ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য কি চলতেই থাকবে?

  সাধন সরকার ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরের জিনিস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার মতো কুকর্মের ঘটনা আর যাই হোক পেশা হতে পারে না। আর সেই কাজটাই করে যাচ্ছে পেশাদার ছিনতাইকারীরা। রাজধানীতে মূলত ভোরে, সকালে, সন্ধ্যায় ও রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। সূত্র মতে, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের মোট ১৪১টি স্পট আছে। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগে যে কোনো জায়গায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে।

উত্তর ঢাকার চেয়ে দক্ষিণ ঢাকায় ছিনতাইয়ের স্পট ও দৌরাত্ম্য দুটোই বেশি। ছিনতাই, রাহাজানির মতো ঘটনা উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটি ও ছোট শহরগুলোতেও ঘটে। কিন্তু ঢাকা শহরে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য যেমন বেশি, তেমনি প্রতিকারও মেলে কম। যথাযথ প্রতিকার মিললে ঢাকা শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকাংশে কমে যেত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। গত দুই মাসে ঢাকা শহরে ছিনতাইকারীদের হাতে ৩ জন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে টাকা-পয়সা তো যাচ্ছেই, ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণটাই ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে রাজধানীতে আসা-যাওয়া করা মানুষ প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে। প্রকৃতপক্ষে সব ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ পায় না। বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোনো মামলা হয় না। ভুক্তভোগীরা ভোগান্তির ভয়ে অনেক সময় পুলিশের কাছে যেতে চায় না। গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না।

আগে রাজধানীতে পকেটমারের দৌরাত্ম্য ছিল। পকেটমারা অনেকটা হ্রাস পেলেও এখন ছিনতাইয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে টানা পার্টি, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য। এরা ছো মেরে ল্যাপটপ, ব্যাগ, মোবাইল ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিতে সর্বদা তৎপর থাকে। রাজধানীতে চলন্ত মোটরসাইকেলও ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। জানা গেছে, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের কয়েকটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে প্রভাবশালী ও বড় হর্তাকর্তারা। সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করলে ছিনতাইয়ের ঘটনা অবশ্যই কমে আসবে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, ছিনতাইকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা আজকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে চলমান গাড়ি কিংবা ব্যক্তিকে থামিয়ে কৌশলে ছিনতাই করছে। এটি রোধ করতে হলে পুলিশকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যরে প্রয়োগ ঘটিয়ে ছিনতাইকারীদের কুকর্ম থামিয়ে দেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। দরকার শুধু সদিচ্ছা, আগ্রহ আর আন্তরিকতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা ধরা পড়লেও দুঃখজনক হল, কয়েকদিন পর তারা জামিনে বের হয়ে যায়। ছিনতাইকারী চক্রকে যেসব গডফাদার গোপনে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও দরকার। সক্রিয় ছিনতাইকারীদের নিষ্ক্রিয় করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।

শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter