সমন্বয়হীন কোনো সিদ্ধান্ত আর চাই না
jugantor
সমন্বয়হীন কোনো সিদ্ধান্ত আর চাই না

  কাজী সুলতানুল আরেফিন  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সমন্বয়হীন কোনো সিদ্ধান্ত আর চাই না

ওমিক্রন সংক্রমণ ও আতঙ্ক দুটোই ছড়াচ্ছে। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো রাখতে সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। হয়তো এই বিধিনিষেধ শেষে আগের মতো লকডাউন আসতে পারে। গত লকডাউনগুলো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে শ্রমিকদের একবার শহর থেকে গ্রামে বা গ্রাম থেকে শহরে আনা-নেওয়ার চিত্রগুলোই প্রমাণ করেছিল-তখনকার সিদ্ধান্তগুলো দেওয়ার সময় উপরের মহলে সমন্বয়ের অভাব ছিল। তবে অকপটে স্বীকার করা যায়, করোনা মোকাবিলায় সরকারের সফলতাই বেশি।

করোনাকালে গত লকডাউনে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে করে বর্ধিত রেটে বিল আদায় করার কথাও ভুলিনি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও চিন্তা করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। এ ছাড়াও কঠোর লকডাউনের কথা বলে পল্লীবিদ্যুৎ এর লাইন বিচ্ছিন্ন করার মাইকিং, ছাত্রছাত্রীদের জন্মসনদ অনলাইনে করানোর হিড়িক আর ইউনিক আইডি খোলার তাগিদ ইত্যাদি কারণে মানুষের বিভিন্ন স্থানে ভিড় করার চিত্র দেখা গেছে। প্রসঙ্গ যখন এসেছে, তখন মনে প্রশ্ন এলো, ‘আচ্ছা জন্মসনদ অনলাইনে করার দায়িত্ব কার?’ বালাম বা রেজিস্টার বইয়ে যেগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে, সেসব জন্মসনদ কেন জনতাকে বাড়তি খরচ করে দীর্ঘ লাইন ধরে অনলাইন করতে হবে!

গত বছর আরও একটি সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকে ভাবিয়েছে। কঠোর লকডাউন, বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না; কিন্তু বইমেলা চলবে! বইমেলা সামনে, তাই এ প্রসঙ্গ সামনে এলো। আমি আসলে সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিল। বিশেষ করে গণপরিবহণ আর বিপণিবিতানগুলো নিয়ে সব সিদ্ধান্ত এখনো সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত যেন দেওয়া না হয়।

ছোট দেশ অধিক জনসংখ্যা। সরকারের পক্ষে সব কিছু সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর। দেশের মানুষ আন্তরিক না থাকলে সরকারের নেওয়া ভালো সিদ্ধান্তও ভেস্তে যায়। দেশের মঙ্গলের জন্য আমাদেরও আন্তরিক হওয়া উচিত। আইন কেউ মানে আর কেউ মানতে চায় না, এমন চিত্র যেন সর্বত্র। পরিশেষে বলব, যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, তা যেন সমন্বয় করে তারপর জানানো হয়।

Arefin.feni99@gmail.com

সমন্বয়হীন কোনো সিদ্ধান্ত আর চাই না

 কাজী সুলতানুল আরেফিন 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সমন্বয়হীন কোনো সিদ্ধান্ত আর চাই না
প্রতীকী ছবি

ওমিক্রন সংক্রমণ ও আতঙ্ক দুটোই ছড়াচ্ছে। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো রাখতে সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। হয়তো এই বিধিনিষেধ শেষে আগের মতো লকডাউন আসতে পারে। গত লকডাউনগুলো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে শ্রমিকদের একবার শহর থেকে গ্রামে বা গ্রাম থেকে শহরে আনা-নেওয়ার চিত্রগুলোই প্রমাণ করেছিল-তখনকার সিদ্ধান্তগুলো দেওয়ার সময় উপরের মহলে সমন্বয়ের অভাব ছিল। তবে অকপটে স্বীকার করা যায়, করোনা মোকাবিলায় সরকারের সফলতাই বেশি।

করোনাকালে গত লকডাউনে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে করে বর্ধিত রেটে বিল আদায় করার কথাও ভুলিনি। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও চিন্তা করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। এ ছাড়াও কঠোর লকডাউনের কথা বলে পল্লীবিদ্যুৎ এর লাইন বিচ্ছিন্ন করার মাইকিং, ছাত্রছাত্রীদের জন্মসনদ অনলাইনে করানোর হিড়িক আর ইউনিক আইডি খোলার তাগিদ ইত্যাদি কারণে মানুষের বিভিন্ন স্থানে ভিড় করার চিত্র দেখা গেছে। প্রসঙ্গ যখন এসেছে, তখন মনে প্রশ্ন এলো, ‘আচ্ছা জন্মসনদ অনলাইনে করার দায়িত্ব কার?’ বালাম বা রেজিস্টার বইয়ে যেগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে, সেসব জন্মসনদ কেন জনতাকে বাড়তি খরচ করে দীর্ঘ লাইন ধরে অনলাইন করতে হবে!

গত বছর আরও একটি সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকে ভাবিয়েছে। কঠোর লকডাউন, বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না; কিন্তু বইমেলা চলবে! বইমেলা সামনে, তাই এ প্রসঙ্গ সামনে এলো। আমি আসলে সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিল। বিশেষ করে গণপরিবহণ আর বিপণিবিতানগুলো নিয়ে সব সিদ্ধান্ত এখনো সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত যেন দেওয়া না হয়।

ছোট দেশ অধিক জনসংখ্যা। সরকারের পক্ষে সব কিছু সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর। দেশের মানুষ আন্তরিক না থাকলে সরকারের নেওয়া ভালো সিদ্ধান্তও ভেস্তে যায়। দেশের মঙ্গলের জন্য আমাদেরও আন্তরিক হওয়া উচিত। আইন কেউ মানে আর কেউ মানতে চায় না, এমন চিত্র যেন সর্বত্র। পরিশেষে বলব, যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, তা যেন সমন্বয় করে তারপর জানানো হয়।

Arefin.feni99@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন