জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন চাই
jugantor
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন চাই

  মো. রবিউল ইসলাম  

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের আস্থার ঠিকানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে মেধাক্রমে সুযোগ না পাওয়ার ফলে এ ঠিকানাই হয়ে উঠে দেশের অগণিত শিক্ষার্থীর অবলম্বন। এখানকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আশা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চতর না হলেও মোটামুটি একটা কর্মজীবন। তবে ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, এমন কী বিসিএস পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে বড় বড় চাকরি করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষার্থী। তাদের সেবার মান আর দশটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের থেকে কম নয়। দুঃখজনক হলো, এখানে পড়তে এসে অনেক শিক্ষার্থীকেই পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে শেষ পর্যন্ত অনেকেই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেন না। এর অনেক কারণ আছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ও ফরম ফিলাপের কোনো পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি নেই; ২. ১ম বর্ষের পর বেশিরভাগ কলেজে আর ঠিকমতো ক্লাস (৫ শতাংশেরও কম) হয় না; ৩. কঠিন বিষয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকে প্রাইভেট পড়া নিয়ে, যার ব্যয়ও অনেক (প্রতিটি বিষয়ে ৫০০ টাকার উপরে); ৪. মফস্বলের শিক্ষার্থীদের বড় সমস্যা থাকে পড়ালেখার খরচ জোগানো নিয়ে। কেউ কেউ টিউশনি করে পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হলেও অনেকেই সে সুযোগও পায় না; ৫. এছাড়া আরও কিছু সাধারণ সমস্যা আছে, যেমন-কলেজগুলোয় সময়-অসময়ে নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত খাত দেখিয়ে অর্থ আদায়, পার্টি-পিকনিকের নাম করে অর্থ আদায় (যা অনেকের কাছেই মাত্রাতিরিক্ত), ইনকোর্স ও টেস্ট পরীক্ষার আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এ ছাড়াও রয়েছে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দাপট (এদের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ)। সর্বোপরি রয়েছে করোনার প্রভাব এবং এর ফলে শিক্ষাবর্ষ হারানো ইত্যাদি।

বলতে বাধ্য হচ্ছি, এসব সমস্যার দিকে নজর দেন না সংশ্লিষ্ট মহল। আমরা চাই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন করা হোক; গড়ে তোলা হোক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে। ক্লাস করাটা হচ্ছে আমাদের প্রধান বিষয়। যারা কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের ক্ষেত্রে অন্তত সপ্তাহে তিন দিনে তিনটি করে সাবজেক্টের ওপর হলেও ক্লাস হোক। বেশি ক্লাস চাই না, মাত্র তিনটি করে ক্লাস এবং সপ্তাহে তিন দিন। কম করে হলেও ৬০ শতাংশ সিলেবাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে যেন পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারি। আমরা চাই, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা। আমাদের মূল্যবান শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধ করা হোক।

সবশেষে বলব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ‘গাধা’ শিক্ষার্থী থাকে না। কয়েকটা শিক্ষাজীবনের ধাপ পেরিয়েই আমাদের এখানে আসা। দেশে শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন করুন, দেশ পালটে যাবে।

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন চাই

 মো. রবিউল ইসলাম 
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের আস্থার ঠিকানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে মেধাক্রমে সুযোগ না পাওয়ার ফলে এ ঠিকানাই হয়ে উঠে দেশের অগণিত শিক্ষার্থীর অবলম্বন। এখানকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আশা করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চতর না হলেও মোটামুটি একটা কর্মজীবন। তবে ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, এমন কী বিসিএস পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে বড় বড় চাকরি করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষার্থী। তাদের সেবার মান আর দশটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের থেকে কম নয়। দুঃখজনক হলো, এখানে পড়তে এসে অনেক শিক্ষার্থীকেই পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে শেষ পর্যন্ত অনেকেই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেন না। এর অনেক কারণ আছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ও ফরম ফিলাপের কোনো পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি নেই; ২. ১ম বর্ষের পর বেশিরভাগ কলেজে আর ঠিকমতো ক্লাস (৫ শতাংশেরও কম) হয় না; ৩. কঠিন বিষয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকে প্রাইভেট পড়া নিয়ে, যার ব্যয়ও অনেক (প্রতিটি বিষয়ে ৫০০ টাকার উপরে); ৪. মফস্বলের শিক্ষার্থীদের বড় সমস্যা থাকে পড়ালেখার খরচ জোগানো নিয়ে। কেউ কেউ টিউশনি করে পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম হলেও অনেকেই সে সুযোগও পায় না; ৫. এছাড়া আরও কিছু সাধারণ সমস্যা আছে, যেমন-কলেজগুলোয় সময়-অসময়ে নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত খাত দেখিয়ে অর্থ আদায়, পার্টি-পিকনিকের নাম করে অর্থ আদায় (যা অনেকের কাছেই মাত্রাতিরিক্ত), ইনকোর্স ও টেস্ট পরীক্ষার আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। এ ছাড়াও রয়েছে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দাপট (এদের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ)। সর্বোপরি রয়েছে করোনার প্রভাব এবং এর ফলে শিক্ষাবর্ষ হারানো ইত্যাদি।

বলতে বাধ্য হচ্ছি, এসব সমস্যার দিকে নজর দেন না সংশ্লিষ্ট মহল। আমরা চাই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়ন করা হোক; গড়ে তোলা হোক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে। ক্লাস করাটা হচ্ছে আমাদের প্রধান বিষয়। যারা কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের ক্ষেত্রে অন্তত সপ্তাহে তিন দিনে তিনটি করে সাবজেক্টের ওপর হলেও ক্লাস হোক। বেশি ক্লাস চাই না, মাত্র তিনটি করে ক্লাস এবং সপ্তাহে তিন দিন। কম করে হলেও ৬০ শতাংশ সিলেবাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে যেন পরীক্ষার হলে ঢুকতে পারি। আমরা চাই, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা। আমাদের মূল্যবান শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় রোধ করা হোক।

সবশেষে বলব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ‘গাধা’ শিক্ষার্থী থাকে না। কয়েকটা শিক্ষাজীবনের ধাপ পেরিয়েই আমাদের এখানে আসা। দেশে শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন করুন, দেশ পালটে যাবে।

শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন