গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য কমাতে হবে
jugantor
গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য কমাতে হবে

  মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘গ্রাম হবে শহর’-এটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকার। আমরা জানি, বাংলাদেশে গ্রামীণ ও নগর এ দুই স্তরের স্থানীয় সরকার বিদ্যমান রয়েছে। নগর স্তরে রয়েছে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। গ্রামীণ স্তরে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ; যদিও জেলা পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের আওতায় পড়ে না। এ ছাড়া গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের মাঝে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য এবং স্থানীয় সরকারকে অধিকতর শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার আইন ও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সংশোধনী প্রস্তাবে গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শহরের সেবাগুলো গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকারে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য দূর করে যুগোপযোগী করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি-

১. উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং জেলার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন সমন্বয় করার সক্ষমতা প্রদান করা।

২. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের আইন ও বিধিতে সামঞ্জস্য রক্ষা করা।

৩. আয়তন ও জনসংখ্যা অনুপাতে উভয় (গ্রামীণ ও নগর) স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ বণ্টন করা।

৪. আইন অনুযায়ী হস্তান্তরযোগ্য সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয় সরকারে হস্তান্তর নিশ্চিত করা।

৫. সমন্বয়ের স্বার্থে অন্যান্য স্থানীয় সরকারের ন্যায় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা।

৬. উভয় (গ্রামীণ ও নগর) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সমহারে জনবল নিয়োগ প্রদান করা।

৭. কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের ন্যায় স্থানীয় সরকারের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা।

৮. স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহিত করা।

৯. কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা।

১০. স্থানীয় সরকারে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ পৃথক করা।

১১. নিম্ন ঊর্ধ্বমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।

১২. গ্রামে কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পকারখানা তৈরিতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা ইত্যাদি।

স্থানীয় সরকারের মেয়াদান্তে প্রশাসক নিয়োগ, সচিব পদবি পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধি বৃদ্ধি করে সরকার স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা অবশ্যই দূর করতে পারবে; কিন্তু গ্রামীণ জনগণের সেবার মান বৃদ্ধি করতে সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন, স্থানীয় সরকারগুলোর নিজস্ব আয়ের খাত বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

ইউপি সচিব, জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য কমাতে হবে

 মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘গ্রাম হবে শহর’-এটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকার। আমরা জানি, বাংলাদেশে গ্রামীণ ও নগর এ দুই স্তরের স্থানীয় সরকার বিদ্যমান রয়েছে। নগর স্তরে রয়েছে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। গ্রামীণ স্তরে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ; যদিও জেলা পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের আওতায় পড়ে না। এ ছাড়া গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের মাঝে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য এবং স্থানীয় সরকারকে অধিকতর শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার আইন ও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু সংশোধনী প্রস্তাবে গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য দূর করার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শহরের সেবাগুলো গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকারে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। গ্রামীণ ও নগর স্থানীয় সরকারের বৈষম্য দূর করে যুগোপযোগী করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি-

১. উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং জেলার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন সমন্বয় করার সক্ষমতা প্রদান করা।

২. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের আইন ও বিধিতে সামঞ্জস্য রক্ষা করা।

৩. আয়তন ও জনসংখ্যা অনুপাতে উভয় (গ্রামীণ ও নগর) স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ বণ্টন করা।

৪. আইন অনুযায়ী হস্তান্তরযোগ্য সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয় সরকারে হস্তান্তর নিশ্চিত করা।

৫. সমন্বয়ের স্বার্থে অন্যান্য স্থানীয় সরকারের ন্যায় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা।

৬. উভয় (গ্রামীণ ও নগর) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সমহারে জনবল নিয়োগ প্রদান করা।

৭. কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের ন্যায় স্থানীয় সরকারের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান নিশ্চিত করা।

৮. স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহিত করা।

৯. কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা।

১০. স্থানীয় সরকারে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ পৃথক করা।

১১. নিম্ন ঊর্ধ্বমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।

১২. গ্রামে কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পকারখানা তৈরিতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা ইত্যাদি।

স্থানীয় সরকারের মেয়াদান্তে প্রশাসক নিয়োগ, সচিব পদবি পরিবর্তন এবং জেলা পরিষদের প্রতিনিধি বৃদ্ধি করে সরকার স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা অবশ্যই দূর করতে পারবে; কিন্তু গ্রামীণ জনগণের সেবার মান বৃদ্ধি করতে সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টন, স্থানীয় সরকারগুলোর নিজস্ব আয়ের খাত বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

ইউপি সচিব, জাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন