সুরক্ষিত থাকব স্কুল খোলা রাখব
jugantor
সুরক্ষিত থাকব স্কুল খোলা রাখব

  রেবেকা সুলতানা  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকেই বাংলাদেশও এ কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে, এটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। করোনার টিকাদান কার্যক্রম নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব করোনা মহামারি মোকাবিলার এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে রীতিমতো ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা নামের ভাইরাস। করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারিতে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ পড়েছে আর্থিক সংকটে। বস্তুত মৃত্যু, শোক আর সংকটের মধ্যে কাটিয়েছে অগণিত মানুষ। এ প্রেক্ষাপটে জীবন ও জীবিকা দুটির সুরক্ষার জন্য বড় প্রয়োজন ছিল টিকার। তবে টিকা নেওয়া মানেই করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা নয়। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম হলো মাস্ক ব্যবহার করা।

এ ছাড়া হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়েও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। কার্যকর ওষুধ কিংবা টিকা থাকার পরও যে কোনো রোগ বা ভাইরাসের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সুরক্ষিত থাকার অন্যতম উপায়। মূলত এ প্রেক্ষাপট থেকেই ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ দেশজুড়ে মূলধারার স্কুলগুলোর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলে শুরু করেছে ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ড ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ হাতের কোমলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কারণ, সুরক্ষিত হাত নিশ্চিত করে সুস্থ ও সুন্দর জীবন। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাকালে মানুষের জীবনে ‘সেফ হ্যান্ডস’-এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে। আর ব্র্যান্ডটিও তার অবস্থান থেকে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

কেন এই ক্যাম্পেইন

এতদিন এমন ধারণা বিরাজ করছিল-করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে শিশুরা অনেকটাই নিরাপদ। কিন্তু ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদনে এ ধারণাকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিশ্বের ৮৭টি দেশে বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু। এ পরিস্থিতি পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাভাইরাসজনিত সংকট যত দীর্ঘ হবে; শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে; অর্থাৎ বলা চলে, পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ অবস্থায় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার উপায় ও কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে ভাবা জরুরি। আমরা জানি, বহুদিন পর পুনরায় ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের প্রায় সব স্কুল। তবে করোনা ও এ সংক্রান্ত ভয় ও শঙ্কা এখনও সবার মনে গেঁথে আছে। সেইসঙ্গে সচেতনতা ও বিধি-নিষেধ মেনে চলা এবং নতুন সব অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার মতো কিছু বিষয়ও রয়েছে।

অতএব ‘সুরক্ষিত থাকা ও স্কুল খোলা রাখা’র পুরো গল্পটি তাই একই সুতোয় গাঁথা; যেমন-আমি নিয়ম মানলে অন্যের করোনা ঝুঁকি কমবে; তেমনি অন্যরা মানলে আমারও করোনা ঝুঁকি কমবে। তাই সুরক্ষা ও স্কুল খোলা থাকার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতার ওপর। সর্বোপরি, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে সবাইকে; তবেই সুরক্ষিত থাকা যাবে। আর সুরক্ষিত থাকলেই স্কুল খোলা থাকবে। তাই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে, ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ সচেতনতামূলক এ ক্যাম্পেইন।

কতদিন চলবে

দেশজুড়ে স্কুলে স্কুলে চলছে ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে, যা এক মাস ধরে চলবে দেশের অন্যান্য স্কুলেও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু স্কুল হচ্ছে-তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ইস্পাহানি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চিটাগং কলেজিয়েট স্কুল, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, সাভার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, এম. ডব্লিউ উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

যেভাবে চলছে কার্যক্রম

দেশের স্কুলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে। স্কুলের দেওয়ালগুলো নানা রঙে রাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও দূরত্ব বজায় রাখার মতো স্বাস্থ্যবিধির বার্তা। ‘সুরক্ষিত স্কুলে স্বাগতম’ লেখা বর্ণিল গেটে শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছে ‘সেফ হ্যান্ডস’ ও করোনার মতো দেখতে মাপেটরা। স্কুলের মধ্যে ঢুকেই শিক্ষার্থীরা প্রথমে হাত ধুয়ে নিচ্ছে সেফ হ্যান্ডসের মোবাইল হ্যান্ডওয়াশ বুথে। তারপর ইনফরমেটিভ টানেল বা দেওয়াল পার হয়ে ক্লাসে প্রবেশ করছে। আবার প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে একজন তাদের বলছে-কীভাবে সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে ও দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও কেন মানতে হবে এবং এতে কী লাভ হবে-এগুলোসহ পুরো বিষয়টি শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে, শিখিয়ে ও প্র্যাকটিস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘সেফ হ্যান্ডস’ ও করোনার মতো দেখতে মাপেটগুলো শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার পর দেখিয়ে দিচ্ছে-কীভাবে সঠিক উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অভিমত-এ ক্যাম্পেইন সুরক্ষিত থাকা ও স্কুল খোলা রাখার বিষয়টিকে দারুণভাবে আলোকপাত করেছে এবং এ বিষয়ে জনমত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা এ সময়ে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো মধ্যে অন্যতম। কারণ, বাস্তব অবস্থার নিরিখে ‘সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ ক্যাম্পেইনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। ফলে সঙ্গত কারণেই শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এটি দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। করোনার প্রকোপ কতদিন থাকবে, তা কেউ বলতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট ঝুঁকিবহুল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা যাতে নষ্ট না হয়, এদিকটায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উন্নয়ন কর্মী, ঢাকা

সুরক্ষিত থাকব স্কুল খোলা রাখব

 রেবেকা সুলতানা 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকেই বাংলাদেশও এ কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে, এটি দেশবাসীর জন্য অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। করোনার টিকাদান কার্যক্রম নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব করোনা মহামারি মোকাবিলার এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে রীতিমতো ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা নামের ভাইরাস। করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারিতে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ পড়েছে আর্থিক সংকটে। বস্তুত মৃত্যু, শোক আর সংকটের মধ্যে কাটিয়েছে অগণিত মানুষ। এ প্রেক্ষাপটে জীবন ও জীবিকা দুটির সুরক্ষার জন্য বড় প্রয়োজন ছিল টিকার। তবে টিকা নেওয়া মানেই করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা নয়। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম হলো মাস্ক ব্যবহার করা।

এ ছাড়া হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়েও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। কার্যকর ওষুধ কিংবা টিকা থাকার পরও যে কোনো রোগ বা ভাইরাসের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সুরক্ষিত থাকার অন্যতম উপায়। মূলত এ প্রেক্ষাপট থেকেই ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ দেশজুড়ে মূলধারার স্কুলগুলোর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলে শুরু করেছে ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ড ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ হাতের কোমলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কারণ, সুরক্ষিত হাত নিশ্চিত করে সুস্থ ও সুন্দর জীবন। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাকালে মানুষের জীবনে ‘সেফ হ্যান্ডস’-এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে। আর ব্র্যান্ডটিও তার অবস্থান থেকে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

কেন এই ক্যাম্পেইন

এতদিন এমন ধারণা বিরাজ করছিল-করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে শিশুরা অনেকটাই নিরাপদ। কিন্তু ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদনে এ ধারণাকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিশ্বের ৮৭টি দেশে বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু। এ পরিস্থিতি পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাভাইরাসজনিত সংকট যত দীর্ঘ হবে; শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে; অর্থাৎ বলা চলে, পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ অবস্থায় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার উপায় ও কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে ভাবা জরুরি। আমরা জানি, বহুদিন পর পুনরায় ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের প্রায় সব স্কুল। তবে করোনা ও এ সংক্রান্ত ভয় ও শঙ্কা এখনও সবার মনে গেঁথে আছে। সেইসঙ্গে সচেতনতা ও বিধি-নিষেধ মেনে চলা এবং নতুন সব অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার মতো কিছু বিষয়ও রয়েছে।

অতএব ‘সুরক্ষিত থাকা ও স্কুল খোলা রাখা’র পুরো গল্পটি তাই একই সুতোয় গাঁথা; যেমন-আমি নিয়ম মানলে অন্যের করোনা ঝুঁকি কমবে; তেমনি অন্যরা মানলে আমারও করোনা ঝুঁকি কমবে। তাই সুরক্ষা ও স্কুল খোলা থাকার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতার ওপর। সর্বোপরি, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে সবাইকে; তবেই সুরক্ষিত থাকা যাবে। আর সুরক্ষিত থাকলেই স্কুল খোলা থাকবে। তাই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে, ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ সচেতনতামূলক এ ক্যাম্পেইন।

কতদিন চলবে

দেশজুড়ে স্কুলে স্কুলে চলছে ‘সেফ হ্যান্ডস’ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে ‘সেফ হ্যান্ডস-সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে, যা এক মাস ধরে চলবে দেশের অন্যান্য স্কুলেও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু স্কুল হচ্ছে-তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয়, সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ইস্পাহানি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চিটাগং কলেজিয়েট স্কুল, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, নিউ মডেল বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, সাভার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, এম. ডব্লিউ উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

যেভাবে চলছে কার্যক্রম

দেশের স্কুলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে। স্কুলের দেওয়ালগুলো নানা রঙে রাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও দূরত্ব বজায় রাখার মতো স্বাস্থ্যবিধির বার্তা। ‘সুরক্ষিত স্কুলে স্বাগতম’ লেখা বর্ণিল গেটে শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছে ‘সেফ হ্যান্ডস’ ও করোনার মতো দেখতে মাপেটরা। স্কুলের মধ্যে ঢুকেই শিক্ষার্থীরা প্রথমে হাত ধুয়ে নিচ্ছে সেফ হ্যান্ডসের মোবাইল হ্যান্ডওয়াশ বুথে। তারপর ইনফরমেটিভ টানেল বা দেওয়াল পার হয়ে ক্লাসে প্রবেশ করছে। আবার প্রতিটি ক্লাসে গিয়ে একজন তাদের বলছে-কীভাবে সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে ও দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও কেন মানতে হবে এবং এতে কী লাভ হবে-এগুলোসহ পুরো বিষয়টি শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে, শিখিয়ে ও প্র্যাকটিস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘সেফ হ্যান্ডস’ ও করোনার মতো দেখতে মাপেটগুলো শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার পর দেখিয়ে দিচ্ছে-কীভাবে সঠিক উপায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অভিমত-এ ক্যাম্পেইন সুরক্ষিত থাকা ও স্কুল খোলা রাখার বিষয়টিকে দারুণভাবে আলোকপাত করেছে এবং এ বিষয়ে জনমত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা এ সময়ে আমাদের করণীয় বিষয়গুলো মধ্যে অন্যতম। কারণ, বাস্তব অবস্থার নিরিখে ‘সুরক্ষিত থাকব, স্কুল খোলা রাখব’ ক্যাম্পেইনটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। ফলে সঙ্গত কারণেই শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এটি দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। করোনার প্রকোপ কতদিন থাকবে, তা কেউ বলতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট ঝুঁকিবহুল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা যাতে নষ্ট না হয়, এদিকটায়ও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উন্নয়ন কর্মী, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন