সৎ ও দক্ষ ভিসি চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
jugantor
সৎ ও দক্ষ ভিসি চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে

  গোলাম সারওয়ার  

০৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৬ জুলাই ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ প্রেক্ষপটে আমাদের একটাই প্রাণের দাবি আর তা হলো-অতি দ্রুত একজন সৎ, নির্ভীক, নিষ্ঠাবান ও পণ্ডিত ব্যক্তিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হোক; যিনি হবেন শিক্ষার্থীবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত। সততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা যিনি এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অধিকতর মনোযোগী হবেন। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনই একজন ভিসি প্রয়োজন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ঘটনার জন্ম দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশুভ কিছু বিষয়ে রেকর্ড গড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর (অধ্যাপক) পদে পদোন্নতিতে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষক এগিয়ে আছেন। মূলত পদোন্নতির নীতিমালা সহজীকরণের ফলে এমন ঘটনা ঘটছে।

বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদ পর্যন্ত পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। দেখা গেছে, সেখানে একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা থাকার পরও অধ্যাপক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে; অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির সহজ নীতিমালার বদৌলতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এখানকার শিক্ষকরা প্রফেসর হচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি বিভাগে প্রফেসরের ছড়াছড়ি; যার কারণে শিক্ষকদের মান নিুমুখী হচ্ছে; শিক্ষা ও গবেষণায় পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

ছাত্র-শিক্ষক ও অধ্যাপকের অনুপাত হিসাব করলে দেখা যাবে- সবচেয়ে এগিয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ঘোষিত পদের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এখানে। নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের বিভক্তিতে এগিয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় রেকর্ড গড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নৈতিক স্খলনের অভিযোগও সবচেয়ে বেশি। এমন কী সারা বিশ্বের মানুষ যখন করোনা মহামারিতে আতঙ্কিত, এ সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে চলেছে বিভিন্ন দুঃখজনক ঘটনা।

করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময় এর প্রধান ফটকের সামনে সারিবদ্ধভাবে লাগানো দৃষ্টিনন্দন অনেক পামগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে। প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ট্রাকে করে মাটি চুরি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ কাজ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সম্মতিতে হয়েছে বলে অভিয়োগ রয়েছে। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন সাবেক ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহান। তিনি তার মেয়াদের শেষদিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজ ক্ষমতাবলে ১৩৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিকে এডহকভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সমালোচনার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন। প্রফেসর সোবহানের নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

চরম দুরবস্থায় নিপতিত এ বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন করতে হলে কোনো সাধারণ মানের ভিসির পক্ষে তা সম্ভব হবে না। এখানে এমন একজন ভিসি নিয়োগ দিতে হবে, যিনি হবেন গণতন্ত্রমনা ও অত্যন্ত বলিষ্ঠ চিত্তের অধিকারী; যিনি সুদক্ষ হাতে ধৈর্যের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা-মনন-উৎকর্ষ লাভের ক্ষেত্র হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। যিনি লোভ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকবেন। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন। যিনি দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ছাত্রস্বার্থ রক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে অধিকতর মনোযোগী হবেন। তাকে বিভাজিত ও অসুস্থ লেজুড়বৃত্তির ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিসহ অন্যান্য নেতিকবাচক প্রভাব থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন।

এছাড়া আমরা ‘রাকসু’ সক্রিয় দেখতে চাই। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ’৭৩-এর অধ্যাদেশ মোতাবেক ভিসিসহ সবরকম কার্যক্রম দেখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চার পীঠস্থান হিসাবে দেখতে চাই। আমরা শিক্ষক পদোন্নতি নীতিমালার পরিবর্তন চাই। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে লেখা আছে-একটি দেশকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বোমা লাগে না। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, সে দেশের শিক্ষার মান নামিয়ে দাও। শিক্ষক-ছাত্রদের নীতিহীন করে দাও। এর ফলে দেখা যাবে- ডাক্তারদের হাতে রোগী মারা যাাচ্ছে; ইঞ্জিনিয়ারদের হাতেগড়া ভবন ধসে পড়ছে; অর্থনীতিবিদ ও একাউন্টেন্টদের হাতে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে; ধর্মীয় পণ্ডিতদের হাতে মানবতা ধ্বংস হচ্ছে। এক কথায়, শিক্ষা ধ্বংস মানে গোটা দেশ তথা জাতি ধ্বংস। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের দাবি-আমলাদের ইচ্ছায় নয়; নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গভীরভাবে নজরে এনে অতি সত্ত্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল, সৎ, দক্ষ, নির্ভীক দেশপ্রেমিক একজন ভিসি নিয়োগ দেবেন।

সাবেক কর্মকর্তা, রাবি

golamss636@gmail.com

সৎ ও দক্ষ ভিসি চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে

 গোলাম সারওয়ার 
০৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৬ জুলাই ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ প্রেক্ষপটে আমাদের একটাই প্রাণের দাবি আর তা হলো-অতি দ্রুত একজন সৎ, নির্ভীক, নিষ্ঠাবান ও পণ্ডিত ব্যক্তিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হোক; যিনি হবেন শিক্ষার্থীবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত। সততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা যিনি এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অধিকতর মনোযোগী হবেন। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনই একজন ভিসি প্রয়োজন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ঘটনার জন্ম দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশুভ কিছু বিষয়ে রেকর্ড গড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর (অধ্যাপক) পদে পদোন্নতিতে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষক এগিয়ে আছেন। মূলত পদোন্নতির নীতিমালা সহজীকরণের ফলে এমন ঘটনা ঘটছে।

বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদ পর্যন্ত পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। দেখা গেছে, সেখানে একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা থাকার পরও অধ্যাপক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে; অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির সহজ নীতিমালার বদৌলতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এখানকার শিক্ষকরা প্রফেসর হচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি বিভাগে প্রফেসরের ছড়াছড়ি; যার কারণে শিক্ষকদের মান নিুমুখী হচ্ছে; শিক্ষা ও গবেষণায় পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

ছাত্র-শিক্ষক ও অধ্যাপকের অনুপাত হিসাব করলে দেখা যাবে- সবচেয়ে এগিয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ঘোষিত পদের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এখানে। নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের বিভক্তিতে এগিয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় রেকর্ড গড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর বাইরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নৈতিক স্খলনের অভিযোগও সবচেয়ে বেশি। এমন কী সারা বিশ্বের মানুষ যখন করোনা মহামারিতে আতঙ্কিত, এ সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে চলেছে বিভিন্ন দুঃখজনক ঘটনা।

করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময় এর প্রধান ফটকের সামনে সারিবদ্ধভাবে লাগানো দৃষ্টিনন্দন অনেক পামগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে। প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে ট্রাকে করে মাটি চুরি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ কাজ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সম্মতিতে হয়েছে বলে অভিয়োগ রয়েছে। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন সাবেক ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহান। তিনি তার মেয়াদের শেষদিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজ ক্ষমতাবলে ১৩৮ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিকে এডহকভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সমালোচনার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন। প্রফেসর সোবহানের নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

চরম দুরবস্থায় নিপতিত এ বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন করতে হলে কোনো সাধারণ মানের ভিসির পক্ষে তা সম্ভব হবে না। এখানে এমন একজন ভিসি নিয়োগ দিতে হবে, যিনি হবেন গণতন্ত্রমনা ও অত্যন্ত বলিষ্ঠ চিত্তের অধিকারী; যিনি সুদক্ষ হাতে ধৈর্যের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা-মনন-উৎকর্ষ লাভের ক্ষেত্র হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। যিনি লোভ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকবেন। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন। যিনি দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ছাত্রস্বার্থ রক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে অধিকতর মনোযোগী হবেন। তাকে বিভাজিত ও অসুস্থ লেজুড়বৃত্তির ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিসহ অন্যান্য নেতিকবাচক প্রভাব থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন।

এছাড়া আমরা ‘রাকসু’ সক্রিয় দেখতে চাই। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ’৭৩-এর অধ্যাদেশ মোতাবেক ভিসিসহ সবরকম কার্যক্রম দেখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চার পীঠস্থান হিসাবে দেখতে চাই। আমরা শিক্ষক পদোন্নতি নীতিমালার পরিবর্তন চাই। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে লেখা আছে-একটি দেশকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বোমা লাগে না। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, সে দেশের শিক্ষার মান নামিয়ে দাও। শিক্ষক-ছাত্রদের নীতিহীন করে দাও। এর ফলে দেখা যাবে- ডাক্তারদের হাতে রোগী মারা যাাচ্ছে; ইঞ্জিনিয়ারদের হাতেগড়া ভবন ধসে পড়ছে; অর্থনীতিবিদ ও একাউন্টেন্টদের হাতে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে; ধর্মীয় পণ্ডিতদের হাতে মানবতা ধ্বংস হচ্ছে। এক কথায়, শিক্ষা ধ্বংস মানে গোটা দেশ তথা জাতি ধ্বংস। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের দাবি-আমলাদের ইচ্ছায় নয়; নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গভীরভাবে নজরে এনে অতি সত্ত্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল, সৎ, দক্ষ, নির্ভীক দেশপ্রেমিক একজন ভিসি নিয়োগ দেবেন।

সাবেক কর্মকর্তা, রাবি

golamss636@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন