মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে
jugantor
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে

   

১৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমে আমার শ্রদ্ধাস্পদ সালাম রইল। বোন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোর্শেদ আলমের (দিল্লির মোল্লা) অশীতিপর মৃত্যু পথযাত্রী বিধবা স্ত্রী মমতাজ বেগম। আমার বাড়ি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানার বানারীপাড়া গ্রামে অবস্থিত। আমার স্বামী আপনার পিতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০১১ সালে ১৬ জানুয়ারি মারা যান। আপনার দ্বাদশ বছরের ঊর্ধ্বকালের সুশাসনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলাম (আলহামদুলিল্লাহ)। হঠাৎ করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির তৎপরতায় আমার ও পরিবারের ওপর ঘোর অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। বোন, আমার জীবনের অসহায়ত্বের কথা বলতেই আপনাকে এ চিঠি লিখলাম। আপনার পিতার সৃষ্ট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে নির্বাচিত ও অনুমোদিত স্থান বাদ দিয়ে আমার ষাট বছরের ঊর্ধ্বকাল ধরে ভোগ দখলীয় বসতবাড়িতে তা স্থাপনের জন্য ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। এটি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষৎ করে আপনার দোহাই দিয়ে (কাউকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না) আবেদন করলে তিনি (জেলা প্রশাসক) ও মডেল মসজিদ বাস্তবায়নকারী আঞ্চলিক প্রধানরা এবং গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে আপনার দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে নেতিবাচক প্রস্তাব প্রেরণ করেন। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ওই নেতিবাচক প্রস্তাব সহকারে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সমীপে আবেদন করলে তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব মহোদয়কে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের নির্দেশ প্রদান করেন। ওই অতিরিক্ত সচিব মহোদয় প্রস্তাবিত স্থানের চর্তুদিক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করে, আমাকে কোনোরূপ নোটিশ না দিয়ে দায়সারাভাবে বিগত ১৪/১২/২০২১ তারিখে পরিদর্শন সম্পন্ন করার পর স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে প্রতিবেদন প্রদান করেন। ইতঃপূর্বে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রদানকারীরা ইতোমধ্যে বদলি হওয়ার সুযোগে স্বার্থান্বেষী মহল আমার বসতবাড়িতে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য আইনকানুন ও বিধিবিধানকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত সংগোপনে পুনরায় প্রস্তাব পেশ করেন। আমার ভোগ দখলীয় ভূমিতে অবস্থিত কয়েকটি আধাপাকা দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে সেই টাকায় সংসার চালাচ্ছি। আমার মৃত স্বামীর অছিয়ত অনুসারে, আমার ভোগদখলীয় বসতবাড়ি থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য জ্যেষ্ঠ কন্যাকে সামান্য জমি দান করলে সে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে এরই মধ্যে অনেক অর্থব্যয় করলেও স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। শোকের মাস আগস্টে মডেল মসজিদ নির্মাণের অজুহাতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও নিপীড়নে ১০/০৮/২০২১ তারিখে আমার পঞ্চাশোর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ পুত্র মৃত্যুবরণ করে। সরকারপ্রধান হিসাবে আপনি নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন, অধিগ্রহণ মানেই সেখানে নানা ফাঁকফোকর ও দুর্নীতির সুযোগ রয়ে যায়। বোন, আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন-আমার পরিবারকে বাঁচান। পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা কাঁধে নিয়ে আপনার কাছে লেখা এ খোলা চিঠি চোখের জলে লিখছি। আশা করি, আপনি আমার পরিবারকে নিরাশ করবেন না।

ইতি

আপনার ভগ্নীতুল্য মমতাজ বেগম

বানারীপাড়া, বরিশাল

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে

  
১৭ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমে আমার শ্রদ্ধাস্পদ সালাম রইল। বোন, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোর্শেদ আলমের (দিল্লির মোল্লা) অশীতিপর মৃত্যু পথযাত্রী বিধবা স্ত্রী মমতাজ বেগম। আমার বাড়ি বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানার বানারীপাড়া গ্রামে অবস্থিত। আমার স্বামী আপনার পিতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০১১ সালে ১৬ জানুয়ারি মারা যান। আপনার দ্বাদশ বছরের ঊর্ধ্বকালের সুশাসনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলাম (আলহামদুলিল্লাহ)। হঠাৎ করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির তৎপরতায় আমার ও পরিবারের ওপর ঘোর অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। বোন, আমার জীবনের অসহায়ত্বের কথা বলতেই আপনাকে এ চিঠি লিখলাম। আপনার পিতার সৃষ্ট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে নির্বাচিত ও অনুমোদিত স্থান বাদ দিয়ে আমার ষাট বছরের ঊর্ধ্বকাল ধরে ভোগ দখলীয় বসতবাড়িতে তা স্থাপনের জন্য ডিও লেটার প্রদান করা হয়েছে। এটি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষৎ করে আপনার দোহাই দিয়ে (কাউকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না) আবেদন করলে তিনি (জেলা প্রশাসক) ও মডেল মসজিদ বাস্তবায়নকারী আঞ্চলিক প্রধানরা এবং গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে আপনার দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে নেতিবাচক প্রস্তাব প্রেরণ করেন। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ওই নেতিবাচক প্রস্তাব সহকারে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সমীপে আবেদন করলে তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব মহোদয়কে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের নির্দেশ প্রদান করেন। ওই অতিরিক্ত সচিব মহোদয় প্রস্তাবিত স্থানের চর্তুদিক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করে, আমাকে কোনোরূপ নোটিশ না দিয়ে দায়সারাভাবে বিগত ১৪/১২/২০২১ তারিখে পরিদর্শন সম্পন্ন করার পর স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে প্রতিবেদন প্রদান করেন। ইতঃপূর্বে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রদানকারীরা ইতোমধ্যে বদলি হওয়ার সুযোগে স্বার্থান্বেষী মহল আমার বসতবাড়িতে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য আইনকানুন ও বিধিবিধানকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত সংগোপনে পুনরায় প্রস্তাব পেশ করেন। আমার ভোগ দখলীয় ভূমিতে অবস্থিত কয়েকটি আধাপাকা দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে সেই টাকায় সংসার চালাচ্ছি। আমার মৃত স্বামীর অছিয়ত অনুসারে, আমার ভোগদখলীয় বসতবাড়ি থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য জ্যেষ্ঠ কন্যাকে সামান্য জমি দান করলে সে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে এরই মধ্যে অনেক অর্থব্যয় করলেও স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। শোকের মাস আগস্টে মডেল মসজিদ নির্মাণের অজুহাতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও নিপীড়নে ১০/০৮/২০২১ তারিখে আমার পঞ্চাশোর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ পুত্র মৃত্যুবরণ করে। সরকারপ্রধান হিসাবে আপনি নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন, অধিগ্রহণ মানেই সেখানে নানা ফাঁকফোকর ও দুর্নীতির সুযোগ রয়ে যায়। বোন, আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন-আমার পরিবারকে বাঁচান। পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা কাঁধে নিয়ে আপনার কাছে লেখা এ খোলা চিঠি চোখের জলে লিখছি। আশা করি, আপনি আমার পরিবারকে নিরাশ করবেন না।

ইতি

আপনার ভগ্নীতুল্য মমতাজ বেগম

বানারীপাড়া, বরিশাল

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন