চা থেকে স্বাধীনতা
jugantor
চা থেকে স্বাধীনতা

  অপূর্ব চৌধুরী  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

Tea বা চা । চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis। চা পাতা যে গাছ থেকে হয়, তার উৎপত্তি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের উত্তরে। সঙ্গে চীনের দক্ষিণে কিছু অঞ্চলে। এখন পৃথিবীর সবখানেই চা পাওয়া যায়, তবে সবখানে চায়ের গাছ পাওয়া যায় না। চা একটি পাতা থেকে তৈরি পানীয়। চা গাছের উৎপত্তি কখন তা না জানলেও পাতা দিয়ে চা বানানোর উৎপত্তি পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে দক্ষিণ চীনে তার শুরু।

চাইনিজ ভাষায় শুরুতে চা’কে বলা হতো tu; এর অর্থ তেতো। সেটাই উচ্চারণের বিভ্রাটে te হয়ে গেল। শুরুতে ছিল এক ধরনের ওষুধ পানীয়। খ্রিষ্ট-পরবর্তী কয়েকশ বছরে এটি পার্শ্ববর্তী জাপান এবং কোরিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। ওষুধ পানীয় থেকে তার নাম হয়ে যায় think drink বা চিন্তার পানীয়। এই te শব্দটি আরও কয়েকশ বছর পর পার্সিয়ান ভাষায় পরিবর্তন হয়ে গেল পযধ। পৃথিবী জুড়ে tea, Cha অথবা Chai, তিনটি শব্দ বর্তমানে প্রচলিত। ডাচরা সতের শতাব্দীতে চায়না থেকে ইউরোপে চায়ের প্রচলন শুরু করে। উনিশ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের সঙ্গে ভারতবর্ষকে পরিচিত করে। এখন সর্বত্র চা।

চাইনিজ পৌরাণিক কাহিনিতে Shennong নামের একজন স্বর্গীয় কৃষক চাইনিজদের প্রথম চা খেতে শেখান বলে গল্প চালু আছে। চা নিয়ে চীন, কোরিয়া, জাপানে অসংখ্য কাব্য আছে, সাহিত্য রচনা হয়েছে। চা নিয়ে ট্যাঙ ডাইনেস্টির লু হু’র বিখ্যাত একটি বইও আছে সপ্তম শতাব্দীতে লেখা। খ্রিষ্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে কনফুসিয়াসের দ্বারা সংকলিত এবং সংগৃহীত কাব্যগ্রন্থ Shijing-এ চা নিয়ে অনেক কাব্য পাওয়া যায়।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে সতের শতাব্দীতে জাপানের হিরাডো থেকে ইউরোপে প্রথম চা আমদানি করলেও ষোল শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইতালিয়ান পর্যটকের ovanni Battista তার একটি লেখাতে প্রথম চায়ের কথা উল্লেখ করেন। ১৫৪৫ সালে ভেনিস থেকে প্রকাশিত Navigations and Travels-এ তিনি তা উল্লেখ করেছিলেন। তার একশ বছর পর ব্রিটিশ লেখক Richard Wickham প্রথম ইংরেজি ভাষায় ১৬৩৭ সালে চায়ের সঙ্গে ইংরেজদের পরিচয় করিয়ে দেন। লন্ডনে চায়ের স্টল প্রথম খোলা শুরু হয় ১৬৫০ সালের পর।

এ সময় ব্রিটিশ জনপ্রিয় লেখক Samuel Pepys চা’কে লন্ডনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়ে পরিণত করেন। সতের শতকের শেষের দিকে লন্ডন হয়ে ওঠে চায়ের দোকানের শহর। চায়ের দোকান হয়ে ওঠে এ সময়ে তাদের সবচেয়ে বড় আড্ডাখানা। ধীরে ধীরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আঠার শতকে শুরু করে চায়ের ব্যবসা। আমরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বলতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বুঝি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল। ষোল শতকের শেষের দিকে এটি তৈরি হয়ে পরবর্তী সতের শতকের একশ বছর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চেয়েও আরও বড় কোম্পানি ছিল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তাদের মূল ব্যবসা ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে পুরোটাই। আঠারো শতকে তাদের পতন শুরু হলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উঠে দাঁড়ায়। ইউরোপে এরকম আরও পাঁচটি দেশের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল।

চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম কিংবা মালাক্কা অঞ্চলে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরেই চা পান করা হতো রং চা হিসাবে। তারও আগে চা বেশি খাওয়া হতো গ্রিন টি আকারে। রং চা এবং গ্রিন টি দুটোই হাজার বছর ধরে জনপ্রিয় ছিল। এমন কী ষোল শতকে ইউরোপ চা চালু হলেও অনেকদিন পর্যন্ত ইউরোপিয়ানরা রং চা খেত। ইংরেজরা মিষ্টিখেকো প্রাণী। চিনির ব্যবসাও তখন তারা ধরেছিল। শুধু রং চা তাদের তেতো লাগতো। আঠারো শতাব্দীর শুরুতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা লন্ডনের টি স্টলগুলো রং চায়ে চিনি এবং দুধ গুলিয়ে দিত। সেই থেকে শুরু হয়ে গেল দুধ চায়ের প্রচলন। এ সময়ে চাইনিজ চায়ের ব্যবসায় ধস নামাতে ব্রিটিশরা চাইনিজদের আফিম দিয়ে তার বিনিময়ে সস্তায় চা কিনে নিত। তারপর সেই চা সারা পৃথিবীতে বিক্রি করত।

এক সময় চাইনিজ রাজা আফিমের বিনিময়ে চা কেনার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেন। ব্রিটিশরা চাইনিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। ইতিহাসে চায়ের এ যুদ্ধ ওপিয়াম ওয়ার নামে পরিচিত। যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা একচেটিয়া বিশ্ব চায়ের বাজার দখল করল। সঙ্গে সারা বিশ্বে তাদের কলোনিগুলোতে চায়ের চাষ শুরু করল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৪০-এর দিকে ভারতে চা ব্যবসা শুরু করে। ১৮৫৬তে দার্জিলিংয়ে তারা প্রথম চা বাগান তৈরি করে। এ দার্জিলিং টি এখন পৃথিবীর সেরা চা। চায়ের সঙ্গে বিস্কুট ব্রিটিশদের একটি জনপ্রিয় খাদ্যাভ্যাস। চায়ে বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়াকে ইংরেজিতে বলে Dunking। এ অভ্যাস প্রথম শুরু হয় প্রথম মহাযুদ্ধের পর। ব্রিটিশ সৈনিকদের সকাল এবং দুপুরের খাবারের মাঝে চা এবং বিস্কুট ছিল খাবার। যুদ্ধের ময়দান, ট্রেন্স, তাঁবুতে বসে সহজে এ খাবার খেতে পারত তারা।

যুদ্ধ শেষে ফিরে আসা সৈনিকরা ঘরেও এই অভ্যাসে চা খেতে লাগলে ধীরে ধীরে ব্রিটিশ সোসাইটিতে চা’য়ে বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়া কিংবা আফটারনুন টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রানী এলিজাবেথের খুব প্রিয় একটি কাজ dunking। ভারতবাসীকে ব্রিটিশরা উনিশ শতকে প্রথম সরাসরি এই দুধ চা খাওয়া শেখাল। এমন কী উপমহাদেশের মানুষকে চায়ের নেশা ধরাতে তারা সরকারি কাজে টি ব্রেক পর্ব চালু করল। তাতে কোম্পানির চা ব্যবসা আরও বেড়ে গেল। কম দামে চা কিনে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভারতবাসীকে দুধ-চিনির নেশায় আসক্ত করে তুলল। অথচ চায়ের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় দুধ-চিনি ছাড়া; শুধু রং চা কিংবা গ্রিন টি’র মাধ্যমে।

ভারতের আগে আঠারো শতকে ব্রিটিশরা আমেরিকা দখল করেছিল। একইভাবে আমেরিকানদেরও জোর করে চা গেলাতে চেষ্টা করল তারা। ব্রিটিশরা তখন অন্য অনেক পণ্যের ওপর ট্যাক্স ধার্য করলেও চায়ের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে দিয়ে আমেরিকায় অবাধে চায়ের ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিখ্যাত একটি আইন পাশ হয়-টি ট্যাক্স অ্যাক্ট ১৭৭৩। আমেরিকানরা রাগে ফুঁসে উঠে। এ চায়ের আইন থেকেই আমেরিকায় স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু। ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে আমেরিকানরা স্বাধীনতা লাভ করে। অবশেষে চা থেকেই আসে স্বাধীনতা।

কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান লেখক; লন্ডন, ইংল্যান্ড

opurbo.chowdhury@gmail.com

চা থেকে স্বাধীনতা

 অপূর্ব চৌধুরী 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

Tea বা চা । চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis। চা পাতা যে গাছ থেকে হয়, তার উৎপত্তি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের উত্তরে। সঙ্গে চীনের দক্ষিণে কিছু অঞ্চলে। এখন পৃথিবীর সবখানেই চা পাওয়া যায়, তবে সবখানে চায়ের গাছ পাওয়া যায় না। চা একটি পাতা থেকে তৈরি পানীয়। চা গাছের উৎপত্তি কখন তা না জানলেও পাতা দিয়ে চা বানানোর উৎপত্তি পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে দক্ষিণ চীনে তার শুরু।

চাইনিজ ভাষায় শুরুতে চা’কে বলা হতো tu; এর অর্থ তেতো। সেটাই উচ্চারণের বিভ্রাটে te হয়ে গেল। শুরুতে ছিল এক ধরনের ওষুধ পানীয়। খ্রিষ্ট-পরবর্তী কয়েকশ বছরে এটি পার্শ্ববর্তী জাপান এবং কোরিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। ওষুধ পানীয় থেকে তার নাম হয়ে যায় think drink বা চিন্তার পানীয়। এই te শব্দটি আরও কয়েকশ বছর পর পার্সিয়ান ভাষায় পরিবর্তন হয়ে গেল পযধ। পৃথিবী জুড়ে tea, Cha অথবা Chai, তিনটি শব্দ বর্তমানে প্রচলিত। ডাচরা সতের শতাব্দীতে চায়না থেকে ইউরোপে চায়ের প্রচলন শুরু করে। উনিশ শতকে ব্রিটিশরা চায়ের সঙ্গে ভারতবর্ষকে পরিচিত করে। এখন সর্বত্র চা।

চাইনিজ পৌরাণিক কাহিনিতে Shennong নামের একজন স্বর্গীয় কৃষক চাইনিজদের প্রথম চা খেতে শেখান বলে গল্প চালু আছে। চা নিয়ে চীন, কোরিয়া, জাপানে অসংখ্য কাব্য আছে, সাহিত্য রচনা হয়েছে। চা নিয়ে ট্যাঙ ডাইনেস্টির লু হু’র বিখ্যাত একটি বইও আছে সপ্তম শতাব্দীতে লেখা। খ্রিষ্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে কনফুসিয়াসের দ্বারা সংকলিত এবং সংগৃহীত কাব্যগ্রন্থ Shijing-এ চা নিয়ে অনেক কাব্য পাওয়া যায়।

ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে সতের শতাব্দীতে জাপানের হিরাডো থেকে ইউরোপে প্রথম চা আমদানি করলেও ষোল শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইতালিয়ান পর্যটকের ovanni Battista তার একটি লেখাতে প্রথম চায়ের কথা উল্লেখ করেন। ১৫৪৫ সালে ভেনিস থেকে প্রকাশিত Navigations and Travels-এ তিনি তা উল্লেখ করেছিলেন। তার একশ বছর পর ব্রিটিশ লেখক Richard Wickham প্রথম ইংরেজি ভাষায় ১৬৩৭ সালে চায়ের সঙ্গে ইংরেজদের পরিচয় করিয়ে দেন। লন্ডনে চায়ের স্টল প্রথম খোলা শুরু হয় ১৬৫০ সালের পর।

এ সময় ব্রিটিশ জনপ্রিয় লেখক Samuel Pepys চা’কে লন্ডনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়ে পরিণত করেন। সতের শতকের শেষের দিকে লন্ডন হয়ে ওঠে চায়ের দোকানের শহর। চায়ের দোকান হয়ে ওঠে এ সময়ে তাদের সবচেয়ে বড় আড্ডাখানা। ধীরে ধীরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আঠার শতকে শুরু করে চায়ের ব্যবসা। আমরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বলতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বুঝি। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল। ষোল শতকের শেষের দিকে এটি তৈরি হয়ে পরবর্তী সতের শতকের একশ বছর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চেয়েও আরও বড় কোম্পানি ছিল ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তাদের মূল ব্যবসা ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে পুরোটাই। আঠারো শতকে তাদের পতন শুরু হলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উঠে দাঁড়ায়। ইউরোপে এরকম আরও পাঁচটি দেশের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল।

চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম কিংবা মালাক্কা অঞ্চলে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরেই চা পান করা হতো রং চা হিসাবে। তারও আগে চা বেশি খাওয়া হতো গ্রিন টি আকারে। রং চা এবং গ্রিন টি দুটোই হাজার বছর ধরে জনপ্রিয় ছিল। এমন কী ষোল শতকে ইউরোপ চা চালু হলেও অনেকদিন পর্যন্ত ইউরোপিয়ানরা রং চা খেত। ইংরেজরা মিষ্টিখেকো প্রাণী। চিনির ব্যবসাও তখন তারা ধরেছিল। শুধু রং চা তাদের তেতো লাগতো। আঠারো শতাব্দীর শুরুতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা লন্ডনের টি স্টলগুলো রং চায়ে চিনি এবং দুধ গুলিয়ে দিত। সেই থেকে শুরু হয়ে গেল দুধ চায়ের প্রচলন। এ সময়ে চাইনিজ চায়ের ব্যবসায় ধস নামাতে ব্রিটিশরা চাইনিজদের আফিম দিয়ে তার বিনিময়ে সস্তায় চা কিনে নিত। তারপর সেই চা সারা পৃথিবীতে বিক্রি করত।

এক সময় চাইনিজ রাজা আফিমের বিনিময়ে চা কেনার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করলেন। ব্রিটিশরা চাইনিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। ইতিহাসে চায়ের এ যুদ্ধ ওপিয়াম ওয়ার নামে পরিচিত। যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা একচেটিয়া বিশ্ব চায়ের বাজার দখল করল। সঙ্গে সারা বিশ্বে তাদের কলোনিগুলোতে চায়ের চাষ শুরু করল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৪০-এর দিকে ভারতে চা ব্যবসা শুরু করে। ১৮৫৬তে দার্জিলিংয়ে তারা প্রথম চা বাগান তৈরি করে। এ দার্জিলিং টি এখন পৃথিবীর সেরা চা। চায়ের সঙ্গে বিস্কুট ব্রিটিশদের একটি জনপ্রিয় খাদ্যাভ্যাস। চায়ে বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়াকে ইংরেজিতে বলে Dunking। এ অভ্যাস প্রথম শুরু হয় প্রথম মহাযুদ্ধের পর। ব্রিটিশ সৈনিকদের সকাল এবং দুপুরের খাবারের মাঝে চা এবং বিস্কুট ছিল খাবার। যুদ্ধের ময়দান, ট্রেন্স, তাঁবুতে বসে সহজে এ খাবার খেতে পারত তারা।

যুদ্ধ শেষে ফিরে আসা সৈনিকরা ঘরেও এই অভ্যাসে চা খেতে লাগলে ধীরে ধীরে ব্রিটিশ সোসাইটিতে চা’য়ে বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়া কিংবা আফটারনুন টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রানী এলিজাবেথের খুব প্রিয় একটি কাজ dunking। ভারতবাসীকে ব্রিটিশরা উনিশ শতকে প্রথম সরাসরি এই দুধ চা খাওয়া শেখাল। এমন কী উপমহাদেশের মানুষকে চায়ের নেশা ধরাতে তারা সরকারি কাজে টি ব্রেক পর্ব চালু করল। তাতে কোম্পানির চা ব্যবসা আরও বেড়ে গেল। কম দামে চা কিনে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভারতবাসীকে দুধ-চিনির নেশায় আসক্ত করে তুলল। অথচ চায়ের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় দুধ-চিনি ছাড়া; শুধু রং চা কিংবা গ্রিন টি’র মাধ্যমে।

ভারতের আগে আঠারো শতকে ব্রিটিশরা আমেরিকা দখল করেছিল। একইভাবে আমেরিকানদেরও জোর করে চা গেলাতে চেষ্টা করল তারা। ব্রিটিশরা তখন অন্য অনেক পণ্যের ওপর ট্যাক্স ধার্য করলেও চায়ের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে দিয়ে আমেরিকায় অবাধে চায়ের ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিখ্যাত একটি আইন পাশ হয়-টি ট্যাক্স অ্যাক্ট ১৭৭৩। আমেরিকানরা রাগে ফুঁসে উঠে। এ চায়ের আইন থেকেই আমেরিকায় স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু। ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে আমেরিকানরা স্বাধীনতা লাভ করে। অবশেষে চা থেকেই আসে স্বাধীনতা।

কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান লেখক; লন্ডন, ইংল্যান্ড

opurbo.chowdhury@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন