স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব এসেছিলাম, কিন্তু...
jugantor
স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব এসেছিলাম, কিন্তু...

  ফয়সাল আহমাদ  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পর্ব...

স্বপ্ন দেখা মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে। আমারও স্বপ্নের একটা অংশ বিদেশে যাওয়া, হজ করা। সৌদি আরব এসেছি প্রায় মাসখানেক হয়ে গেছে। যিনি নিয়ে এসেছেন তিনি একজন হাফেজ ও মৌলভীও বটে। তার নাম হৃদয়। তিনি আমার পাশের এলাকার বাসিন্দা। চার বছর ধরে সৌদি আরব থাকেন বিধায় তাকেই বেছে নিলাম পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার আশায়। প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই তার সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা ও সখ্য গড়ে ওঠে। সেই সখ্য থেকে বিদেশে আসার পরিকল্পনা শুরু হয়। এমন কী পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিদেশে আসা পর্যন্ত প্রতিটি কাজ তার নির্দেশনায় করি। তিনি অরিজিনাল চকলেট ফ্যাক্টরির ভিসা দিবেন বলে আশ্বাস দিলেন।

তার আশ্বাসে সাড়া দিয়ে চার লাখ টাকা আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিই। অবশেষে আমার চাচা মাস্টার মাসুক মিয়া তাকে পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞেস করলেন, চকলেট ফ্যাক্টরি কিনা। তখনও তিনি বলেছেন-বিশ্বাস রাখেন, টেনশনের কোনো কারণ নেই; অরিজিনাল চকলেট ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। আমার চাচাও তার কথায় শতভাগ বিশ্বাস রেখে বিদেশ নামক পথচলার গতি বাড়িয়ে দিলেন। এদিকে হৃদয় ভাইয়ের কথামতো সময়ে সময়ে তার এজেন্সিকে টাকা দিয়েছি। কখনো পঞ্চাশ হাজার, কখনো এক লাখ দিয়ে সব টাকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিশোধ করা হলো। আমিও বিদেশের আসবাবপত্র, পোশাক আশাক ক্রয় করে নিই। সবশেষে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠলে বাড়িতে সৃষ্টি হলো স্বজনদের এক অসাধারণ মিলনমেলা। পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে মাস্টার চাচাকে নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা হলাম। এজেন্সি থেকে কাগজপত্র বুঝে নিতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহার ও নাকানি-চুবানি খাওয়ার পর এয়ারপোর্টে আসি।

সৌদি আরব আসার পর...

সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ এয়ারপোর্ট থেকে এক ড্রাইভার রিয়াদস্থ মালাজ শহরের এক বাসায় নিয়ে এলো। হৃদয় ভাই থাকেন সৌদির ‘আল বিসা’ শহরে। এখান থেকে বহুদূরে। কিছুদিন পর জানলাম, এটা একটা সাপ্লাই কোম্পানি। আর সাপ্লাই কোম্পানির বৈশিষ্ট্যই হলো, লোকজনকে অন্য কোথাও চড়া দামে বিক্রি করে নিজেরা ফায়দা লুটে নেওয়া; যেখানে কাজ করলে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায় না, শুধুই হতাশার চাদরে আবৃত থাকতে হয়। এদিকে আসার পর থেকেই নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে খাবার কিনে খাচ্ছি। হৃদয় ভাইকে ফোন দিলে শুধু কাজের আশ্বাস দেয়। এভাবে মাসখানেক অতিবাহিত হয়ে গেল, কাজের কোনো সন্ধানই পেলাম না। হৃদয় ভাইয়ের মুখরোচক কথাবার্তার পুরো বিপরীত চিত্র দেখতে পাচ্ছি।

আজ অবধি কোনো কাজ পাইনি। হৃদয় ভাইকে ফোন দিলে সে উলটো ধমকের স্বরে কথা বলে। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে ইশারা-ইঙ্গিতে লেখালেখি করে যাচ্ছে-উপকারীর ঘাড়ে লাথি, মানুষের উপকার করতে নেই ইত্যাদি। অথচ তিনি আমাকে বিদেশে এনে কাজ তো দূরের কথা, বিশ্বাসঘাতকতা করে টাকা-পয়সা সব পকেটে ঢুকালেন। এজন্যই মানুষ বলে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। চোর চুরি করে আবার ভালো সাজার জন্য হইচই করে বেড়ায়। হৃদয়ের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র নামান্তর। মানুষরূপী জানোয়ার বললেও ভুল হবে না। ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ নিয়ে একজন তরুণ কবি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন-

মন্দ কাজে দক্ষ যারা/সাধু সেজে বাইরে তারা/পরের ক্ষতি করে।

চুরি করা তাদের পেশা/নিত্য তারা করে নেশা/চলে গর্ব ভরে।

মুখে তারা সমাজসেবক/খাচ্ছে সদা গরিবের হক

লম্বা কথা বলে/কালো টাকায় পকেট ভরে

সোনা রূপা জমায় ঘরে/গায়ের জোরে চলে...

সৌদি আরব

স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব এসেছিলাম, কিন্তু...

 ফয়সাল আহমাদ 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পর্ব...

স্বপ্ন দেখা মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে। আমারও স্বপ্নের একটা অংশ বিদেশে যাওয়া, হজ করা। সৌদি আরব এসেছি প্রায় মাসখানেক হয়ে গেছে। যিনি নিয়ে এসেছেন তিনি একজন হাফেজ ও মৌলভীও বটে। তার নাম হৃদয়। তিনি আমার পাশের এলাকার বাসিন্দা। চার বছর ধরে সৌদি আরব থাকেন বিধায় তাকেই বেছে নিলাম পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার আশায়। প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই তার সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা ও সখ্য গড়ে ওঠে। সেই সখ্য থেকে বিদেশে আসার পরিকল্পনা শুরু হয়। এমন কী পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিদেশে আসা পর্যন্ত প্রতিটি কাজ তার নির্দেশনায় করি। তিনি অরিজিনাল চকলেট ফ্যাক্টরির ভিসা দিবেন বলে আশ্বাস দিলেন।

তার আশ্বাসে সাড়া দিয়ে চার লাখ টাকা আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিই। অবশেষে আমার চাচা মাস্টার মাসুক মিয়া তাকে পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞেস করলেন, চকলেট ফ্যাক্টরি কিনা। তখনও তিনি বলেছেন-বিশ্বাস রাখেন, টেনশনের কোনো কারণ নেই; অরিজিনাল চকলেট ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। আমার চাচাও তার কথায় শতভাগ বিশ্বাস রেখে বিদেশ নামক পথচলার গতি বাড়িয়ে দিলেন। এদিকে হৃদয় ভাইয়ের কথামতো সময়ে সময়ে তার এজেন্সিকে টাকা দিয়েছি। কখনো পঞ্চাশ হাজার, কখনো এক লাখ দিয়ে সব টাকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিশোধ করা হলো। আমিও বিদেশের আসবাবপত্র, পোশাক আশাক ক্রয় করে নিই। সবশেষে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠলে বাড়িতে সৃষ্টি হলো স্বজনদের এক অসাধারণ মিলনমেলা। পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে মাস্টার চাচাকে নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা হলাম। এজেন্সি থেকে কাগজপত্র বুঝে নিতে গিয়ে চরম দুর্ব্যবহার ও নাকানি-চুবানি খাওয়ার পর এয়ারপোর্টে আসি।

সৌদি আরব আসার পর...

সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ এয়ারপোর্ট থেকে এক ড্রাইভার রিয়াদস্থ মালাজ শহরের এক বাসায় নিয়ে এলো। হৃদয় ভাই থাকেন সৌদির ‘আল বিসা’ শহরে। এখান থেকে বহুদূরে। কিছুদিন পর জানলাম, এটা একটা সাপ্লাই কোম্পানি। আর সাপ্লাই কোম্পানির বৈশিষ্ট্যই হলো, লোকজনকে অন্য কোথাও চড়া দামে বিক্রি করে নিজেরা ফায়দা লুটে নেওয়া; যেখানে কাজ করলে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায় না, শুধুই হতাশার চাদরে আবৃত থাকতে হয়। এদিকে আসার পর থেকেই নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে খাবার কিনে খাচ্ছি। হৃদয় ভাইকে ফোন দিলে শুধু কাজের আশ্বাস দেয়। এভাবে মাসখানেক অতিবাহিত হয়ে গেল, কাজের কোনো সন্ধানই পেলাম না। হৃদয় ভাইয়ের মুখরোচক কথাবার্তার পুরো বিপরীত চিত্র দেখতে পাচ্ছি।

আজ অবধি কোনো কাজ পাইনি। হৃদয় ভাইকে ফোন দিলে সে উলটো ধমকের স্বরে কথা বলে। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে ইশারা-ইঙ্গিতে লেখালেখি করে যাচ্ছে-উপকারীর ঘাড়ে লাথি, মানুষের উপকার করতে নেই ইত্যাদি। অথচ তিনি আমাকে বিদেশে এনে কাজ তো দূরের কথা, বিশ্বাসঘাতকতা করে টাকা-পয়সা সব পকেটে ঢুকালেন। এজন্যই মানুষ বলে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। চোর চুরি করে আবার ভালো সাজার জন্য হইচই করে বেড়ায়। হৃদয়ের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র নামান্তর। মানুষরূপী জানোয়ার বললেও ভুল হবে না। ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ নিয়ে একজন তরুণ কবি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন-

মন্দ কাজে দক্ষ যারা/সাধু সেজে বাইরে তারা/পরের ক্ষতি করে।

চুরি করা তাদের পেশা/নিত্য তারা করে নেশা/চলে গর্ব ভরে।

মুখে তারা সমাজসেবক/খাচ্ছে সদা গরিবের হক

লম্বা কথা বলে/কালো টাকায় পকেট ভরে

সোনা রূপা জমায় ঘরে/গায়ের জোরে চলে...

সৌদি আরব

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন