বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’
jugantor
বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’

  তোফাজ্জল হোসেন  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহই হলো বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে। দেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন রয়েছে। ১৯২৯ সালে প্রণীত এই আইনের নাম ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’। এই আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ বছর ও ছেলেদের ১৮ বছর। ১৯৮৪ সালে এই আইনে পরিবর্তন এনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয় মেয়েদের জন্য ১৮ বছর ও ছেলেদের জন্য ২১ বছর। ২০১৭ সালে প্রণীত বর্তমান আইনে বয়সের সীমা এক রেখে, শাস্তির সময়কাল ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই বছর এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন আইনে শাস্তির আওতায় কারা আসবে-তার পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা বিয়ে পরিচালনা করেন এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন, বর্তমান আইনে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক বর, কনে বা তাদের পরিবার নয়; সংশ্লিষ্ট সবাই আইন ভঙের শাস্তি পাবে। নতুন আইনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এ ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণকারী সনদগুলো ‘নির্দিষ্ট’ করা হয়েছে।

২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে-বলেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ কাজটি সম্পন্ন হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে; দারিদ্র্য কমিয়ে ও শিক্ষার হার বাড়িয়ে। ২০১৪ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বাল্যবিয়েবিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। বস্তুত এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশে চলছে বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম ও কর্মসূচি। এখানে আলো-আঁধারির গল্প আছে অনেক; তবে আলোর মশাল জ্বালাতে পথচলা অব্যাহত রয়েছে আমাদের, যদিও সময়টা চ্যালেঞ্জের।

লাখ লাখ মেয়েশিশু যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা পরিস্থিতি এবং এর ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, বন্ধুবান্ধব ও সহায়তা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে-এমন মন্তব্যই করেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি। তিনি আরও বলেছেন-বাল্যবিয়ের ঝুঁকি কমাতে স্কুলগুলো ফের চালু করা এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এমন বৈশ্বিক মহামারিকাল অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াটা সত্যিই আজ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তরুণ-তরুণীদের মাঝে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি ও পরিকল্পিত পরিবার গঠনের সুবিধা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বেতারের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল প্রচার করছে বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’। সজীব দত্তের উপস্থাপনায় উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) তোফাজ্জল হোসেনের প্রযোজনায় প্রতি শনিবার রাত ৮.১০ মিনিটে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা-ক, এফএম ১০৬ মে.হা., বাংলাদেশ বেতারের অ্যাপস ও ওয়েবসাইটে শোনা যাচ্ছে এ অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান রয়েছে অনুষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের ৫০টিরও অধিক জেলা ও প্রায় ১২০টির মতো উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশ বেতারের মাইক্রোফোন হাতে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে ছুটে গেছেন, ধারণ করেছেন এ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান। বস্তুত এ প্রয়াসের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের যে যুদ্ধ আমাদের; তাতে অংশগ্রহণ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন তৈরির প্রয়াসে চলা এ অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলার অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি যুক্ত হয়েছেন; অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (সাবেক জেলা প্রশাসক, ঢাকা) আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, বর্তমান জেলা প্রশাসক, ঢাকা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। এছাড়া পাবনা, পিরোজপুর, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লাসহ অনেক জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠানের সফলতা অনেক, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এ অনুষ্ঠান শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাল্যবিয়ে বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে সারা দেশে। জামালপুরের সরিষাবাড়ির আতিফ আসাদ গড়ে তুলেছেন তারুণ্যের কণ্ঠ বাল্যবিয়ে বিরোধী সংগঠন। তারা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধও করেছেন। এ অনুষ্ঠান শুনে নীলফামারীর মো. আলমগীর হোসেন গড়ে তুলেছেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সংঘ। নিয়মিত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং এর কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে এ সংঘের সদস্যরা। এ ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে তারুণ্যের কণ্ঠ অনুষ্ঠানটি। তাদের মধ্যে বেড়েছে বাল্যবিয়ে না করার প্রবণতা। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও বেড়েছে সচেতনতা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমাদের প্রত্যাশা ‘হার না মানার’। ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল-এ কথা জানা। স্বাধীনতা অর্জন এবং এরপর থেকে আজ পর্যন্ত দেশ গড়ার কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে বন্ধ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান), বাংলাদেশ বেতার

বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’

 তোফাজ্জল হোসেন 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহই হলো বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে। দেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন রয়েছে। ১৯২৯ সালে প্রণীত এই আইনের নাম ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’। এই আইনে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ বছর ও ছেলেদের ১৮ বছর। ১৯৮৪ সালে এই আইনে পরিবর্তন এনে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয় মেয়েদের জন্য ১৮ বছর ও ছেলেদের জন্য ২১ বছর। ২০১৭ সালে প্রণীত বর্তমান আইনে বয়সের সীমা এক রেখে, শাস্তির সময়কাল ও অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই বছর এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন আইনে শাস্তির আওতায় কারা আসবে-তার পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা বিয়ে পরিচালনা করেন এবং বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন, বর্তমান আইনে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক বর, কনে বা তাদের পরিবার নয়; সংশ্লিষ্ট সবাই আইন ভঙের শাস্তি পাবে। নতুন আইনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এ ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণকারী সনদগুলো ‘নির্দিষ্ট’ করা হয়েছে।

২০৪১ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে-বলেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ কাজটি সম্পন্ন হবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে; দারিদ্র্য কমিয়ে ও শিক্ষার হার বাড়িয়ে। ২০১৪ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বাল্যবিয়েবিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। বস্তুত এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশে চলছে বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম ও কর্মসূচি। এখানে আলো-আঁধারির গল্প আছে অনেক; তবে আলোর মশাল জ্বালাতে পথচলা অব্যাহত রয়েছে আমাদের, যদিও সময়টা চ্যালেঞ্জের।

লাখ লাখ মেয়েশিশু যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা পরিস্থিতি এবং এর ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, বন্ধুবান্ধব ও সহায়তা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে-এমন মন্তব্যই করেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি। তিনি আরও বলেছেন-বাল্যবিয়ের ঝুঁকি কমাতে স্কুলগুলো ফের চালু করা এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এমন বৈশ্বিক মহামারিকাল অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াটা সত্যিই আজ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তরুণ-তরুণীদের মাঝে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি ও পরিকল্পিত পরিবার গঠনের সুবিধা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বেতারের জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল প্রচার করছে বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘তারুণ্যের কণ্ঠ’। সজীব দত্তের উপস্থাপনায় উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) তোফাজ্জল হোসেনের প্রযোজনায় প্রতি শনিবার রাত ৮.১০ মিনিটে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা-ক, এফএম ১০৬ মে.হা., বাংলাদেশ বেতারের অ্যাপস ও ওয়েবসাইটে শোনা যাচ্ছে এ অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান রয়েছে অনুষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের ৫০টিরও অধিক জেলা ও প্রায় ১২০টির মতো উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশ বেতারের মাইক্রোফোন হাতে সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে ছুটে গেছেন, ধারণ করেছেন এ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান। বস্তুত এ প্রয়াসের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের যে যুদ্ধ আমাদের; তাতে অংশগ্রহণ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন তৈরির প্রয়াসে চলা এ অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলার অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি যুক্ত হয়েছেন; অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (সাবেক জেলা প্রশাসক, ঢাকা) আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, বর্তমান জেলা প্রশাসক, ঢাকা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। এছাড়া পাবনা, পিরোজপুর, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লাসহ অনেক জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

‘তারুণ্যের কণ্ঠ’ অনুষ্ঠানের সফলতা অনেক, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এ অনুষ্ঠান শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাল্যবিয়ে বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে সারা দেশে। জামালপুরের সরিষাবাড়ির আতিফ আসাদ গড়ে তুলেছেন তারুণ্যের কণ্ঠ বাল্যবিয়ে বিরোধী সংগঠন। তারা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধও করেছেন। এ অনুষ্ঠান শুনে নীলফামারীর মো. আলমগীর হোসেন গড়ে তুলেছেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সংঘ। নিয়মিত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং এর কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে এ সংঘের সদস্যরা। এ ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে তারুণ্যের কণ্ঠ অনুষ্ঠানটি। তাদের মধ্যে বেড়েছে বাল্যবিয়ে না করার প্রবণতা। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও বেড়েছে সচেতনতা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমাদের প্রত্যাশা ‘হার না মানার’। ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল-এ কথা জানা। স্বাধীনতা অর্জন এবং এরপর থেকে আজ পর্যন্ত দেশ গড়ার কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ বেতার। বাল্যবিয়ে বা শিশুবিয়ে বন্ধ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান), বাংলাদেশ বেতার

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন