ইজিবাইক বন্ধের আগে যেসব বিষয় ভেবে দেখা জরুরি
jugantor
ইজিবাইক বন্ধের আগে যেসব বিষয় ভেবে দেখা জরুরি

  মো. নজরুল ইসলাম  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এখন করোনা মহামারির ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক কর্মজীবী মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া অনেক প্রবাসী, যারা করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে দেশে এসেছিল; কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশে ফেরত যেতে পারছে না। ফলে তারাও বেকার জীবন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও এসব পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে বড় কথা, বেকার যুবকদের অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়ে চুরি-ছিনতাই, এমন কী ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশিত হতো। তবে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক সহজলভ্য হওয়ায় অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

বেকার তরুণদের অনেকেই এ পেশায় যুক্ত হয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে; তেমনি এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমানে ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে। ফলে সারা দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ব্যাটারি ফ্যাক্টরি রয়েছে প্রায় ২৫-৩০টি। প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে আনুমানিক দুই হাজার মানুষ কাজ করায় সর্বমোট প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজ করছে। এ ৬০ হাজার মানুষের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার।

আনুমানিক হিসাবে অন্তত তিন লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে, দেশে ইজিবাইক তৈরির কারখানা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। আমার জানামতে, পরিবারসহ প্রায় ২৫ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এসব কারখানা থেকে। এছাড়া সারা দেশে থানা ও জেলা পর্যায়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের মোট দোকান রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার। এসব দোকানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। এদের প্রত্যেকের পরিবারসহ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হচ্ছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দোকানে চাকরির মাধ্যমে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ও ইজিবাইকচালক রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। এসব নিুআয়ের মানুষের ওপর তাদের পরিবারের অন্য মানুষগুলো নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে হিসাব করলে আনুমানিক প্রায় দুই কোটি মানুষের খাবারের জোগান দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক খাত। এ ছাড়া এ যানবাহনটির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যাতায়াত করা যায়।

শহরে বা গ্রামেগঞ্জে এমন অনেক রাস্তা রয়েছে, যেখানে বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না; অথচ রিকশা অথবা ইজিবাইক নিয়ে সহজেই সেখানে যাতায়াত করা যায়।

গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত সারা দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ, যারা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত; সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, মানবতার কাণ্ডারি মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ পরিস্থিতিতে আমাদের আশার আলো দেখাবেন। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের অবলম্বন বন্ধ না করে বরং প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রিকশা ও ইজিবাইকগুলোর ক্ষেত্রে যদি বাৎসরিক একটি ফি ধার্য করা হয়, তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের আগে এসব বিষয় ভেবে দেখা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা

ইজিবাইক বন্ধের আগে যেসব বিষয় ভেবে দেখা জরুরি

 মো. নজরুল ইসলাম 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এখন করোনা মহামারির ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক কর্মজীবী মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া অনেক প্রবাসী, যারা করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে দেশে এসেছিল; কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশে ফেরত যেতে পারছে না। ফলে তারাও বেকার জীবন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও এসব পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে বড় কথা, বেকার যুবকদের অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়ে চুরি-ছিনতাই, এমন কী ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রায়ই সংবাদ প্রকাশিত হতো। তবে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক সহজলভ্য হওয়ায় অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

বেকার তরুণদের অনেকেই এ পেশায় যুক্ত হয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেমন অবদান রাখছে; তেমনি এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমানে ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে। ফলে সারা দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ব্যাটারি ফ্যাক্টরি রয়েছে প্রায় ২৫-৩০টি। প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে আনুমানিক দুই হাজার মানুষ কাজ করায় সর্বমোট প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজ করছে। এ ৬০ হাজার মানুষের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার।

আনুমানিক হিসাবে অন্তত তিন লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে, দেশে ইজিবাইক তৈরির কারখানা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। আমার জানামতে, পরিবারসহ প্রায় ২৫ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এসব কারখানা থেকে। এছাড়া সারা দেশে থানা ও জেলা পর্যায়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের মোট দোকান রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার। এসব দোকানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। এদের প্রত্যেকের পরিবারসহ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হচ্ছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দোকানে চাকরির মাধ্যমে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক ও ইজিবাইকচালক রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। এসব নিুআয়ের মানুষের ওপর তাদের পরিবারের অন্য মানুষগুলো নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে হিসাব করলে আনুমানিক প্রায় দুই কোটি মানুষের খাবারের জোগান দিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক খাত। এ ছাড়া এ যানবাহনটির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে যাতায়াত করা যায়।

শহরে বা গ্রামেগঞ্জে এমন অনেক রাস্তা রয়েছে, যেখানে বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না; অথচ রিকশা অথবা ইজিবাইক নিয়ে সহজেই সেখানে যাতায়াত করা যায়।

গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত সারা দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ, যারা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত; সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, মানবতার কাণ্ডারি মমতাময়ী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ পরিস্থিতিতে আমাদের আশার আলো দেখাবেন। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের অবলম্বন বন্ধ না করে বরং প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রিকশা ও ইজিবাইকগুলোর ক্ষেত্রে যদি বাৎসরিক একটি ফি ধার্য করা হয়, তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায় যেমন বাড়বে, তেমনি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের আগে এসব বিষয় ভেবে দেখা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন