এ অপমৃত্যুর দায় নেবে না কেউ
jugantor
এ অপমৃত্যুর দায় নেবে না কেউ

  নাফিউর রহমান  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহনন করেছে, সে আমার সহপাঠী ছিল। শান্ত, কিছুটা চাপা স্বভাবের। মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁকে তাকে কখনো হতাশ মনে হয়নি। পড়াশোনার পাশাপাশি একটু-আধটু ছবি আঁকত। করোনার ঘরবন্দি সময়ে ছবি একে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিত। করোনা-পরবর্তী সময়ে আমাদের অনেক সহপাঠীর মধ্যেই হতাশা দেখতে পেতাম। অমিত আমাদের সঙ্গে রিপিটার হিসাবে যোগ দেওয়ায় তার হতাশা হয়তো একটু বেশি ছিল। সে যেদিন মারা যায়, সেদিন মঙ্গলবার। ওইদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

করোনায় ঘরবন্দি জীবনের যে হতাশা, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী। সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা যায়, গত এক বছরে ১০১ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। দৈনিক পত্রিকা ও আঁচলের হিসাব অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আত্মহনন করেছে সবচেয়ে বেশি। রিপোর্ট অনুযায়ী, আত্মহত্যা করা ১০১ জনের মধ্যে ৬২ জনই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজ ও অনার্স লেভেলের ১২ শিক্ষার্থী, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ জন।

উদ্বেগজনক হলো, শিক্ষার্থীদের আত্মহননের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে; অথচ সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন কোনো খেয়াল নেই। মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে নেই কোনো উদ্যোগ। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে ইমার্জেন্সি ডাক্তার নেই। করোনা পরবর্তী সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাউন্সেলিং দরকার। অথচ এজন্য নেই কোনো কাউন্সেলিং সেন্টার অথবা থাকলেও অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। প্রতিবছর নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্রমাগত নিম্নমুখী। আর কত তরুণ প্রাণ চলে গেলে তবে আমাদের বিদ্যাপীঠগুলো এ বিষয়ে মনোযোগ দেবে?

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ অপমৃত্যুর দায় নেবে না কেউ

 নাফিউর রহমান 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থী হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহনন করেছে, সে আমার সহপাঠী ছিল। শান্ত, কিছুটা চাপা স্বভাবের। মোটা ফ্রেমের চশমার ফাঁকে তাকে কখনো হতাশ মনে হয়নি। পড়াশোনার পাশাপাশি একটু-আধটু ছবি আঁকত। করোনার ঘরবন্দি সময়ে ছবি একে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিত। করোনা-পরবর্তী সময়ে আমাদের অনেক সহপাঠীর মধ্যেই হতাশা দেখতে পেতাম। অমিত আমাদের সঙ্গে রিপিটার হিসাবে যোগ দেওয়ায় তার হতাশা হয়তো একটু বেশি ছিল। সে যেদিন মারা যায়, সেদিন মঙ্গলবার। ওইদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

করোনায় ঘরবন্দি জীবনের যে হতাশা, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেক শিক্ষার্থী। সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা যায়, গত এক বছরে ১০১ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। দৈনিক পত্রিকা ও আঁচলের হিসাব অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আত্মহনন করেছে সবচেয়ে বেশি। রিপোর্ট অনুযায়ী, আত্মহত্যা করা ১০১ জনের মধ্যে ৬২ জনই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজ ও অনার্স লেভেলের ১২ শিক্ষার্থী, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩ জন।

উদ্বেগজনক হলো, শিক্ষার্থীদের আত্মহননের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে; অথচ সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে তেমন কোনো খেয়াল নেই। মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে নেই কোনো উদ্যোগ। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলে ইমার্জেন্সি ডাক্তার নেই। করোনা পরবর্তী সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাউন্সেলিং দরকার। অথচ এজন্য নেই কোনো কাউন্সেলিং সেন্টার অথবা থাকলেও অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। প্রতিবছর নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্রমাগত নিম্নমুখী। আর কত তরুণ প্রাণ চলে গেলে তবে আমাদের বিদ্যাপীঠগুলো এ বিষয়ে মনোযোগ দেবে?

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন