মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণার ব্যাপারে সাবধান থাকুন
jugantor
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণার ব্যাপারে সাবধান থাকুন

  মো. ওসমান গনি  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশের স্কুল-কলেজের যেসব শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পান, তাদের OTP (One Time Password) ছলচাতুরির মাধ্যমে নেওয়ার পর বিকাশ প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া যারা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি ভাতা পান, তাদের কাছে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে পিন নম্বর ও ওটিপি নিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া যারা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করছেন বিভিন্ন ব্যাংকে, ওখানকার কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে ফরমগুলো প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে এবং তারা বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য প্রফেসর পরিচয় দিয়ে প্রথমে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের বাবার নাম, মায়ের নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ রোল, পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে নেয়। একইসঙ্গে বলা হয়, ইতঃপূর্বে ব্যাংকের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছে।

এরপর বিকাশ প্রতারক বলে, আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ যাবে; মেসেজটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বললে ৬৪ জেলায় একযোগে টাকা চলে যাবে। এর মাধ্যমে প্রতারকরা অন টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি-৬ সংখ্যার কোড) নিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা তুলে নিচ্ছে। সারা দেশেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে। এমন কী যাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকাও আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

বস্তুত প্রতারকরা সুমিষ্ট ও সুমধুর কণ্ঠ দিয়ে মানুষকে বশে আনছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনের আইটি জ্ঞান কম থাকায় তারা এসব প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছে এবং অর্থ হারাচ্ছে। কেনিয়া, ভারত, চীন, কোরিয়া ও নাইজেরিয়ার হ্যাকারদের সঙ্গে এদেশের ধূর্ত হ্যাকারদের যোগসাজশে এহেন নিকৃষ্ট অসৎ কর্ম সংঘটিত হচ্ছে এবং এরকম প্রতারণা অহরহ ঘটে চলেছে। এ ক্ষেত্রে বিকাশ, রকেট, উপায়, নগদ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি সিস্টেম স্ট্রং করতে হবে। উচ্চশিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান করতে হবে।

বিকাশের পিন নম্বর হ্যাক করার জন্য প্রতারকরা বিভিন্ন ট্রিকস ব্যবহার করে। যেমন-প্রথমে বলা হয়, ৭২২০০৩১ লিখুন। এরপর আপনার গোপন নম্বরটি লিখুন। এখন সব অঙ্ক বা সংখ্যা বলুন। সাধারণ শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি যখন সব সংখ্যা বলবেন, তা থেকে ৭২২০০৩১ বাদ দিলেই পিন নম্বর চলে যায় প্রতারকের কাছে।

দ্বিতীয় আরেকটি ট্রিকস হলো-প্রতারক বলে, আপনার মোবাইলে ক্যালকুলেটর বের করে বিভিন্ন মেয়াদে দেওয়া টাকার অঙ্ক যেমন ৩৪০০ + ৭২০০ বসান। এরপর আপনার গোপন নম্বর (পিন) দিন। এবার মোট কত হয়েছে বলুন। ভিক্টিম বা সাধারণ ব্যক্তি টোটাল কত হয়েছে বললে, তার থেকে ৩৪০০ এবং ৭২০০ টাকা বিয়োগ করলেই তার পিন নাম্বার প্রতারকের কাছে চলে যাবে।

তৃতীয়ত বলা হয়-আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১০২০০ বা ৭০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আপনার কাছে একটি মেসেজ যাবে। সেটি ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে বললে (অন টাইম পাসওয়ার্ড-ওটিপি) আপনার টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। অথচ এতে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থী বা ভিক্টিমের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবে।

এসব ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তিদের ফোনকল রিসিভ না করাই উত্তম। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এ সচেতনতা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বা খেটে খাওয়া গরিব অসহায় মানুষের টাকা প্রতারক চক্র আত্মসাৎ করতে না পারে। পাশাপাশি প্রতারক চক্রের ডেরা সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিক তৎপর হতে হবে; প্রতারকদের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণার ব্যাপারে সাবধান থাকুন

 মো. ওসমান গনি 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা দেশের স্কুল-কলেজের যেসব শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পান, তাদের OTP (One Time Password) ছলচাতুরির মাধ্যমে নেওয়ার পর বিকাশ প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তাদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া যারা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি ভাতা পান, তাদের কাছে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে পিন নম্বর ও ওটিপি নিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া যারা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করছেন বিভিন্ন ব্যাংকে, ওখানকার কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মাধ্যমে ফরমগুলো প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে এবং তারা বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য প্রফেসর পরিচয় দিয়ে প্রথমে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের বাবার নাম, মায়ের নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ রোল, পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে নেয়। একইসঙ্গে বলা হয়, ইতঃপূর্বে ব্যাংকের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছে।

এরপর বিকাশ প্রতারক বলে, আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ যাবে; মেসেজটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বললে ৬৪ জেলায় একযোগে টাকা চলে যাবে। এর মাধ্যমে প্রতারকরা অন টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি-৬ সংখ্যার কোড) নিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা তুলে নিচ্ছে। সারা দেশেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে। এমন কী যাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট আছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকাও আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

বস্তুত প্রতারকরা সুমিষ্ট ও সুমধুর কণ্ঠ দিয়ে মানুষকে বশে আনছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনের আইটি জ্ঞান কম থাকায় তারা এসব প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছে এবং অর্থ হারাচ্ছে। কেনিয়া, ভারত, চীন, কোরিয়া ও নাইজেরিয়ার হ্যাকারদের সঙ্গে এদেশের ধূর্ত হ্যাকারদের যোগসাজশে এহেন নিকৃষ্ট অসৎ কর্ম সংঘটিত হচ্ছে এবং এরকম প্রতারণা অহরহ ঘটে চলেছে। এ ক্ষেত্রে বিকাশ, রকেট, উপায়, নগদ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি সিস্টেম স্ট্রং করতে হবে। উচ্চশিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান করতে হবে।

বিকাশের পিন নম্বর হ্যাক করার জন্য প্রতারকরা বিভিন্ন ট্রিকস ব্যবহার করে। যেমন-প্রথমে বলা হয়, ৭২২০০৩১ লিখুন। এরপর আপনার গোপন নম্বরটি লিখুন। এখন সব অঙ্ক বা সংখ্যা বলুন। সাধারণ শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি যখন সব সংখ্যা বলবেন, তা থেকে ৭২২০০৩১ বাদ দিলেই পিন নম্বর চলে যায় প্রতারকের কাছে।

দ্বিতীয় আরেকটি ট্রিকস হলো-প্রতারক বলে, আপনার মোবাইলে ক্যালকুলেটর বের করে বিভিন্ন মেয়াদে দেওয়া টাকার অঙ্ক যেমন ৩৪০০ + ৭২০০ বসান। এরপর আপনার গোপন নম্বর (পিন) দিন। এবার মোট কত হয়েছে বলুন। ভিক্টিম বা সাধারণ ব্যক্তি টোটাল কত হয়েছে বললে, তার থেকে ৩৪০০ এবং ৭২০০ টাকা বিয়োগ করলেই তার পিন নাম্বার প্রতারকের কাছে চলে যাবে।

তৃতীয়ত বলা হয়-আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে ১০২০০ বা ৭০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আপনার কাছে একটি মেসেজ যাবে। সেটি ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে বললে (অন টাইম পাসওয়ার্ড-ওটিপি) আপনার টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। অথচ এতে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থী বা ভিক্টিমের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবে।

এসব ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তিদের ফোনকল রিসিভ না করাই উত্তম। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং এ সচেতনতা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বা খেটে খাওয়া গরিব অসহায় মানুষের টাকা প্রতারক চক্র আত্মসাৎ করতে না পারে। পাশাপাশি প্রতারক চক্রের ডেরা সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিক তৎপর হতে হবে; প্রতারকদের কবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন