দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই
jugantor
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

  কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম  

১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে গিয়ে দেখলাম, অনেক দ্রব্যের দাম দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বস্তুত বাজারে চাল, ভোজ্যতেল, ডাল, ডিম, চিনি, গুঁড়াদুধসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। সবজি ও মাছ-মাংসের দামও বৃদ্ধির দিকে।

মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে এলপিজি (রান্নার) গ্যাসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। বর্তমানে নতুন করে পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রব্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন এবং এজন্য তারা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর বাজার তদারকির কথা বলছেন।

নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে না থাকলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। মজুতদার ও লোভী ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো অবস্থা হলেও খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অল্প বেতনের সৎ সরকারি-বেসরকারি কর্মকতা-কর্মচারী, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী। যেসব চাকরিজীবী সৎভাবে জীবন কাটান, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। প্রবীণ জনগোষ্ঠীসহ নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। দেশে একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে, সাধারণত তা আর কমে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করলেও কিছুতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। দ্রব্যমূল্য দেখভাল করতে ‘কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ক্যাব) নামে একটি সংস্থা রয়েছে। তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইচ্ছে করলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাড়াতে পারেন নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি। একইসঙ্গে বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নড়বড়ে হলে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন হবেই। বাজারে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়। এসব অনিয়ম কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে রোধ করতে হবে। সরকারিভাবে ওএমএসের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হলেও দেখা যায়, এ উদ্যোগ বাজার ব্যবস্থার কাছে হার মানে। মূলত অপর্যাপ্ত ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে এর সুফল পাওয়া যায় না। ফলে সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হয় না। এজন্য বিতরণ ব্যবস্থায় মনিটরিং ও এর পরিসর বাড়ানো দরকার। তবেই এর সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাজার, শপিংমলসহ নিত্যপণ্য বিক্রির জায়গাগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষক

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

 কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম 
১৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে গিয়ে দেখলাম, অনেক দ্রব্যের দাম দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বস্তুত বাজারে চাল, ভোজ্যতেল, ডাল, ডিম, চিনি, গুঁড়াদুধসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। সবজি ও মাছ-মাংসের দামও বৃদ্ধির দিকে।

মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে এলপিজি (রান্নার) গ্যাসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। বর্তমানে নতুন করে পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রব্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন এবং এজন্য তারা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর বাজার তদারকির কথা বলছেন।

নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে না থাকলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। মজুতদার ও লোভী ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো অবস্থা হলেও খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অল্প বেতনের সৎ সরকারি-বেসরকারি কর্মকতা-কর্মচারী, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী। যেসব চাকরিজীবী সৎভাবে জীবন কাটান, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। প্রবীণ জনগোষ্ঠীসহ নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। দেশে একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে, সাধারণত তা আর কমে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করলেও কিছুতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। দ্রব্যমূল্য দেখভাল করতে ‘কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ক্যাব) নামে একটি সংস্থা রয়েছে। তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইচ্ছে করলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাড়াতে পারেন নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি। একইসঙ্গে বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নড়বড়ে হলে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন হবেই। বাজারে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়। এসব অনিয়ম কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে রোধ করতে হবে। সরকারিভাবে ওএমএসের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হলেও দেখা যায়, এ উদ্যোগ বাজার ব্যবস্থার কাছে হার মানে। মূলত অপর্যাপ্ত ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে এর সুফল পাওয়া যায় না। ফলে সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হয় না। এজন্য বিতরণ ব্যবস্থায় মনিটরিং ও এর পরিসর বাড়ানো দরকার। তবেই এর সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বাজার, শপিংমলসহ নিত্যপণ্য বিক্রির জায়গাগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন