লকডাউন বনাম পেটডাউন
jugantor
লকডাউন বনাম পেটডাউন

  গাজী ফরহাদ  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারি করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে কাবু করেছে। সারা বিশ্বে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে হাজারও মানুষ। বিভিন্ন রাষ্ট্র লকডাউনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করেছে।

উন্নত রাষ্ট্রগুলো যেখানে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্র করোনাভাইরাসের কাছে কিছুই না। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশেও চলছে লকডাউনের মতো বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে লকডাউন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই লকডাউনে অনেকে না খেয়ে মরার আশঙ্কা রয়েছে। যারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে, তারা বাইরে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরবে।

ইতোমধ্যে সিপিডি ও বিলস ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নতুন বেকার হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ। যারা বেকার হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বড়লোকদের নিয়ন্ত্রণেও নেই। পবিত্র রমজানে বিভিন্ন রাষ্ট্রে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। শুধু পবিত্র রমজান নয়; অসাধু ব্যবসায়ীরা যে কোনো সময় যে কোনো মুহূর্তে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। পণ্যের দাম এত বেড়ে যায়, মানুষের কেনার ক্ষমতা থাকে না।

লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। যারা পেটের দায়ে রাস্তায় রিকশা নিয়ে নামে, তাদের রিকশাও জব্দ করে নিয়ে যায়। করোনাভাইরাস উচ্চবিত্ত থেকে নিুবিত্ত সবাইকে ভালোভাবে কাবু করেছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন হয়তো কিছু খেতে পারবে; কিন্তু নিুবিত্তদের তো সে সামর্থ্যও নেই।

যে কোনো মূল্যে হোক সরকারের উচিত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। মানুষ খেয়ে মরলে মনে কোনো দুঃখ থাকবে না এই ভেবে যে, অন্তত মৃত্যুর আগে খাবার জুটেছে। না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা কত কঠিন; একমাত্র তারাই জানে, যারা লকডাউনে অনহারে আছে।

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

লকডাউন বনাম পেটডাউন

 গাজী ফরহাদ 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারি করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে কাবু করেছে। সারা বিশ্বে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে হাজারও মানুষ। বিভিন্ন রাষ্ট্র লকডাউনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করেছে।

উন্নত রাষ্ট্রগুলো যেখানে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি রাষ্ট্র করোনাভাইরাসের কাছে কিছুই না। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশেও চলছে লকডাউনের মতো বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে লকডাউন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই লকডাউনে অনেকে না খেয়ে মরার আশঙ্কা রয়েছে। যারা ঘরে থাকলে না খেয়ে মরবে, তারা বাইরে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরবে।

ইতোমধ্যে সিপিডি ও বিলস ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নতুন বেকার হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ। যারা বেকার হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী? নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বড়লোকদের নিয়ন্ত্রণেও নেই। পবিত্র রমজানে বিভিন্ন রাষ্ট্রে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। শুধু পবিত্র রমজান নয়; অসাধু ব্যবসায়ীরা যে কোনো সময় যে কোনো মুহূর্তে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। পণ্যের দাম এত বেড়ে যায়, মানুষের কেনার ক্ষমতা থাকে না।

লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। যারা পেটের দায়ে রাস্তায় রিকশা নিয়ে নামে, তাদের রিকশাও জব্দ করে নিয়ে যায়। করোনাভাইরাস উচ্চবিত্ত থেকে নিুবিত্ত সবাইকে ভালোভাবে কাবু করেছে। উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন হয়তো কিছু খেতে পারবে; কিন্তু নিুবিত্তদের তো সে সামর্থ্যও নেই।

যে কোনো মূল্যে হোক সরকারের উচিত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। মানুষ খেয়ে মরলে মনে কোনো দুঃখ থাকবে না এই ভেবে যে, অন্তত মৃত্যুর আগে খাবার জুটেছে। না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা কত কঠিন; একমাত্র তারাই জানে, যারা লকডাউনে অনহারে আছে।

নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন