দেশে একটি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত
jugantor
দেশে একটি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত

  এইচ এম আরফাত  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের সেবক! কিন্তু আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, পুলিশ হরহামেশাই জনগণের সঙ্গে বাজে আচরণ করে থাকে। বিশেষ করে তাদের এমন আচরণ বেশি চোখে পড়ে রাস্তাঘাটে গাড়ি চালকদের সঙ্গে।

গাড়ি চালকদের পুলিশ ‘তুই’ ছাড়া সম্বোধনই করে না। কিন্তু কেন? পুলিশ কি জানে না, সাধারণ খেটে খাওয়া এসব মানুষের ট্যাক্সের টাকায় সরকার তাদের বেতন-ভাতা দেয়? কাজেই তাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের কি ন্যূনতম সম্মানটুকু পাওয়ার অধিকারও নেই?

কয়েক বছর আগের কথা। কলেজে যাওয়ার সময় দেখলাম-একজন বৃদ্ধ রিকশাচালককে ট্রাফিক পুলিশ থাপ্পড় লাগিয়ে দিল। এ ঘটনায় রিকশাচালক হুহু করে কেঁদে উঠল। মাথায় বাঁধা লাল রঙের গামছা দিয়ে চোখের জল মুছে বলতে লাগল, ‘স্যার হামার কোনো দোষ নাই।’ উত্তরে ট্রফিক পুলিশ বলে উঠল, ‘গাড়ি টান তাড়াতাড়ি।’

রিকশাচালক গামছাটা মাথা থেকে কোমরে বেঁধে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলতে বলতে চলে গেলেন। নিজের অজান্তেই আমার চোখের দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল কালো কংক্রিটের সড়কে। ঘটনাটি আমাকে ব্যথিত করেছে, পুলিশ সম্পর্কে আমার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের চারপাশে। তবে ‘অন্দরমহলের’ অবস্থা নিশ্চয়ই এর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর।

এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, পুলিশ দেখলে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। অশ্রদ্ধা করে। সুযোগ পেলেই দীর্ঘদিনের সঞ্চারিত ক্ষোভ ঝেড়ে দেয়। অন্তত সাম্প্রতিক সময়ে ডাক্তারের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা, আইনজীবী হেনস্তা, ফেনীর ঘটনাসহ বহু ঘটনাই সেটিই প্রমাণ করে।

আমাদের পাশের দেশ ভারতে ‘সরদার বল্লভভাই প্যাটেল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়’ রয়েছে। এছাড়া চীনেও রয়েছে একাধিক পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আমি মনে করি, বাংলাদেশে একটি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা জরুরি, যেখানে পুলিশদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হবে; যাতে পুলিশ সত্যিকার অর্থেই জনেগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে।

পুলিশ আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের পরম বন্ধু। আমরা চাই না ২০২১ সালে এসে, যেখানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শাতাংশ; সেখানে আমাদের কোনো পুলিশ বন্ধুর মুখ থেকে ‘বাইন...’, ‘মাদার...’, ‘শালারপুত’ এজাতীয় কুৎসিত কোনো শব্দ নিঃসৃত হোক। আমরা চাই, দেশের সব পেশাজীবী তাদের নিজ নিজ সম্মানটুকু পাক।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে একটি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত

 এইচ এম আরফাত 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের সেবক! কিন্তু আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, পুলিশ হরহামেশাই জনগণের সঙ্গে বাজে আচরণ করে থাকে। বিশেষ করে তাদের এমন আচরণ বেশি চোখে পড়ে রাস্তাঘাটে গাড়ি চালকদের সঙ্গে।

গাড়ি চালকদের পুলিশ ‘তুই’ ছাড়া সম্বোধনই করে না। কিন্তু কেন? পুলিশ কি জানে না, সাধারণ খেটে খাওয়া এসব মানুষের ট্যাক্সের টাকায় সরকার তাদের বেতন-ভাতা দেয়? কাজেই তাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের কি ন্যূনতম সম্মানটুকু পাওয়ার অধিকারও নেই?

কয়েক বছর আগের কথা। কলেজে যাওয়ার সময় দেখলাম-একজন বৃদ্ধ রিকশাচালককে ট্রাফিক পুলিশ থাপ্পড় লাগিয়ে দিল। এ ঘটনায় রিকশাচালক হুহু করে কেঁদে উঠল। মাথায় বাঁধা লাল রঙের গামছা দিয়ে চোখের জল মুছে বলতে লাগল, ‘স্যার হামার কোনো দোষ নাই।’ উত্তরে ট্রফিক পুলিশ বলে উঠল, ‘গাড়ি টান তাড়াতাড়ি।’

রিকশাচালক গামছাটা মাথা থেকে কোমরে বেঁধে অস্পষ্ট স্বরে কিছু একটা বলতে বলতে চলে গেলেন। নিজের অজান্তেই আমার চোখের দুফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল কালো কংক্রিটের সড়কে। ঘটনাটি আমাকে ব্যথিত করেছে, পুলিশ সম্পর্কে আমার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের চারপাশে। তবে ‘অন্দরমহলের’ অবস্থা নিশ্চয়ই এর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর।

এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, পুলিশ দেখলে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। অশ্রদ্ধা করে। সুযোগ পেলেই দীর্ঘদিনের সঞ্চারিত ক্ষোভ ঝেড়ে দেয়। অন্তত সাম্প্রতিক সময়ে ডাক্তারের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা, আইনজীবী হেনস্তা, ফেনীর ঘটনাসহ বহু ঘটনাই সেটিই প্রমাণ করে।

আমাদের পাশের দেশ ভারতে ‘সরদার বল্লভভাই প্যাটেল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়’ রয়েছে। এছাড়া চীনেও রয়েছে একাধিক পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আমি মনে করি, বাংলাদেশে একটি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা জরুরি, যেখানে পুলিশদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হবে; যাতে পুলিশ সত্যিকার অর্থেই জনেগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে।

পুলিশ আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের পরম বন্ধু। আমরা চাই না ২০২১ সালে এসে, যেখানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শাতাংশ; সেখানে আমাদের কোনো পুলিশ বন্ধুর মুখ থেকে ‘বাইন...’, ‘মাদার...’, ‘শালারপুত’ এজাতীয় কুৎসিত কোনো শব্দ নিঃসৃত হোক। আমরা চাই, দেশের সব পেশাজীবী তাদের নিজ নিজ সম্মানটুকু পাক।

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন