পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি
jugantor
পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি

  সৈয়দা সাজেদা খসরু নিশা  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফসলের জমিতে গাছের মরা ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করার নাম ‘পার্চিং’। পার্চিংয়ে পাখি বসার সুযোগ পেলে তার দৃষ্টিসীমায় কোনো ক্ষতিকর পোকা দেখা মাত্রই সেটি সে ধরে খেয়ে ফেলবে।

এভাবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধানখেতের পোকার আক্রমণ কমিয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে। বিষবিহীন নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। আর এ পদ্ধতি ধানচাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যেহেতু ধানের জমিতে পাখি বসার মতো তেমন কোনো গাছ নেই; তাই যদি কৃত্রিমভাবে ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ধানখেতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কমে যাবে এবং কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে। পার্চিং একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।

বিভিন্ন ফসল, বিশেষ করে ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের অযাচিত ব্যবহার কমবে; ফসলের উৎপাদন বাড়বে। মাটি, পানি তথা পরিবেশদূষণ হ্রাস পাবে ও ইকোসিস্টেম অক্ষুণ্ন থাকবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। সর্বোপরি, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ধানখেতের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাত দূরে দূরে গাছের ডাল পোঁতা। সেখানে কিছুক্ষণ পরপর উড়ে এসে বসছে শালিক, ফিঙে, বুলবুলিসহ নানা জাতের পাখি। একটু পরপর ডাল থেকে ধানগাছের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে পাখিগুলো আর পোকা ধরে খাচ্ছে। যে জমিতে পোকা বেশি, সেই জমিতে পাখির আনাগোনাও বেশি।

ধানখেতের বেশি ক্ষতি করে মাজরা পোকা। এই পোকা ধানগাছে গর্ত করে বাচ্চা জন্ম দেয়। একটি মাজরার মথ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ বাচ্চার জন্ম হয়। শুধু একটি পাখির দ্বারা প্রতিমাসে দুই লাখের উপরে মাজরা পোকা ধ্বংস করা সম্ভব। এভাবে কীটনাশক ছাড়া সহজেই দমন হচ্ছে পোকা।

পার্চিং ইংরেজি শব্দ। পাখি বসে এমন উঁচু ডাল বা খুঁটির নাম পার্চ। পার্চ থেকেই পার্চিং নামের উদ্ভব। পার্চিং পদ্ধতি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পার্চিং দুই প্রকার-ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং এবং ধঞ্চে, কলাগাছ ইত্যাদি জীবন্ত পুঁতে দিলে তা হবে লাইভ পার্চিং। কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমনের এই পদ্ধতি কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

বোরো চাষে পোকা দমনের ক্ষেত্রে কৃষক ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে শত্রু পোকা নিধনের সঙ্গে বন্ধু পোকাও মারা যায়। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারে মানবদেহে রোগব্যাধিসহ নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় বোরো চাষে প্রতি একরে কীটনাশক খাতে খরচ কমেছে দেড় হাজার টাকারও বেশি। ফলে কীটনাশকমুক্ত ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের মধ্যে পার্চিং পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

শিক্ষার্থী, বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচার

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি

 সৈয়দা সাজেদা খসরু নিশা 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফসলের জমিতে গাছের মরা ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করার নাম ‘পার্চিং’। পার্চিংয়ে পাখি বসার সুযোগ পেলে তার দৃষ্টিসীমায় কোনো ক্ষতিকর পোকা দেখা মাত্রই সেটি সে ধরে খেয়ে ফেলবে।

এভাবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ধানখেতের পোকার আক্রমণ কমিয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে। বিষবিহীন নিরাপদ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। আর এ পদ্ধতি ধানচাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যেহেতু ধানের জমিতে পাখি বসার মতো তেমন কোনো গাছ নেই; তাই যদি কৃত্রিমভাবে ডাল, কঞ্চি বা বাঁশের আগা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ধানখেতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কমে যাবে এবং কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে। পার্চিং একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি।

বিভিন্ন ফসল, বিশেষ করে ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কীটনাশকের অযাচিত ব্যবহার কমবে; ফসলের উৎপাদন বাড়বে। মাটি, পানি তথা পরিবেশদূষণ হ্রাস পাবে ও ইকোসিস্টেম অক্ষুণ্ন থাকবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। সর্বোপরি, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

ধানখেতের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাত দূরে দূরে গাছের ডাল পোঁতা। সেখানে কিছুক্ষণ পরপর উড়ে এসে বসছে শালিক, ফিঙে, বুলবুলিসহ নানা জাতের পাখি। একটু পরপর ডাল থেকে ধানগাছের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে পাখিগুলো আর পোকা ধরে খাচ্ছে। যে জমিতে পোকা বেশি, সেই জমিতে পাখির আনাগোনাও বেশি।

ধানখেতের বেশি ক্ষতি করে মাজরা পোকা। এই পোকা ধানগাছে গর্ত করে বাচ্চা জন্ম দেয়। একটি মাজরার মথ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ বাচ্চার জন্ম হয়। শুধু একটি পাখির দ্বারা প্রতিমাসে দুই লাখের উপরে মাজরা পোকা ধ্বংস করা সম্ভব। এভাবে কীটনাশক ছাড়া সহজেই দমন হচ্ছে পোকা।

পার্চিং ইংরেজি শব্দ। পাখি বসে এমন উঁচু ডাল বা খুঁটির নাম পার্চ। পার্চ থেকেই পার্চিং নামের উদ্ভব। পার্চিং পদ্ধতি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। পার্চিং দুই প্রকার-ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং এবং ধঞ্চে, কলাগাছ ইত্যাদি জীবন্ত পুঁতে দিলে তা হবে লাইভ পার্চিং। কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমনের এই পদ্ধতি কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

বোরো চাষে পোকা দমনের ক্ষেত্রে কৃষক ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে শত্রু পোকা নিধনের সঙ্গে বন্ধু পোকাও মারা যায়। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারে মানবদেহে রোগব্যাধিসহ নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় বোরো চাষে প্রতি একরে কীটনাশক খাতে খরচ কমেছে দেড় হাজার টাকারও বেশি। ফলে কীটনাশকমুক্ত ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকদের মধ্যে পার্চিং পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

শিক্ষার্থী, বিএসসি ইন অ্যাগ্রিকালচার

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন