তোমারে দেখিতে মনে চায়...
jugantor
তোমারে দেখিতে মনে চায়...

  সুপ্তি জামান  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেভ তলস্তয় জীবনের শেষবেলায় দীর্ঘ দশ বছর ‘পুনরুজ্জীবন’ উপন্যাসটি লিখেছেন। দীর্ঘ জীবনযাপন শেষে যেন আত্মোপলব্ধির উপসংহার টেনেছেন ‘পুনরুজ্জীবন’ উপন্যাসে; রবীন্দ্রনাথ যেমন লিখেছেন ‘শেষের কবিতা’। পুনরুজ্জীবন পড়ছি ধীরলয়ে মগ্ন হয়ে; এপ্রিলের গরমেও আমার যেন কোনো ক্লান্তি নেই, সবটুকু মনোযোগ এক করে পড়ছি, অনুধাবনের চেষ্টা করছি। উপন্যাসের নায়ক নেখলিউদভ ও কাতিউশার তুষার ধবল প্রণয়ের সাক্ষী হয়ে ছিল নির্বাক লাইলাক ফুল। লাইলাক ফুলের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় তিরিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের কবিতা পড়তে পড়তে। লাইলাক ফুল কি কখনো দেখেছি-এ প্রশ্ন মনে জাগে; বলতে ইচ্ছে করে-‘তোমারে দেখিতে মনে চায়’।

সজীব সতেজ প্রাণবন্ত লাইলাক দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল লাইলাক যে কারও দৃষ্টিতে পড়বে বারো মাস; আর্টিফিশিয়াল ফুলের দোকানে। লাইলাক বসন্তের ফুল হলেও মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফোটা শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে সব ফুল ঝরে যায়। লাইলাক হলো মে মাসের ফুল। মাত্র এক মাসেই সবার মন ভোলায়। ভুবন ভোলানো হাসি আর মন মাতানো সুগন্ধের জন্য লাইলাক বিশিষ্টতা অর্জন করেছে, মন কেড়েছে বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের। টিএস এলিয়ট ছিলেন লাইলাক ফুলের তীব্র অনুরাগী। তার বিখ্যাত কবিতা ‘এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস’-এ আছে লাইলাক ফুলের নাম-এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস, জন্ম দেয়

লাইলাক মৃত জমি থেকে, স্মৃতি আর

বাসনা মিশিয়ে, ভোঁতা শিকড়গুলোকে

বসন্তবৃষ্টির জলে চাঙা করে তোলে।

আমাদের ওমে রেখেছিল শীত, স্মৃতিহীনতার

তুষারে পৃথিবী ঢেকে, শুকনো আলুতে

খাবার জুগিয়েছিল সামান্য জীবন।

(অনুবাদ : সাজ্জাদ শরিফ)

লাইলাকের ইংরেজি নাম lilac এবং বৈজ্ঞানিক নাম syring vulgaris. লাইলাক ফুল সাধারণত চার পাপড়ির হয়। গাঢ় বেগুনি, ল্যাভেন্ডার, নীল, গোলাপি ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। গ্রিক মিথোলজিতে উল্লেখ আছে- এক সুন্দরী নারী দেবতার কাছ থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে লাইলাক ফুলে পরিণত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে ‘স্টেট ফ্লাওয়ার’ এ ফুলটি। বিশ্বের নানা জায়গায় বার্ষিক লাইলাক উৎসব পালিত হয়। আমেরিকায় মে মাসে পালন করা হয় লাইলাক সানডে। লাইলাকের জন্ম ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ায়। তবে যে কোনো উষ্ণ এলাকায় লাইলাকের চাষ হতে পারে। উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত সূর্যালোকে লাইলাক ভালো জন্মে। সে হিসাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া লাইলাক চাষের উপযুক্ত বলেই মনে হয়। বাংলাদেশে লাইলাক ফুলের কোনো গাছ আছে কি না, সে তথ্য আমার জানা নেই। তবে কেন জানি আমার মন বলে-আমাদের সোনালু ফুলের সঙ্গে কোথায় যেন মিল রয়েছে লাইলাকের।

সবুজবাগ, বাসাবো, ঢাকা

তোমারে দেখিতে মনে চায়...

 সুপ্তি জামান 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেভ তলস্তয় জীবনের শেষবেলায় দীর্ঘ দশ বছর ‘পুনরুজ্জীবন’ উপন্যাসটি লিখেছেন। দীর্ঘ জীবনযাপন শেষে যেন আত্মোপলব্ধির উপসংহার টেনেছেন ‘পুনরুজ্জীবন’ উপন্যাসে; রবীন্দ্রনাথ যেমন লিখেছেন ‘শেষের কবিতা’। পুনরুজ্জীবন পড়ছি ধীরলয়ে মগ্ন হয়ে; এপ্রিলের গরমেও আমার যেন কোনো ক্লান্তি নেই, সবটুকু মনোযোগ এক করে পড়ছি, অনুধাবনের চেষ্টা করছি। উপন্যাসের নায়ক নেখলিউদভ ও কাতিউশার তুষার ধবল প্রণয়ের সাক্ষী হয়ে ছিল নির্বাক লাইলাক ফুল। লাইলাক ফুলের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় তিরিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের কবিতা পড়তে পড়তে। লাইলাক ফুল কি কখনো দেখেছি-এ প্রশ্ন মনে জাগে; বলতে ইচ্ছে করে-‘তোমারে দেখিতে মনে চায়’।

সজীব সতেজ প্রাণবন্ত লাইলাক দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল লাইলাক যে কারও দৃষ্টিতে পড়বে বারো মাস; আর্টিফিশিয়াল ফুলের দোকানে। লাইলাক বসন্তের ফুল হলেও মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফোটা শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে সব ফুল ঝরে যায়। লাইলাক হলো মে মাসের ফুল। মাত্র এক মাসেই সবার মন ভোলায়। ভুবন ভোলানো হাসি আর মন মাতানো সুগন্ধের জন্য লাইলাক বিশিষ্টতা অর্জন করেছে, মন কেড়েছে বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের। টিএস এলিয়ট ছিলেন লাইলাক ফুলের তীব্র অনুরাগী। তার বিখ্যাত কবিতা ‘এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস’-এ আছে লাইলাক ফুলের নাম-এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস, জন্ম দেয়

লাইলাক মৃত জমি থেকে, স্মৃতি আর

বাসনা মিশিয়ে, ভোঁতা শিকড়গুলোকে

বসন্তবৃষ্টির জলে চাঙা করে তোলে।

আমাদের ওমে রেখেছিল শীত, স্মৃতিহীনতার

তুষারে পৃথিবী ঢেকে, শুকনো আলুতে

খাবার জুগিয়েছিল সামান্য জীবন।

(অনুবাদ : সাজ্জাদ শরিফ)

লাইলাকের ইংরেজি নাম lilac এবং বৈজ্ঞানিক নাম syring vulgaris. লাইলাক ফুল সাধারণত চার পাপড়ির হয়। গাঢ় বেগুনি, ল্যাভেন্ডার, নীল, গোলাপি ও সাদা রঙের হয়ে থাকে। গ্রিক মিথোলজিতে উল্লেখ আছে- এক সুন্দরী নারী দেবতার কাছ থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে লাইলাক ফুলে পরিণত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে ‘স্টেট ফ্লাওয়ার’ এ ফুলটি। বিশ্বের নানা জায়গায় বার্ষিক লাইলাক উৎসব পালিত হয়। আমেরিকায় মে মাসে পালন করা হয় লাইলাক সানডে। লাইলাকের জন্ম ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ায়। তবে যে কোনো উষ্ণ এলাকায় লাইলাকের চাষ হতে পারে। উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত সূর্যালোকে লাইলাক ভালো জন্মে। সে হিসাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া লাইলাক চাষের উপযুক্ত বলেই মনে হয়। বাংলাদেশে লাইলাক ফুলের কোনো গাছ আছে কি না, সে তথ্য আমার জানা নেই। তবে কেন জানি আমার মন বলে-আমাদের সোনালু ফুলের সঙ্গে কোথায় যেন মিল রয়েছে লাইলাকের।

সবুজবাগ, বাসাবো, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন