কন্যাসন্তান ও একটি প্রস্তাব

  মেজর মো. ইকবাল হায়দার (অব.) ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাকে অনেকে কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন-

: আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন?

আমি জবাবে বলি-

: আমার দুই মেয়ে।

প্রশ্নকারী সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন করেন-

: আপনার কোনো ছেলে সন্তান নেই?

দুঃখের বিষয় হল, আমার পাশে বসে আছেন- এমন কাউকে একই প্রশ্ন করা হলে, তিনি যদি জবাব দেন যে, আমার দুই পুত্র সন্তান রয়েছে; তাহলে প্রশ্নকারী তাকে ‘আপনার কোনো কন্যাসন্তান নেই’ এমন প্রশ্ন করেন না! আমি আমার দুই কন্যাসন্তানকে সুশিক্ষিত করতে পেরেছি। বড় মেয়ে আইন শাস্ত্রে অনার্স পাস করে মাস্টার্স শেষ করেছে। দ্বিতীয় মেয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) হতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ পাস করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছে। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। আমাদের গ্রামে মিয়াচাঁন নামে এক ব্যক্তির ৯ কন্যাসন্তান রয়েছে। একটি পুত্র সন্তানের আশায় ৯ কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়া চরম বোকামির কাজ হয়েছে বলে আমি মনে করি। অনেকে পুত্র সন্তানের জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করে থাকেন, এমনকি এজন্য প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েও থাকেন।

সমাজের বিত্তবানদের জন্য কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত ও পাত্রস্থ করা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু দরিদ্র মা-বাবার জন্য কন্যাসন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে উপযুক্ত পাত্রের কাছে বিবাহ দেয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এসব পরিবারের অনেক কন্যাসন্তান বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। আমার মাথায় দীর্ঘদিন যাবত একটি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল- ‘কন্যাসন্তান জনক/জননী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা। দেশের গরিব বাবা-মা’র কন্যাসন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে পুনর্বাসন করা তথা শিক্ষিত কর্মক্ষম উপযুক্ত পাত্রের কাছে বিয়ের ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে এ কল্যাণ ট্রাস্টের মুখ্য উদ্দেশ্য। এছাড়া কন্যা সন্তানদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বৃত্তি প্রদানসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অংশ গ্রহণ করা। কল্যাণ ট্রাস্টের জনক-জননীরা ট্রাস্টের সাধারণ সদস্য থাকবেন।

যেহেতু কল্যাণ ট্রাস্ট হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সেহেতু সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, যারা কন্যাসন্তানের জনক-জননী, তারা সবাই ট্রাস্টের সাধারণ সদস্য হতে পারবেন। যেসব ব্যক্তির পুত্র সন্তান রয়েছে, তাদের বিয়ের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট উপযুক্ত পাত্রী প্রদানের ব্যবস্থা করবে। তবে পাত্রও উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এর ফলে অযথা সময় নষ্ট করে ছেলেদের জন্য যেখানে সেখানে পাত্রী খোঁজার প্রয়োজন হবে না।

কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে ঝাড়ুদার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ট্রাস্টের জনক-জননীর সন্তানদের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য শুধু নারীরাই কর্মরত থাকবেন। কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে। ট্রাস্টের কার্যক্রম বিদেশেও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রথমে সার্কভুক্ত দেশগুলোয় কার্যক্রম চালু করা হবে। ট্রাস্টি বোর্ড কল্যাণ ট্রাস্টের সার্বিক নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সরকারি অনুদান, বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য, সব সদস্যের কাছ থেকে নির্ধারিত চাঁদা এবং অন্য কোনো উপায়ে কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল গঠন করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন বেগবান করার উদ্দেশ্যে আমার উপরোক্ত চিন্তাধারা বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি। আশা করি আমার এ মহতী উদ্যোগকে দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানাবে এবং কন্যাসন্তানের জনক-জননীরা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাড়া দেবেন। আগ্রহীরা প্রয়োজনে আমার মোবাইল ফোনে (০১৭৬৫-৮৮০১৮৮) যোগাযোগ করতে পারেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও লেখক

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.