পাহাড়ে আর কত মৃত্যু?

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তাজওয়ার হোসেন

গতবছর কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে অন্তত ১৩০ জন নিহত হয়েছিলেন। এর আগে ২০০৭ সালে মারা গিয়েছিলেন ১২৭ জন। দুঃখজনক হল, বিয়োগান্তক এসব ঘটনা কারও মনে রেখাপাত করেনি। যদি করত, তাহলে গত সোমবার পাহাড় কাটতে গিয়ে তিন শ্রমিককে মৃত্যুবরণ করতে হতো না। পাহাড় ধসে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়াতে প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেয়া হলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দলের নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা নগরীর অধিকাংশ পাহাড় দখল করে এর পাদদেশে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে তুলে ভাড়া ও দখলস্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পাহাড় ধসের জন্য দায়ী মূলত অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও প্রভাবশালীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্বিঘেœ এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে পাহাড়ে বসবাসরতদের অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করে। ঘূর্ণিঝড় বা বৃষ্টিপাতজনিত কারণে ২০১৭ অথবা ২০০৭ সালের মতো আরও একটি ট্র্যাজেডি ঘটার আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। এ অবস্থায় পাহাড় কাটা রোধসহ ‘মৃত্যুকূপে’ বসবাসকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও পুনর্বাসন করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা উচিত।

২০০৭ সালের মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পাহাড় ধসের ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করেছিল, যা আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে। পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিক না হলে আমাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে সে দায় শোধ করতে হবে। কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেআইনিভাবে পাহাড় কাটা রোধ ও পাহাড়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

শিক্ষার্থী, ঢাকা