক ধরনের মানসিক সমস্যা।

প্রশ্ন হলো, ট্রল করতে গিয়ে বাজে কিংবা কটু কথা বলা কতটা যুক্তিসংগত? আসলে ট্রল হচ্ছে, একেবারেই ‘হেট স্পিচ’, যাকে হয়রানি বলা চলে। এ প্রক্রিয়ায় যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারা অবশ্যই সুস্থ মন ও মস্তিষ্কের অধিকারী নন। ট্রল হয়তো একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়; তবে ইন্টারনেট মাধ্যমে পজিটিভ চিন্তাভাবনাগুলো বেশি বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় খোঁজা যেতে পারে।

শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন