কৃষকদেরও পেনশন পাওয়া উচিত
jugantor
কৃষকদেরও পেনশন পাওয়া উচিত

  তারেক আল রহমান অপু  

৩০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রয়েছে। উন্নত দেশের নাগরিকরা এ খাত থেকে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং অনেক দেশের চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি। এ খাতে ১৪৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। অর্থাৎ ১৪৫ শ্রেণির মানুষ এ খাত থেকে উপকৃত হচ্ছে। তাদের আর এখন অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে না। সরকার তাদের দায়িত্ব নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪৫টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রধান ৯টি খাত হলো-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন, খোলাবাজারে খাদ্য শস্য বিক্রয় (ওএমএস), কাজের বিনিময়ে খাদ্য/টাকা, টেস্ট রিলিফ, ভিজিএফ, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি, শিক্ষাবৃত্তি, উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডি। এ ৯টি খাতে সরকারের ব্যয় হয় বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা উধাও হয়েছে। ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তারা এখন আর মানুষের কাছে হাত পাতে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৯৮ সালে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১১ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এরপর থেকে বার্ষিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশের অধিকই রাখা হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ৩০ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরের বরাদ্দ জিডিপির ৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এক সময় আমাদের দেশে মানুষ কাজ না পেয়ে অনাহারে দিন কাটিয়েছে। এখন গ্রামগঞ্জে কাজের লোক পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ৭৮ লাখ গ্রামীণ বেকার মজুরের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান করেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের আরেকটি উৎস কাবিখা-কাবিটা কর্মসূচি।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০ লাখ ৩১ হাজার টন খাদ্যশস্য ও ৪১৬৬ কোটি টাকার বিনিময়ে বিগত ১০ বছরে ১ কোটি ৬২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ সময়কালে বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাক, বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন এবং ১ কোটি ৯ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ ১৯৩ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে, কোনো মানুষ যেন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে খাদ্য সংকটে কষ্ট না পায়।

কোভিড-১৯-এ যখন পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত, ঠিক সে সময় দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সরকার ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১০০টি উপজেলায় শতভাগ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এই তিনটি ভাতায় নতুন করে উপকারভোগী যুক্ত হবেন ১১ লাখেরও অধিক দরিদ্র ও অসহায় জনগণ।

করোনাকালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ে দরিদ্র ও অসহায় জনগণ। তাদের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন ধরনের ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, যা এই ক্রান্তিকালে দরিদ্র জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের অনেকটা নির্ভার রাখতে সক্ষম হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত সৃষ্ট দুর্যোগ লাঘবে মানবিক সহায়তা হিসাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

এ পর্যন্ত সারা দেশে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৩৯ টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৫১ টন। এতে উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৮৪১ এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা সাত কোটি ৪১ লাখ ৩২ হাজার ৩১২ জন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শিশুখাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ত্রাণ হিসাবে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৮ কোটি ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। কাজের সংস্থান হওয়ায় মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্য বেড়েছে।

খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় নিরক্ষর জনগোষ্ঠী অক্ষর জ্ঞান অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ২০০৯ সালের সাক্ষরতার হার ৫৬ দশমিক ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০১৯-২০ সালে ২০৬৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার একটি বড় অংশ দেখাশোনা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দুস্থ, দরিদ্র, অবহেলিত, অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা সেবা দিয়ে থাকে এ মন্ত্রণালয়। তাদের মূল কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে-বয়স্ক ভাতা (৪৯ লাখ); বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা (২০ লাখ ৫০ হাজার); অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা (১৮ লাখ); প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি (১ লাখ) ও এতিম শিশুদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট (৯৬ হাজার ৬৭৬)। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় সব দেশে বিভিন্ন আকারে ছিল, আছে ও বিদ্যমান থাকবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষদের নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বেষ্টিত। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। বেসরকারি খাতে লাখ লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়া কৃষক-শ্রমিকের সংখ্যাও অনেক। প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের পেনশন দিচ্ছে না। তাদের বাকি জীবনটা কিভাবে কাটবে? তারা কি স্বজনের ওপরই নির্ভর করে চলবে? এটা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী থাকাকালে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার সেই চেষ্টা এখনো দৃশ্যমান নয়।

আমরা আশা করব, দ্রুত বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদেরও পেনশনের আওতায় আনতে হবে। কারণ, সারাজীবন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মানুষের মুখের খাবার উৎপাদন করেন কৃষক। কর্মক্ষমতা হারালেই তাদের জীবনে দেখা দেয় নানারকম দুর্ভোগ। তাদের সন্তানরাও সাধারণত সচ্ছল থাকে না। এ কারণে বাবা-মার ভরণপোষণে তাদেরও বেগ পেতে হয়।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, কৃষকদের নামমাত্র প্রিমিয়াম (মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা) এবং সরকার কিছু টাকা ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের জীবন বীমা করে দিতে পারে। এতে গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় পর বেশ কিছু টাকা পেলে তার আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে। কিছুটা হলেও সচ্ছলতা আসবে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী।

সাংবাদিক

md.apu_a@yahoo.com

কৃষকদেরও পেনশন পাওয়া উচিত

 তারেক আল রহমান অপু 
৩০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রয়েছে। উন্নত দেশের নাগরিকরা এ খাত থেকে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়; বরং অনেক দেশের চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি। এ খাতে ১৪৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। অর্থাৎ ১৪৫ শ্রেণির মানুষ এ খাত থেকে উপকৃত হচ্ছে। তাদের আর এখন অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে না। সরকার তাদের দায়িত্ব নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪৫টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রধান ৯টি খাত হলো-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন, খোলাবাজারে খাদ্য শস্য বিক্রয় (ওএমএস), কাজের বিনিময়ে খাদ্য/টাকা, টেস্ট রিলিফ, ভিজিএফ, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি, শিক্ষাবৃত্তি, উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডি। এ ৯টি খাতে সরকারের ব্যয় হয় বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা উধাও হয়েছে। ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তারা এখন আর মানুষের কাছে হাত পাতে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৯৮ সালে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১১ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এরপর থেকে বার্ষিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশের অধিকই রাখা হয়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ৩০ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরের বরাদ্দ জিডিপির ৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এক সময় আমাদের দেশে মানুষ কাজ না পেয়ে অনাহারে দিন কাটিয়েছে। এখন গ্রামগঞ্জে কাজের লোক পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ৭৮ লাখ গ্রামীণ বেকার মজুরের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান করেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের আরেকটি উৎস কাবিখা-কাবিটা কর্মসূচি।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০ লাখ ৩১ হাজার টন খাদ্যশস্য ও ৪১৬৬ কোটি টাকার বিনিময়ে বিগত ১০ বছরে ১ কোটি ৬২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ সময়কালে বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাক, বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন এবং ১ কোটি ৯ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ ১৯৩ কোটি টাকার অর্থ সহায়তা পেয়েছেন। সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে, কোনো মানুষ যেন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে খাদ্য সংকটে কষ্ট না পায়।

কোভিড-১৯-এ যখন পুরো বিশ্ব বিপর্যস্ত, ঠিক সে সময় দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সরকার ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১০০টি উপজেলায় শতভাগ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এই তিনটি ভাতায় নতুন করে উপকারভোগী যুক্ত হবেন ১১ লাখেরও অধিক দরিদ্র ও অসহায় জনগণ।

করোনাকালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ে দরিদ্র ও অসহায় জনগণ। তাদের মধ্যে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিভিন্ন ধরনের ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, যা এই ক্রান্তিকালে দরিদ্র জনগণের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের অনেকটা নির্ভার রাখতে সক্ষম হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত সৃষ্ট দুর্যোগ লাঘবে মানবিক সহায়তা হিসাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

এ পর্যন্ত সারা দেশে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৩৯ টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৫১ টন। এতে উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার ৮৪১ এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা সাত কোটি ৪১ লাখ ৩২ হাজার ৩১২ জন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শিশুখাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ ত্রাণ হিসাবে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯৮ কোটি ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। কাজের সংস্থান হওয়ায় মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্য বেড়েছে।

খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় নিরক্ষর জনগোষ্ঠী অক্ষর জ্ঞান অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ২০০৯ সালের সাক্ষরতার হার ৫৬ দশমিক ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০১৯-২০ সালে ২০৬৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার একটি বড় অংশ দেখাশোনা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দুস্থ, দরিদ্র, অবহেলিত, অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা সেবা দিয়ে থাকে এ মন্ত্রণালয়। তাদের মূল কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে-বয়স্ক ভাতা (৪৯ লাখ); বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা (২০ লাখ ৫০ হাজার); অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা (১৮ লাখ); প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি (১ লাখ) ও এতিম শিশুদের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট (৯৬ হাজার ৬৭৬)। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় সব দেশে বিভিন্ন আকারে ছিল, আছে ও বিদ্যমান থাকবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত গরিব ও অসহায় মানুষদের নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বেষ্টিত। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। বেসরকারি খাতে লাখ লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়া কৃষক-শ্রমিকের সংখ্যাও অনেক। প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের পেনশন দিচ্ছে না। তাদের বাকি জীবনটা কিভাবে কাটবে? তারা কি স্বজনের ওপরই নির্ভর করে চলবে? এটা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী থাকাকালে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার সেই চেষ্টা এখনো দৃশ্যমান নয়।

আমরা আশা করব, দ্রুত বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদেরও পেনশনের আওতায় আনতে হবে। কারণ, সারাজীবন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মানুষের মুখের খাবার উৎপাদন করেন কৃষক। কর্মক্ষমতা হারালেই তাদের জীবনে দেখা দেয় নানারকম দুর্ভোগ। তাদের সন্তানরাও সাধারণত সচ্ছল থাকে না। এ কারণে বাবা-মার ভরণপোষণে তাদেরও বেগ পেতে হয়।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, কৃষকদের নামমাত্র প্রিমিয়াম (মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা) এবং সরকার কিছু টাকা ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের জীবন বীমা করে দিতে পারে। এতে গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় পর বেশ কিছু টাকা পেলে তার আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে। কিছুটা হলেও সচ্ছলতা আসবে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী।

সাংবাদিক

md.apu_a@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন