কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন
jugantor
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন

  মো. জিল্লুর রহমান  

৩০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান আকর্ষণ হলো কোরবানি। কোরবানি উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। আমাদের দেশে কোরবানিতে প্রধানত গরু প্রাধান্য পায়।

গরু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মিটে থাকে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গো-খাদ্যের সঙ্গে মোটাতাজাকরণ সামগ্রী মিশিয়ে গরুকে খাইয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে তোলে। তারা বাড়তি মুনাফার আশায় অল্পদিনের মধ্যে গরু মোটাতাজা করতে গো-খাদ্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট ব্যবহার করে; মাংসপেশিতে প্রয়োগ করে নিষিদ্ধ ইনজেকশন, যা গরু ও জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

স্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট খাওয়ালে গরুর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে গরুর শরীরে পানি জমতে শুরু করে। ফলে গরু মোটাতাজা দেখায়। এমন গরুর মাংস খাওয়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানবশরীরে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ক্ষতিকারক ওষুধ খাওয়ানো হলে গরুর মাংস রান্নার পরও তার অবশেষ রয়ে যায়। ফলে ওষুধের অবশেষ অংশ মানবদেহে জমা হওয়ায় মানুষের বিপাক ক্রিয়া কমে যায়। ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত ও রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এসব ওষুধ তীব্র তাপেও নষ্ট হয় না; ফলে মানবদেহে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এমন কী ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া যাদের রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি, তাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়; নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

গো-খাদ্যে স্টেরয়েড ও রাসায়নিক মেশানোর প্রক্রিয়া রোধে যদি সব পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কর্তৃক কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয, তবে ভবিষ্যতে ঈদ সামনে রেখে অসাধু উপায়ে কেউ গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের সাহস পাবে না। এজন্য মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আইন ও বিধি অনুযায়ী জেল জরিমানা করাও জরুরি।

ব্যাংকার ও লেখক, গেন্ডারিয়া, ঢাকা

zrbbbp@gmail.com

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন

 মো. জিল্লুর রহমান 
৩০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান আকর্ষণ হলো কোরবানি। কোরবানি উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। আমাদের দেশে কোরবানিতে প্রধানত গরু প্রাধান্য পায়।

গরু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মিটে থাকে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গো-খাদ্যের সঙ্গে মোটাতাজাকরণ সামগ্রী মিশিয়ে গরুকে খাইয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে তোলে। তারা বাড়তি মুনাফার আশায় অল্পদিনের মধ্যে গরু মোটাতাজা করতে গো-খাদ্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট ব্যবহার করে; মাংসপেশিতে প্রয়োগ করে নিষিদ্ধ ইনজেকশন, যা গরু ও জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

স্টেরয়েড গ্রুপের ট্যাবলেট খাওয়ালে গরুর প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে গরুর শরীরে পানি জমতে শুরু করে। ফলে গরু মোটাতাজা দেখায়। এমন গরুর মাংস খাওয়া মানবস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানবশরীরে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ক্ষতিকারক ওষুধ খাওয়ানো হলে গরুর মাংস রান্নার পরও তার অবশেষ রয়ে যায়। ফলে ওষুধের অবশেষ অংশ মানবদেহে জমা হওয়ায় মানুষের বিপাক ক্রিয়া কমে যায়। ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত ও রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এসব ওষুধ তীব্র তাপেও নষ্ট হয় না; ফলে মানবদেহে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এমন কী ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া যাদের রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি, তাদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়; নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

গো-খাদ্যে স্টেরয়েড ও রাসায়নিক মেশানোর প্রক্রিয়া রোধে যদি সব পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কর্তৃক কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয, তবে ভবিষ্যতে ঈদ সামনে রেখে অসাধু উপায়ে কেউ গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের সাহস পাবে না। এজন্য মনিটরিংয়ের পাশাপাশি আইন ও বিধি অনুযায়ী জেল জরিমানা করাও জরুরি।

ব্যাংকার ও লেখক, গেন্ডারিয়া, ঢাকা

zrbbbp@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন