করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি
jugantor
করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি

  মো. আশরাফুল ইসলাম  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের হার ও মৃত্যুসংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

অনেক রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি যে, শ্মশানে দাহ করার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতে ডাবল মিউট্যান্ট আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ট্রিপল ভ্যারিয়েন্টের ধরন শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়-চারটি রাজ্যে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের তিনটি আলাদা স্ট্রেইন মিলে তৈরি নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষমতা তিনগুণ বেশি। ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিএমআরের এক গবেষণায় জানা যায়, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত একজন রোগী ৪০৬ জনের শরীরে করোনা ছড়াতে পারে। নতুন এই স্ট্রেইনে যারা আক্রান্ত হয়, তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতিও খুব দ্রুত ঘটে।

বাংলাদেশ ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের দেশে আইইডিসিআর ভাইরাস মিউটেশন নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশ করেছে কি না, সেটি নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স হওয়া দরকার। এর জন্য পুরো দেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের ডেটাবেজও ডেভেলপ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ রোধে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দর ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে সড়কপথে পণ্যবাহী ট্রাক ও সীমান্তে অবৈধ রাস্তাগুলো বন্ধ করা জরুরি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা দরকার। মানুষকে তথ্য জানাতে হবে, তথ্য জানালে মানুষ সতর্ক হবে। সেই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলাটাও জরুরি।

শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ashrafcu214@gmail.com

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি

 মো. আশরাফুল ইসলাম 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের হার ও মৃত্যুসংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

অনেক রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি যে, শ্মশানে দাহ করার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতে ডাবল মিউট্যান্ট আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ট্রিপল ভ্যারিয়েন্টের ধরন শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়-চারটি রাজ্যে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসের তিনটি আলাদা স্ট্রেইন মিলে তৈরি নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষমতা তিনগুণ বেশি। ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিএমআরের এক গবেষণায় জানা যায়, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত একজন রোগী ৪০৬ জনের শরীরে করোনা ছড়াতে পারে। নতুন এই স্ট্রেইনে যারা আক্রান্ত হয়, তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতিও খুব দ্রুত ঘটে।

বাংলাদেশ ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের দেশে আইইডিসিআর ভাইরাস মিউটেশন নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রবেশ করেছে কি না, সেটি নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স হওয়া দরকার। এর জন্য পুরো দেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের ডেটাবেজও ডেভেলপ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ রোধে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দর ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে সড়কপথে পণ্যবাহী ট্রাক ও সীমান্তে অবৈধ রাস্তাগুলো বন্ধ করা জরুরি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা দরকার। মানুষকে তথ্য জানাতে হবে, তথ্য জানালে মানুষ সতর্ক হবে। সেই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলাটাও জরুরি।

শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ashrafcu214@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন