বিনোদনকেন্দ্রগুলো কবে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে?
jugantor
বিনোদনকেন্দ্রগুলো কবে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে?

  সাইফুল ইসলাম তানভীর  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ঈদুল ফিতরের পরদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে শিশু ছিল চারজন। আমরা সেদিন মিরপুর চিড়িয়াখানার গেটের কিছুটা কাছে যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। ভয়ানক এক পরিবেশ ছিল সেখানে। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়েছিল। প্রচণ্ড গরম এবং ওখানকার ব্যবসায়ীদের আচরণ মিলিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা সেদিন চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হইনি। ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। গাড়িওয়ালাদের ভাবটা সেদিন ছিল দস্যু বাহিনীর মতো। সাধারণ সহজ-সরল নাগরিকদের পকেট থেকে গাড়িওয়ালারা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করেছে।

দেশের অনেকেই জানেন, চিড়িয়াখানার আশপাশের দোকানগুলো যেন ডাকাতের আস্তানা! এ দোকানদারদের রয়েছে ভয়ানক সিন্ডিকেট। এরা একশ টাকার পণ্য দিয়ে জোর করে এক হাজার টাকাও আদায় করে নেয়। এটা কি ভাবা যায়? একটি স্বাধীন দেশে যেখানে পুলিশ প্রশাসনসহ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা অনেক বড় বড় ইনস্টিটিউশন রয়েছে, সেখানে এরকম ডাকাত-সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট থাকে কী করে!

মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পেরেছি, ঈদের দিন বিকালে ৩৫ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় গেছেন। ঈদের পরদিন টিকিট নিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। এর পরের দিনও এক লাখ লোকের অধিক প্রবেশ করেছে। আমরা যেদিন গেলাম, সেদিন যেন পা রাখার জায়গা ছিল না। চিড়িয়াখানার এমন ভিড় নিয়ে দেশের বড় বড় জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিউজ করেছে। পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে লাখ লাখ লোকের ভিড়ের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। ঈদের পরের দিন অতিরিক্ত ভিড়ে ৭০ জন শিশু হারিয়ে গিয়েছিল। পরে চিড়িয়াখানার কর্মচারীদের বিশেষ সহযোগিতায় তাদের খুঁজে পাওয়া গেছে।

এবার ঈদে ঢাকা থেকে এক কোটি মানুষ গ্রামে গেছে। ঢাকার রাস্তা ছিল ফাঁকা। কিন্তু তারপরও ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল সাংঘাতিক রকমের। আমাদের স্বাধীনতার বয়স একান্ন। অথচ এখনো পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠিত অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় আমাদের। এটা বড় লজ্জার বিষয়। যেমন, মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেছে পাকিস্তান সরকার। তখন বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্র ছিল না। অর্থাৎ তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাদের একটি প্রদেশের জনগণের জন্য চিড়িয়াখানার জমি বরাদ্দ দিয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ হওয়ার পর চিড়িয়াখানা চালু হয়। এখন স্বাধীন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় উনিশ কোটি। এত বিশাল জনসংখ্যার দেশের জন্য কি মিরপুরের একটি চিড়িয়াখানায় চলে?

আমাদের তো কয়েক কোটি শিশু আছে। ঢাকার বাইরে যে কয়টা চিড়িয়াখানা আছে, সেগুলো খুব ছোট। সেখানে পশুপাখির সংখ্যাও কম। চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা, সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মিনি চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখেছি, সেখানেও অনেক অনিয়ম। চিড়িয়াখানার পশু পাখিগুলোর অধিকাংশই রুগ্ন এবং দুর্বল। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য পঞ্চাশ টাকা করে শিশুদের কাছ থেকেও নেওয়া হয়। এত আয়-রোজগারের পরও চিড়িয়াখানার পশুপাখি রুগ্ণ থাকে কিভাবে? ছোটবেলা থেকেই আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানার অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে আসছি। অভিযোগ এবং পরামর্শও লিখে দিয়েছি চিড়িয়াখানার বিশেষ বাক্সে; কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখছি না। জাতীয় উদ্যান, সেখানেও অনিয়ম-দুর্নীতি। সেখানে গেটের ভিতরেই ফকিরকে শব্দদূষণ করে ভিক্ষা করতে দেখেছি। মসজিদ-মাদ্রাসার নামে সেখানে মাইক লাগিয়ে শব্দদূষণ করে চাঁদাবাজি করতে দেখেছি।

এবার ঈদে দেশের প্রায় সব বিনোদনকেন্দ্রে অনেক ভিড় ছিল। আমরা ঈদের দুদিন পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে গেলাম। দেখলাম, সেখানে প্রচুর লোকজন ভিড় জমিয়েছে। শিশু ও নারীরা সেখানে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ছিল। রাষ্ট্রে সুশাসন থাকলে জনসংখ্যা হিসাব করে পরিবেশসম্মতভাবে সরকার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলত। রোজার মধ্যে ইউরোপের ছোট একটি দেশের রাজপরিবারের সদস্য একজন প্রিন্সেস বাংলাদেশ সফরে এলেন। তিনি সুন্দরবন গেলেন। তার একার নিরাপত্তার কারণে পুরো সুন্দরবনে অন্য পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো! এ ঘটনায় বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ ছোট হয়েছে। এটা লজ্জার বিষয়। আমাদের বিশাল বিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন একজন বিদেশি মেহমানের জন্য পুরো সুন্দরবন এভাবে লক করা হবে! সুন্দরবনের পরিবেশ সেটা তো সাংঘাতিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে বড় বড় গাছ কেটে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে এবার লাখ লাখ পর্যটকের ভিড় ছিল। কক্সবাজারে অনেক ব্যবসায়ীর কাজকর্ম ডাকাতকেও হার মানায়! সেখানে আলু ভর্তার দামও তিনশ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার তুলনায় কক্সবাজারে খরচ বেশি। সেখানে গেলে পর্যটকদের প্রচুর টাকা নিয়ে যেতে হয়। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এর জ্বলন্ত প্রমাণ এবার ঈদের ছুটিতে সিলেটের জাফলং এলাকায় পর্যটকদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা। জাফলংয়ে ঢুকতে টিকিট প্রথা চালু করা হয়েছে। এটা আইন ও সংবিধান বিরোধী।

পর্যটন এলাকাগুলোয় মাদকের বিশাল রমরমা ব্যবসা। এতে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। পর্যটন এলাকাগুলোয় নারীদের দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হয়। অথচ প্রশাসন যেন ঘুমিয়ে! দেশে খেলার মাঠ মারাত্মকভাবে কমেছে। শিশুরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ সুযোগে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র এবং মাঠ তৈরি করে উচ্চমূল্যে ভাড়া দিচ্ছে। আমরা সম্প্রতি মাঠ ভাড়া নিয়ে ফুটবল খেলেছি। একান্ন বছরের পুরনো স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে এসব খুব কষ্টের এবং লজ্জার। আমরা চাই, দেশের সব নাগরিক যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে সব বিনোদনকেন্দ্রে যেতে পারে।

গুলশান, ঢাকা

বিনোদনকেন্দ্রগুলো কবে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে?

 সাইফুল ইসলাম তানভীর 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ঈদুল ফিতরের পরদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে শিশু ছিল চারজন। আমরা সেদিন মিরপুর চিড়িয়াখানার গেটের কিছুটা কাছে যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। ভয়ানক এক পরিবেশ ছিল সেখানে। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়েছিল। প্রচণ্ড গরম এবং ওখানকার ব্যবসায়ীদের আচরণ মিলিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা সেদিন চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হইনি। ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। গাড়িওয়ালাদের ভাবটা সেদিন ছিল দস্যু বাহিনীর মতো। সাধারণ সহজ-সরল নাগরিকদের পকেট থেকে গাড়িওয়ালারা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করেছে।

দেশের অনেকেই জানেন, চিড়িয়াখানার আশপাশের দোকানগুলো যেন ডাকাতের আস্তানা! এ দোকানদারদের রয়েছে ভয়ানক সিন্ডিকেট। এরা একশ টাকার পণ্য দিয়ে জোর করে এক হাজার টাকাও আদায় করে নেয়। এটা কি ভাবা যায়? একটি স্বাধীন দেশে যেখানে পুলিশ প্রশাসনসহ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা অনেক বড় বড় ইনস্টিটিউশন রয়েছে, সেখানে এরকম ডাকাত-সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট থাকে কী করে!

মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পেরেছি, ঈদের দিন বিকালে ৩৫ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় গেছেন। ঈদের পরদিন টিকিট নিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। এর পরের দিনও এক লাখ লোকের অধিক প্রবেশ করেছে। আমরা যেদিন গেলাম, সেদিন যেন পা রাখার জায়গা ছিল না। চিড়িয়াখানার এমন ভিড় নিয়ে দেশের বড় বড় জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিউজ করেছে। পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে লাখ লাখ লোকের ভিড়ের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। ঈদের পরের দিন অতিরিক্ত ভিড়ে ৭০ জন শিশু হারিয়ে গিয়েছিল। পরে চিড়িয়াখানার কর্মচারীদের বিশেষ সহযোগিতায় তাদের খুঁজে পাওয়া গেছে।

এবার ঈদে ঢাকা থেকে এক কোটি মানুষ গ্রামে গেছে। ঢাকার রাস্তা ছিল ফাঁকা। কিন্তু তারপরও ঢাকার বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় ছিল সাংঘাতিক রকমের। আমাদের স্বাধীনতার বয়স একান্ন। অথচ এখনো পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠিত অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় আমাদের। এটা বড় লজ্জার বিষয়। যেমন, মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেছে পাকিস্তান সরকার। তখন বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্র ছিল না। অর্থাৎ তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাদের একটি প্রদেশের জনগণের জন্য চিড়িয়াখানার জমি বরাদ্দ দিয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ হওয়ার পর চিড়িয়াখানা চালু হয়। এখন স্বাধীন বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় উনিশ কোটি। এত বিশাল জনসংখ্যার দেশের জন্য কি মিরপুরের একটি চিড়িয়াখানায় চলে?

আমাদের তো কয়েক কোটি শিশু আছে। ঢাকার বাইরে যে কয়টা চিড়িয়াখানা আছে, সেগুলো খুব ছোট। সেখানে পশুপাখির সংখ্যাও কম। চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানা, সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মিনি চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখেছি, সেখানেও অনেক অনিয়ম। চিড়িয়াখানার পশু পাখিগুলোর অধিকাংশই রুগ্ন এবং দুর্বল। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য পঞ্চাশ টাকা করে শিশুদের কাছ থেকেও নেওয়া হয়। এত আয়-রোজগারের পরও চিড়িয়াখানার পশুপাখি রুগ্ণ থাকে কিভাবে? ছোটবেলা থেকেই আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানার অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে আসছি। অভিযোগ এবং পরামর্শও লিখে দিয়েছি চিড়িয়াখানার বিশেষ বাক্সে; কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখছি না। জাতীয় উদ্যান, সেখানেও অনিয়ম-দুর্নীতি। সেখানে গেটের ভিতরেই ফকিরকে শব্দদূষণ করে ভিক্ষা করতে দেখেছি। মসজিদ-মাদ্রাসার নামে সেখানে মাইক লাগিয়ে শব্দদূষণ করে চাঁদাবাজি করতে দেখেছি।

এবার ঈদে দেশের প্রায় সব বিনোদনকেন্দ্রে অনেক ভিড় ছিল। আমরা ঈদের দুদিন পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে গেলাম। দেখলাম, সেখানে প্রচুর লোকজন ভিড় জমিয়েছে। শিশু ও নারীরা সেখানে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে ছিল। রাষ্ট্রে সুশাসন থাকলে জনসংখ্যা হিসাব করে পরিবেশসম্মতভাবে সরকার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলত। রোজার মধ্যে ইউরোপের ছোট একটি দেশের রাজপরিবারের সদস্য একজন প্রিন্সেস বাংলাদেশ সফরে এলেন। তিনি সুন্দরবন গেলেন। তার একার নিরাপত্তার কারণে পুরো সুন্দরবনে অন্য পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো! এ ঘটনায় বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ ছোট হয়েছে। এটা লজ্জার বিষয়। আমাদের বিশাল বিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন একজন বিদেশি মেহমানের জন্য পুরো সুন্দরবন এভাবে লক করা হবে! সুন্দরবনের পরিবেশ সেটা তো সাংঘাতিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে বড় বড় গাছ কেটে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে এবার লাখ লাখ পর্যটকের ভিড় ছিল। কক্সবাজারে অনেক ব্যবসায়ীর কাজকর্ম ডাকাতকেও হার মানায়! সেখানে আলু ভর্তার দামও তিনশ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল, শ্রীলংকার তুলনায় কক্সবাজারে খরচ বেশি। সেখানে গেলে পর্যটকদের প্রচুর টাকা নিয়ে যেতে হয়। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এর জ্বলন্ত প্রমাণ এবার ঈদের ছুটিতে সিলেটের জাফলং এলাকায় পর্যটকদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা। জাফলংয়ে ঢুকতে টিকিট প্রথা চালু করা হয়েছে। এটা আইন ও সংবিধান বিরোধী।

পর্যটন এলাকাগুলোয় মাদকের বিশাল রমরমা ব্যবসা। এতে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। পর্যটন এলাকাগুলোয় নারীদের দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হয়। অথচ প্রশাসন যেন ঘুমিয়ে! দেশে খেলার মাঠ মারাত্মকভাবে কমেছে। শিশুরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ সুযোগে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র এবং মাঠ তৈরি করে উচ্চমূল্যে ভাড়া দিচ্ছে। আমরা সম্প্রতি মাঠ ভাড়া নিয়ে ফুটবল খেলেছি। একান্ন বছরের পুরনো স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে এসব খুব কষ্টের এবং লজ্জার। আমরা চাই, দেশের সব নাগরিক যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে সব বিনোদনকেন্দ্রে যেতে পারে।

গুলশান, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন