ফসলি জমিতে মাছ চাষের হিড়িক
jugantor
ফসলি জমিতে মাছ চাষের হিড়িক

  জয়নুল আবেদীন  

২৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শত শত বছর ধরে কৃষকরা যে জমিতে বোরো, আমন, সাইল ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে আসছিলেন, সে সংস্কৃতি এখন বিলুপ্তির পথে। কৃষক তার পুরোনো গৌরব ধরে রাখতে পারছেন না। সহজ-সরল কৃষকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কিছু লোক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় খুব সহজেই কৃষিজমিতে জলাশয় বানিয়ে মাছ চাষ করছেন। অত্যাধুনিক ভেকু দিয়ে মাটি খনন করে তার অর্ধেক বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় অথবা বসতভিটায়। বাকি মাটি দিয়ে মাছ খামারের পাড় নির্মাণ করছেন। মাছের খামারের নামে অবাধে জলাশয় অথবা পুকুর বানানোর ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ। এমনিতেই ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে ফসলি জমি নষ্ট করে হাজার হাজার শিল্পকারখানা নির্মাণ হচ্ছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে, গাজীপুরসহ অন্যান্য নিচু এলাকায় ফসলের জমি নষ্ট করে মাছ চাষের হিড়িক পড়ে গেছে। বেশি টাকার লোভে কৃষকরাও মুখ বন্ধ করে রাখছেন।

এক বিঘা জমিতে ফসল আবাদ কৃষকের যেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাভ থাকে, সেখানে মাছ খামারের মালিকরা বছরে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত টাকা দিচ্ছেন। কষ্ট না করে সহজেই বসে বসে টাকা পাওয়াকে ‘ভালো’ মনে করছেন কৃষক। এদিকে দশ থেকে পনেরো বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষের নামে গোটা জমি নষ্ট করছেন খামারিরা। মৎস্য খামারের চারপাশে বাঁধ দেওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি নামতে পারে না। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলবদ্ধতা। নষ্ট হচ্ছে ফসল। লিজ নিয়ে খামার বানিয়ে কেউ কেউ লাভবান হলেও কৃষক হারাচ্ছে ভবিষ্যতের কৃষিজমি। কৃষকরা এখন ফসল আবাদ করতে না পেরে বেশি মূল্যে বাজার থেকে চাল কিনে খাচ্ছে। তাছাড়া কাজ না থাকায় বেশিরভাগ কৃষক এখন অলস সময় পার করছে। পুকুর খননের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ এলাকার কেউ তা মানছে না। সরেজমিন তদন্ত করে দেখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুকুর খনন বন্ধ হবে আমার বিশ্বাস। তা না হলে অচিরেই নষ্ট হবে সব এখানকার সব ফসলি জমি। তখন পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখা যাবে না; প্রকৃতি হারাবে তার নিজস্ব গতি।

শিশু সাহিত্যিক, শ্রীপুর, গাজীপুর

ফসলি জমিতে মাছ চাষের হিড়িক

 জয়নুল আবেদীন 
২৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শত শত বছর ধরে কৃষকরা যে জমিতে বোরো, আমন, সাইল ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে আসছিলেন, সে সংস্কৃতি এখন বিলুপ্তির পথে। কৃষক তার পুরোনো গৌরব ধরে রাখতে পারছেন না। সহজ-সরল কৃষকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কিছু লোক স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় খুব সহজেই কৃষিজমিতে জলাশয় বানিয়ে মাছ চাষ করছেন। অত্যাধুনিক ভেকু দিয়ে মাটি খনন করে তার অর্ধেক বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় অথবা বসতভিটায়। বাকি মাটি দিয়ে মাছ খামারের পাড় নির্মাণ করছেন। মাছের খামারের নামে অবাধে জলাশয় অথবা পুকুর বানানোর ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমির পরিমাণ। এমনিতেই ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে ফসলি জমি নষ্ট করে হাজার হাজার শিল্পকারখানা নির্মাণ হচ্ছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে, গাজীপুরসহ অন্যান্য নিচু এলাকায় ফসলের জমি নষ্ট করে মাছ চাষের হিড়িক পড়ে গেছে। বেশি টাকার লোভে কৃষকরাও মুখ বন্ধ করে রাখছেন।

এক বিঘা জমিতে ফসল আবাদ কৃষকের যেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাভ থাকে, সেখানে মাছ খামারের মালিকরা বছরে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত টাকা দিচ্ছেন। কষ্ট না করে সহজেই বসে বসে টাকা পাওয়াকে ‘ভালো’ মনে করছেন কৃষক। এদিকে দশ থেকে পনেরো বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষের নামে গোটা জমি নষ্ট করছেন খামারিরা। মৎস্য খামারের চারপাশে বাঁধ দেওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি নামতে পারে না। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলবদ্ধতা। নষ্ট হচ্ছে ফসল। লিজ নিয়ে খামার বানিয়ে কেউ কেউ লাভবান হলেও কৃষক হারাচ্ছে ভবিষ্যতের কৃষিজমি। কৃষকরা এখন ফসল আবাদ করতে না পেরে বেশি মূল্যে বাজার থেকে চাল কিনে খাচ্ছে। তাছাড়া কাজ না থাকায় বেশিরভাগ কৃষক এখন অলস সময় পার করছে। পুকুর খননের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ এলাকার কেউ তা মানছে না। সরেজমিন তদন্ত করে দেখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুকুর খনন বন্ধ হবে আমার বিশ্বাস। তা না হলে অচিরেই নষ্ট হবে সব এখানকার সব ফসলি জমি। তখন পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখা যাবে না; প্রকৃতি হারাবে তার নিজস্ব গতি।

শিশু সাহিত্যিক, শ্রীপুর, গাজীপুর

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন