শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অবশ্যই সুশৃঙ্খল হতে হবে
jugantor
শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অবশ্যই সুশৃঙ্খল হতে হবে

  কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দ্বারা অশ্লীল ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বেগজনক হলো, এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে এ নিয়ে নানা খবর ও ছবি প্রকাশ পেয়েছে। কয়েকটি টিভি চ্যানেলেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা যখন স্কুল-কলেজের শিক্ষা শেষ করে সমাপনী তথা বিদায় অনুষ্ঠান করতাম, তখন সব শিক্ষার্থীর চোখেমুখে বিষাদ আর মনোকষ্ট লক্ষ্য করা যেত। অশ্রুসজল নয়নে বিদায়ের দিনটি পার করতাম। স্কুল ও কলেজ জীবনের দিনগুলো নিয়ে অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতাম। আজ আর সেই দিন নেই। এখন অশ্রুঝরা দূরে থাক, নানা ধরনের অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনটি উদযাপন হচ্ছে। সাদা টি-শার্টে আজেবাজে কমেন্ট লিখে তা প্রদর্শনের মতো দৃষ্টিকটু ছবিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষা সমাপনীতে র‌্যাগ-ডে নিয়ে যা হয়, তা রীতিমতো ভয়ংকর ও অশ্লীলতার চরম পর্যায়ের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন সময় এ র‌্যাগ-ডে’র কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে র‌্যাগিং-এর শিকার হয়ে বহু ছাত্রছাত্রী নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাঝে মাঝে র‌্যাগ-ডে’তে সংঘটিত নানা অনৈতিক কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করে দৈনিকগুলোও। এসব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।

সবকিছু দড়িছেঁড়া উন্মত্ত পশুর মতো ছেড়ে দিলে হবে না। সমাজ ধ্বংস হওয়ার আগেই এসবের লাগাম টানতে হবে। প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষা সমাপনী/বিদায় অনুষ্ঠানে বাড়তে থাকা উচ্ছৃঙ্খলতা থামাতে হবে। কারণ, আমাদের প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে গেলে এর দায় কেউ এড়াতে পারবে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে যেভাবেই হোক, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটাতে হবে। পরিবারের মা-বাবাসহ অভিভাবক যারা রয়েছেন, সন্তানদের ব্যাপারে তাদের সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী করে-এসবের তদারকি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা এবং তাদের জীবন গঠনের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় আনতে হবে মৌলিক ও গঠনমূলক পরিবর্তন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসময় কত অনুষ্ঠান হতো। এখনো হয়; কিন্তু তখনকার আর এখনকার অনুষ্ঠানের তফাৎ আকাশ-পাতাল। কেন এমন হবে? যুগ বদলাচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে অনেক কিছুরই। আমাদের আচার-আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমাদের এই পরিবর্তন অনৈতিকতা বা উচ্ছৃঙ্খলতার দিকে ধাবিত হবে কেন? কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেবল সরকার নয়, এসব অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা রোধে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা চাইলে নিজেদের উদ্যোগে এসব নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। মোট কথা পরিবার, সমাজ, সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকসহ সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষা সমাপনী তথা বিদায় অনুষ্ঠান হওয়া উচিত প্রকৃতই নিটোল আনন্দঘন পরিবেশে। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে সুপথে থাকে, সে অনুযায়ী নিতে হবে পদক্ষেপ।

শিক্ষক

khaledniæ[email protected]

শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অবশ্যই সুশৃঙ্খল হতে হবে

 কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান
ফাইল ফটো

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দ্বারা অশ্লীল ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বেগজনক হলো, এটি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে এ নিয়ে নানা খবর ও ছবি প্রকাশ পেয়েছে। কয়েকটি টিভি চ্যানেলেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা যখন স্কুল-কলেজের শিক্ষা শেষ করে সমাপনী তথা বিদায় অনুষ্ঠান করতাম, তখন সব শিক্ষার্থীর চোখেমুখে বিষাদ আর মনোকষ্ট লক্ষ্য করা যেত। অশ্রুসজল নয়নে বিদায়ের দিনটি পার করতাম। স্কুল ও কলেজ জীবনের দিনগুলো নিয়ে অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতাম। আজ আর সেই দিন নেই। এখন অশ্রুঝরা দূরে থাক, নানা ধরনের অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনটি উদযাপন হচ্ছে। সাদা টি-শার্টে আজেবাজে কমেন্ট লিখে তা প্রদর্শনের মতো দৃষ্টিকটু ছবিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষা সমাপনীতে র‌্যাগ-ডে নিয়ে যা হয়, তা রীতিমতো ভয়ংকর ও অশ্লীলতার চরম পর্যায়ের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন সময় এ র‌্যাগ-ডে’র কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে র‌্যাগিং-এর শিকার হয়ে বহু ছাত্রছাত্রী নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাঝে মাঝে র‌্যাগ-ডে’তে সংঘটিত নানা অনৈতিক কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করে দৈনিকগুলোও। এসব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।

সবকিছু দড়িছেঁড়া উন্মত্ত পশুর মতো ছেড়ে দিলে হবে না। সমাজ ধ্বংস হওয়ার আগেই এসবের লাগাম টানতে হবে। প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষা সমাপনী/বিদায় অনুষ্ঠানে বাড়তে থাকা উচ্ছৃঙ্খলতা থামাতে হবে। কারণ, আমাদের প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে গেলে এর দায় কেউ এড়াতে পারবে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে যেভাবেই হোক, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটাতে হবে। পরিবারের মা-বাবাসহ অভিভাবক যারা রয়েছেন, সন্তানদের ব্যাপারে তাদের সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী করে-এসবের তদারকি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা এবং তাদের জীবন গঠনের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় আনতে হবে মৌলিক ও গঠনমূলক পরিবর্তন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসময় কত অনুষ্ঠান হতো। এখনো হয়; কিন্তু তখনকার আর এখনকার অনুষ্ঠানের তফাৎ আকাশ-পাতাল। কেন এমন হবে? যুগ বদলাচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে অনেক কিছুরই। আমাদের আচার-আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমাদের এই পরিবর্তন অনৈতিকতা বা উচ্ছৃঙ্খলতার দিকে ধাবিত হবে কেন? কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেবল সরকার নয়, এসব অশ্লীলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা রোধে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা চাইলে নিজেদের উদ্যোগে এসব নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। মোট কথা পরিবার, সমাজ, সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকসহ সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে। শিক্ষা সমাপনী তথা বিদায় অনুষ্ঠান হওয়া উচিত প্রকৃতই নিটোল আনন্দঘন পরিবেশে। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে সুপথে থাকে, সে অনুযায়ী নিতে হবে পদক্ষেপ।

শিক্ষক

khaledniæ[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন