ঐতিহ্যবাহী রূপলাল হাউজ সংরক্ষণ করা জরুরি
jugantor
ঐতিহ্যবাহী রূপলাল হাউজ সংরক্ষণ করা জরুরি

  মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ  

০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার মধ্যে রূপলাল হাউজ ঊনবিংশ শতকে নির্মিত একটি ভবন। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরপাড়ে ফরাশগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। ফরাশগঞ্জে আসার পর আহসান মঞ্জিলের কথা বললে সবাই এক আঙুলে দেখিয়ে দিবে; কিন্তু যদি বলেন-রূপলাল হাউজটা কোথায়; তাহলে লোকজন মাথা চুলকাবে। কথিত আছে, এককালে ব্রিটিশরা ঢাকা এলে রূপলাল হাউজে রুম ভাড়া নিয়ে থাকত। রুম ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। ঢাকার নবাব আর রূপলাল বাবুদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ সব সময় লেগেই থাকত। সে সময় ঢাকা শহরে নাচঘর বা বলরুম ছিল শুধু আহসান মঞ্জিল ও রূপলাল হাউজে। ১৮৮৮ সালের কোনো এক সময় লর্ড ডাফরিন ঢাকায় আসার পর তার সম্মানে নাচগানের আসর বসানো নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে ঢাকার নবাব আর রূপলাল বাবুরা। সে সময় অনেক বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছিল রূপলাল হাউজ। রূপলাল হাউজের রূপলাল দাশ ও রঘুনাথ দাশ বাবু কালের বির্বতনে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছেন। হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে এ বাড়িটাও।

রূপলাল হাউজ রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় ঊনবিংশ শতকে নির্মিত একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণ করেন হিন্দু ব্যবসায়ী ভ্রাতৃদ্বয় রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস। এই ভবনটি ৯১ দশমিক ৪৪ মিটার দীর্ঘ একটি দ্বিতল ভবন। দ্বিতল এই ভবনের স্থাপত্যশৈলী অভিনব। এটি জমিদার ও বণিকদের তৈরি, যাকে ‘ইউনিক’ বলেছেন স্থাপত্যবিদরা। এর পেছনভাগে বুড়িগঙ্গা নদী প্রবহমান। রূপলাল ঢাকার বিখ্যাত আর্মেনীয় জমিদার আরাতুনের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে পুনর্র্নিমাণ করেছিলেন। এর নির্মাণকাল ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক। মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানির একজন স্থপতি এর নকশা প্রণয়ন করেছিলেন। দ্বিতল এই ভবনের স্থাপত্য শৈলী অভিনব। ভবনটি দুটি অসম অংশে বিভক্ত, যার প্রতিটিতে কিছুটা ভিন্ন স্থাপত্য শৈলী দেখা যায়। এর ভিত্তিভূমি ইংরেজি ‘ঊ’ অক্ষরের মতো, যার বাহুত্রয় শহরের দিকে প্রসারিত। রূপলাল হাউজে দুটি অংশে বিভিন্ন আয়তনের ৫০টিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি প্রশস্ত দরবার কক্ষ। ভবনের পশ্চিামংশে দোতলায় অবস্থিত নাচঘরটি আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি। এর মেঝে ছিল কাঠের। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগকালে রূপলালের উত্তরাধিকারীরা ঢাকা ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। খাতা কলমে রূপলাল হাউজ টিকে থাকলেও এটিকে এখন জামাল হাউস নামেই বেশির ভাগ লোক চিনে। সাম্প্রতিক কালে রূপলাল হাউজ মসলা ও সবজি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছিল। সরকারিভাবে এই স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সম্পদ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্ত ভবনটি সংরক্ষণের আওতায় আনতে পারিনি সরকার।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ঐতিহ্যবাহী রূপলাল হাউজ সংরক্ষণ করা জরুরি

 মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ 
০৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার মধ্যে রূপলাল হাউজ ঊনবিংশ শতকে নির্মিত একটি ভবন। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরপাড়ে ফরাশগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। ফরাশগঞ্জে আসার পর আহসান মঞ্জিলের কথা বললে সবাই এক আঙুলে দেখিয়ে দিবে; কিন্তু যদি বলেন-রূপলাল হাউজটা কোথায়; তাহলে লোকজন মাথা চুলকাবে। কথিত আছে, এককালে ব্রিটিশরা ঢাকা এলে রূপলাল হাউজে রুম ভাড়া নিয়ে থাকত। রুম ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। ঢাকার নবাব আর রূপলাল বাবুদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ সব সময় লেগেই থাকত। সে সময় ঢাকা শহরে নাচঘর বা বলরুম ছিল শুধু আহসান মঞ্জিল ও রূপলাল হাউজে। ১৮৮৮ সালের কোনো এক সময় লর্ড ডাফরিন ঢাকায় আসার পর তার সম্মানে নাচগানের আসর বসানো নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামে ঢাকার নবাব আর রূপলাল বাবুরা। সে সময় অনেক বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছিল রূপলাল হাউজ। রূপলাল হাউজের রূপলাল দাশ ও রঘুনাথ দাশ বাবু কালের বির্বতনে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছেন। হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে এ বাড়িটাও।

রূপলাল হাউজ রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় ঊনবিংশ শতকে নির্মিত একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণ করেন হিন্দু ব্যবসায়ী ভ্রাতৃদ্বয় রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস। এই ভবনটি ৯১ দশমিক ৪৪ মিটার দীর্ঘ একটি দ্বিতল ভবন। দ্বিতল এই ভবনের স্থাপত্যশৈলী অভিনব। এটি জমিদার ও বণিকদের তৈরি, যাকে ‘ইউনিক’ বলেছেন স্থাপত্যবিদরা। এর পেছনভাগে বুড়িগঙ্গা নদী প্রবহমান। রূপলাল ঢাকার বিখ্যাত আর্মেনীয় জমিদার আরাতুনের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে পুনর্র্নিমাণ করেছিলেন। এর নির্মাণকাল ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক। মার্টিন অ্যান্ড কোম্পানির একজন স্থপতি এর নকশা প্রণয়ন করেছিলেন। দ্বিতল এই ভবনের স্থাপত্য শৈলী অভিনব। ভবনটি দুটি অসম অংশে বিভক্ত, যার প্রতিটিতে কিছুটা ভিন্ন স্থাপত্য শৈলী দেখা যায়। এর ভিত্তিভূমি ইংরেজি ‘ঊ’ অক্ষরের মতো, যার বাহুত্রয় শহরের দিকে প্রসারিত। রূপলাল হাউজে দুটি অংশে বিভিন্ন আয়তনের ৫০টিরও বেশি কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি প্রশস্ত দরবার কক্ষ। ভবনের পশ্চিামংশে দোতলায় অবস্থিত নাচঘরটি আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি। এর মেঝে ছিল কাঠের। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগকালে রূপলালের উত্তরাধিকারীরা ঢাকা ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। খাতা কলমে রূপলাল হাউজ টিকে থাকলেও এটিকে এখন জামাল হাউস নামেই বেশির ভাগ লোক চিনে। সাম্প্রতিক কালে রূপলাল হাউজ মসলা ও সবজি ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছিল। সরকারিভাবে এই স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সম্পদ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্ত ভবনটি সংরক্ষণের আওতায় আনতে পারিনি সরকার।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন