বিপ্লব না বিবর্তন
jugantor
বিপ্লব না বিবর্তন

  সাইফ শোভন  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসলে প্রতিটি রাষ্ট্রেই ভেতরে ভেতরে একটা বিবর্তন চলে। চলে বিপ্লবের ছায়াপাত। মানুষ কখনো তা দেখে, কখনো তা দেখে না। এই বিবর্তন মার্কিন মুল্লুকে যেমন হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে সৌদি আরবেও। বাংলাদেশে যেমন হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে আফ্রিকায়ও। মূল চেতনা একই। ধরন ভিন্ন।

মানুষের জীবন প্রতিদিনই বিশ্বায়ন চায়। চায় নান্দনিক পরিবর্তন। এটা সমাজ পরিবর্তনের জন্য দরকারিও বটে। আছে এর পাশাপাশি সমস্যাও। পাল্লা দিয়ে এর সঙ্গে বেড়ে যায় অপরাধও। মানুষ কিংবা সমাজের বিশ্বায়ন হলো একটি প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংস্থা বা এজেন্সি বিশ্বজুড়ে নিজেদের মধ্যে নানা প্রকার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে থাকে নানা ধরনের কারকের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

কারকগুলো নিজেদের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখন তা নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ রাখে না। বিশ্বায়নের সঙ্গে সমগ্র বিশ্বের নানাবিধ বিষয় যেমন-অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, রপ্তানি, শিল্পায়ন ইত্যাদি নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত-এটা আমরা জানি; কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মূলত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে জড়িত। বেশিরভাগ বিশ্লেষক বিশ্বায়ন ধারণাটিকে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মনে করে এর অনুপুঙ্খ আলোচনায় বসেন, যা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সাম্প্রতিককালে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনতা ও শিক্ষিত মহল বিশ্বায়নকে অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে দেখে থাকেন। বিশ্বায়নকে তাই উৎপাদন এবং মূলধনের আন্তঃরাষ্ট্রীয়করণ বলে গণ্য করার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই আন্তঃরাষ্ট্রীয়করণকে বৈধ করে তোলার ব্যবস্থা করে। তারা বদলে দিতে চাইছে একলা চলো নীতি। কানেকটিভিটি মানুষকে দেখাচ্ছে অন্য পৃথিবীর দরজা।

অন্য একটি সংজ্ঞায় বিশ্বায়নকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশ্বায়ন হলো বাজার-চালিত একটি প্রক্রিয়া, যা বহিষ্কারকে স্বাগত জানায় অথবা বাধা দেয়। কিন্তু পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বায়ন বলতে বোঝায় ক্রমবর্ধমান খোলামেলা পরিবেশ, উন্নত ধরনের পারস্পরিক জীবনের বিশ্বায়ন, মানুষের স্বপ্নের পৃথিবী নির্ভরশীলতা এবং সমন্বয়। বর্তমানে অনেকে বিশ্বায়ন বলতে অর্থনৈতিক লেনদেন এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা বৃদ্ধি বুঝিয়ে থাকেন। অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার আওতায় অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে তার আকার ও চরিত্র যে রূপ নেবে, বিশ্বায়নের গণ্ডির মধ্যে এলে এগুলো সম্যক বৃদ্ধি পাবে।

এবার আসি বিশ্বায়নের এ সময়ে মানুষের ভাগ্য বিষয়ে। নিউইয়র্কের পাতাল রেল দিয়ে চলাচলের সময় ট্রেনের কামরায় একটি উদার আহ্বান প্রায়ই চোখে পড়ে। নিউইয়র্ক মহানগরীর নাগরিকদের প্রতি একটি অনুরোধ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে-যাদের গৃহপালিত কুকুর আছে, তারা যেন কুকুরগুলো সিটির সুনির্দিষ্ট দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ফিও পরিশোধ করতে হয়। দিনে দিনে কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধনী ব্যক্তিরই পালিত কুকুরের উচ্চ অঙ্কের ইন্স্যুরেন্স করা থাকে। কয়েক বছর আগের ঘটনা।

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন এক ধনকুবের। সঙ্গে ছিল তার প্রিয় কুকুর। কুকুরটি মানসিকভাবে ছিল অসুস্থ। ফলে কুকুরটি কামড়ে দিয়েছিল একজন পথচারীকে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়ে গিয়েছিল ওই পথচারীর। তিনি শিগ্গির ফোন করেছিলেন পুলিশে। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল সব কটি পর্ব সেরে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওই পথচারী। ক্ষতিপূরণের মামলা করেছিলেন ওই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে দেড় মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন তিনি। না, দেড় মিলিয়ন ডলার ওই ধনকুবের নিজ পকেট থেকে পরিশোধ করেননি। পরিশোধ করেছিল কুকুরের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সংবাদটি ওই সময়ে নিউইয়র্কে সাড়া জাগিয়েছিল।

মার্কিনিরা কুকুরপ্রিয় জাতি হিসাবে বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছে বিশ্বব্যাপী। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরীতে কুকুর-বিড়ালের অভিজাত দোকানগুলো দেখলে চমকে উঠতে হয়। কুকুর-বিড়ালের খাবারের দোকান, পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল অত্যন্ত ব্যস্ততার সঙ্গে চলে যুক্তরাষ্ট্রে। অনেকের কাছে কুকুর-বিড়াল তাদের সন্তানতুল্য। অনেক মার্কিনি প্রকৃত পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্বের স্বাদ নিতে ভয় পান। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা দত্তক হিসাবে সন্তান গ্রহণ করে সে ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন। আর যারা তাও পারেন না, তারা প্রিয় কুকুর-বিড়ালটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দেন জীবনের বাকিটা সময়। অতিসম্প্রতি আবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কুকুর-বিড়াল।

জাতিসংঘের একটি সমীক্ষা জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা কুকুর-বিড়াল পোষার খাতে যে অর্থ ব্যয় করে, তার অর্ধেক দিয়ে বিশ্বের ছয় বিলিয়ন মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জল এবং স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ পরিচালিত এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ইউরোপিয়ানরা প্রতি বছর মদ্যপান বাবদ যে অর্থ ব্যয় করে, এর দশ ভাগের এক ভাগ দিয়ে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। অথবা ইউরোপিয়ানরা এক বছর আইসক্রিম খাওয়া থেকে বিরত থাকলে ওই অর্থ বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট হতে পারে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাবে প্রতি বছর ২২ লাখ মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়।

বিবর্তন মানুষকে এগিয়ে দেয়, তেমনি পিছিয়েও দেয়। না, আমি কুকুর প্রেমের বিরুদ্ধে বলছি না; কিন্তু বিশ্বে এখনো যে কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে আছে, সে কথা ভাববে কে? আর এ জন্যই সৌদি রাজতন্ত্রের ওপর মানুষ যেমনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে, তেমনি মার্কিনি গণতন্ত্রও বিতর্কিত হচ্ছে।

বিশ্বে পানি সংকট একটি বিরাট বিষয়। অনেক দেশেই মানুষ কোনো না কোনোভাবে দূষিত পানি ব্যবহার করে চলেছে। মানবাধিকার এবং গণহিতৈষীপূর্ণ যত বড় বড় বুলি আওড়ানোই হোক না কেন, বিশ্বের নিতান্ত গরিব মানুষগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতটা উদার? একুশ শতকে এসেও এর সঠিক জবাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। যায়নি কারণ, যুক্তরাষ্ট্র কিছু কিছু ব্যাপারে এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না।

সাংবাদিক ও কলাম লেখক, ঢাকা

বিপ্লব না বিবর্তন

 সাইফ শোভন 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আসলে প্রতিটি রাষ্ট্রেই ভেতরে ভেতরে একটা বিবর্তন চলে। চলে বিপ্লবের ছায়াপাত। মানুষ কখনো তা দেখে, কখনো তা দেখে না। এই বিবর্তন মার্কিন মুল্লুকে যেমন হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে সৌদি আরবেও। বাংলাদেশে যেমন হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে আফ্রিকায়ও। মূল চেতনা একই। ধরন ভিন্ন।

মানুষের জীবন প্রতিদিনই বিশ্বায়ন চায়। চায় নান্দনিক পরিবর্তন। এটা সমাজ পরিবর্তনের জন্য দরকারিও বটে। আছে এর পাশাপাশি সমস্যাও। পাল্লা দিয়ে এর সঙ্গে বেড়ে যায় অপরাধও। মানুষ কিংবা সমাজের বিশ্বায়ন হলো একটি প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংস্থা বা এজেন্সি বিশ্বজুড়ে নিজেদের মধ্যে নানা প্রকার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক স্থাপনের পেছনে থাকে নানা ধরনের কারকের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

কারকগুলো নিজেদের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখন তা নিজেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ রাখে না। বিশ্বায়নের সঙ্গে সমগ্র বিশ্বের নানাবিধ বিষয় যেমন-অর্থনীতি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, রপ্তানি, শিল্পায়ন ইত্যাদি নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত-এটা আমরা জানি; কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মূলত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে জড়িত। বেশিরভাগ বিশ্লেষক বিশ্বায়ন ধারণাটিকে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মনে করে এর অনুপুঙ্খ আলোচনায় বসেন, যা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সাম্প্রতিককালে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনতা ও শিক্ষিত মহল বিশ্বায়নকে অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে দেখে থাকেন। বিশ্বায়নকে তাই উৎপাদন এবং মূলধনের আন্তঃরাষ্ট্রীয়করণ বলে গণ্য করার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই আন্তঃরাষ্ট্রীয়করণকে বৈধ করে তোলার ব্যবস্থা করে। তারা বদলে দিতে চাইছে একলা চলো নীতি। কানেকটিভিটি মানুষকে দেখাচ্ছে অন্য পৃথিবীর দরজা।

অন্য একটি সংজ্ঞায় বিশ্বায়নকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশ্বায়ন হলো বাজার-চালিত একটি প্রক্রিয়া, যা বহিষ্কারকে স্বাগত জানায় অথবা বাধা দেয়। কিন্তু পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বায়ন বলতে বোঝায় ক্রমবর্ধমান খোলামেলা পরিবেশ, উন্নত ধরনের পারস্পরিক জীবনের বিশ্বায়ন, মানুষের স্বপ্নের পৃথিবী নির্ভরশীলতা এবং সমন্বয়। বর্তমানে অনেকে বিশ্বায়ন বলতে অর্থনৈতিক লেনদেন এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা বৃদ্ধি বুঝিয়ে থাকেন। অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার আওতায় অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে তার আকার ও চরিত্র যে রূপ নেবে, বিশ্বায়নের গণ্ডির মধ্যে এলে এগুলো সম্যক বৃদ্ধি পাবে।

এবার আসি বিশ্বায়নের এ সময়ে মানুষের ভাগ্য বিষয়ে। নিউইয়র্কের পাতাল রেল দিয়ে চলাচলের সময় ট্রেনের কামরায় একটি উদার আহ্বান প্রায়ই চোখে পড়ে। নিউইয়র্ক মহানগরীর নাগরিকদের প্রতি একটি অনুরোধ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে-যাদের গৃহপালিত কুকুর আছে, তারা যেন কুকুরগুলো সিটির সুনির্দিষ্ট দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেন। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ফিও পরিশোধ করতে হয়। দিনে দিনে কুকুরের রেজিস্ট্রেশন বিষয়টির গুরুত্ব বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধনী ব্যক্তিরই পালিত কুকুরের উচ্চ অঙ্কের ইন্স্যুরেন্স করা থাকে। কয়েক বছর আগের ঘটনা।

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন এক ধনকুবের। সঙ্গে ছিল তার প্রিয় কুকুর। কুকুরটি মানসিকভাবে ছিল অসুস্থ। ফলে কুকুরটি কামড়ে দিয়েছিল একজন পথচারীকে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়ে গিয়েছিল ওই পথচারীর। তিনি শিগ্গির ফোন করেছিলেন পুলিশে। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল সব কটি পর্ব সেরে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওই পথচারী। ক্ষতিপূরণের মামলা করেছিলেন ওই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে দেড় মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন তিনি। না, দেড় মিলিয়ন ডলার ওই ধনকুবের নিজ পকেট থেকে পরিশোধ করেননি। পরিশোধ করেছিল কুকুরের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সংবাদটি ওই সময়ে নিউইয়র্কে সাড়া জাগিয়েছিল।

মার্কিনিরা কুকুরপ্রিয় জাতি হিসাবে বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেছে বিশ্বব্যাপী। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরীতে কুকুর-বিড়ালের অভিজাত দোকানগুলো দেখলে চমকে উঠতে হয়। কুকুর-বিড়ালের খাবারের দোকান, পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল অত্যন্ত ব্যস্ততার সঙ্গে চলে যুক্তরাষ্ট্রে। অনেকের কাছে কুকুর-বিড়াল তাদের সন্তানতুল্য। অনেক মার্কিনি প্রকৃত পিতৃত্ব কিংবা মাতৃত্বের স্বাদ নিতে ভয় পান। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা দত্তক হিসাবে সন্তান গ্রহণ করে সে ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন। আর যারা তাও পারেন না, তারা প্রিয় কুকুর-বিড়ালটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে কাটিয়ে দেন জীবনের বাকিটা সময়। অতিসম্প্রতি আবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কুকুর-বিড়াল।

জাতিসংঘের একটি সমীক্ষা জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানরা কুকুর-বিড়াল পোষার খাতে যে অর্থ ব্যয় করে, তার অর্ধেক দিয়ে বিশ্বের ছয় বিলিয়ন মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জল এবং স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ পরিচালিত এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ইউরোপিয়ানরা প্রতি বছর মদ্যপান বাবদ যে অর্থ ব্যয় করে, এর দশ ভাগের এক ভাগ দিয়ে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। অথবা ইউরোপিয়ানরা এক বছর আইসক্রিম খাওয়া থেকে বিরত থাকলে ওই অর্থ বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট হতে পারে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাবে প্রতি বছর ২২ লাখ মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়।

বিবর্তন মানুষকে এগিয়ে দেয়, তেমনি পিছিয়েও দেয়। না, আমি কুকুর প্রেমের বিরুদ্ধে বলছি না; কিন্তু বিশ্বে এখনো যে কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে আছে, সে কথা ভাববে কে? আর এ জন্যই সৌদি রাজতন্ত্রের ওপর মানুষ যেমনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে, তেমনি মার্কিনি গণতন্ত্রও বিতর্কিত হচ্ছে।

বিশ্বে পানি সংকট একটি বিরাট বিষয়। অনেক দেশেই মানুষ কোনো না কোনোভাবে দূষিত পানি ব্যবহার করে চলেছে। মানবাধিকার এবং গণহিতৈষীপূর্ণ যত বড় বড় বুলি আওড়ানোই হোক না কেন, বিশ্বের নিতান্ত গরিব মানুষগুলোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতটা উদার? একুশ শতকে এসেও এর সঠিক জবাব খুঁজে পাওয়া যায়নি। যায়নি কারণ, যুক্তরাষ্ট্র কিছু কিছু ব্যাপারে এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না।

সাংবাদিক ও কলাম লেখক, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন